ঢাকা ০৯:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ এর মাধ্যমে তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনতে চাই:ডিসি রায়হান কবির বন্দরে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক রায়হান কবির সিদ্ধিরগঞ্জে বিশেষ অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ ও চুরির মামলায় ২ জন গ্রেফতার নিউইয়র্কে প্রবাসী মতলব সমিতির নতুন কার্যকরী পরিষদের অভিষেক ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠিত উখিয়ায় বিজিবির অভিযানে ১২০ ক্যান বিয়ারসহ আটক ১ বকেয়া পরিশোধে ব্যর্থতা: বেনাপোল-খুলনা-মোংলা কমিউটার ট্রেনের ইজারা চুক্তি বাতিল ৩ দিন বন্ধের পর বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক হয়েছে, পারাপার হচ্ছেন পাসপোর্টযাত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার : যশোরে সেই শিশুর জন্য পিতা-মাতা বললেন, “স্বপ্নের মতো অনুভূতি” জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মৌলভীবাজার জেলা কারাগার পরিদর্শন যশোরের জনপ্রিয় ফুটবলার থেকে টিটন হয়ে উঠেন শীর্ষ সন্ত্রাসী বাড়িতে ফিরলো মরদেহ

বকেয়া পরিশোধে ব্যর্থতা: বেনাপোল-খুলনা-মোংলা কমিউটার ট্রেনের ইজারা চুক্তি বাতিল

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১৪:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

মনির হোসেন,যশোর জেলা প্রতিনিধি : বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত বেনাপোল-খুলনা রুটে চলাচলকারী বেতনা কমিউটার ও বেনাপোল-মোংলা রুটে চলাচলকারী মোংলা কমিউটার ট্রেনের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। নির্দিস্ট সময়ের মধ্যে ট্রেনের ভাড়া, ভ্যাট ও উৎস করের পাওনা টাকা সময়মতো পরিশোধ করতে না পারায় এ চুক্তি বাতিল করা হয়েছে বলে রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে। গত ২৭ এপ্রিল বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজশাহীর চীফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (পশ্চিম) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ট্রেনটি বেসরকারি খাতে লিজ দিতে রেলওয়ের বর্তমান আয় থেকে বেশি পাওয়া যাবে এই অজুহাতে কিছু অসাধু কর্মকর্তা উঠে পড়ে লেগেছিল। স্টেশনে চেকার স্বল্পতার কারণে টিকেট কাটার কিছুটা সমস্যা হয়। লাভজনক রুটটি বেসরকারি টিকেট ব্যবস্থাপনার জন্য ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল দরপত্র আহ্বান, ১৯ মে দরপত্র খোলা এবং জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে যাচাই-বাছাই শেষে রেলের মূল্যায়ন কমিটিতে পাঠানো হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে ২২ ডিসেম্বর তিন বছরের জন্য কার্যদেশ দেয়া হয় ঢাকার মিরপুর দারুস সালাম রোডের এইচ এন্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে। তারা চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি থেকে নিজেদের ব্যবস্থাপনায় ট্রেনটি চালু করেন।

ওই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ রেলওয়ের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে দুই জোড়া ট্রেন পরিচালনা করে আসছিল। ট্রেনগুলো হলো, বেতনা কমিউটার (৫৩/৫৪): বেনাপোল-খুলনা-বেনাপোল রুটে চলাচলকারী ও মংলা কমিউটার (৯৫/৯৬) : খুলনা-মোংলা-খুলনা রুটে চলাচলকারী।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ওই প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ট্রেনের নির্ধারিত ভাড়া, ভ্যাট এবং উৎস কর পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও বকেয়া টাকা পরিশোধ না করায় চুক্তির ১১ নং ধারা অনুযায়ী রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শর্তভঙ্গের কারণে তিন মাস ১৭ দিন চালানোর পর এইচ এন্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশনের সাথে সম্পাদিত চুক্তিটি মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) হতে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এখন থেকে আবারও সরকারি ব্যবস্থাপনায় ট্রেন দুইটি চলাচল করছে।

বেনাপোল রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার আইনাল হাসান জানিয়েছেন, যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে এবং রাজস্ব ক্ষতি এড়াতে শীঘ্রই এই রুটগুলোতে ট্রেন পরিচালনার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। বেনাপোল-মোংলা এবং মোংলা-বেনাপোল রুটে চলাচলকারী ‘বেতনা কমিউটার’ ও ‘মোংলা কমিউটার’ ট্রেন দুটি আগে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হতো। বেসরকারি কর্তৃপক্ষ সরকারের সাথে চুক্তির শর্তসমূহ যথাযথভাবে পালন না করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ থেকে এই ট্রেন দুটি পুনরায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে। ট্রেন দুটির সাপ্তাহিক ছুটির দিন হিসেবে মঙ্গলবার বহাল থাকবে।

এই পরিবর্তনের ফলে ট্রেনগুলোর সেবার মান এবং ব্যবস্থাপনা সরকারি তদারকিতে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের এই নতুন সিদ্ধান্তের বিষয়ে অবগত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ থাকে যে, ১৯৯৯ সালের ২৩ নভেম্বর এই রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রীবাহী ট্রেন উদ্বোধনের পর ১১ বছর (২০১০ সালের ২৮ জুলাই পর্যন্ত) সরকারি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। পরে বেসরকারি খাতে ‘মেসার্স বান্না এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘ইসলাম শিপ বিল্ডার্স’ চুক্তিবদ্ধ হয়ে এই ট্রেন পরিচালনা করে। বেসরকারি টিকেট ব্যবস্থাপনায় যাত্রীসেবার মান নিম্নমুখী, চোরাকারবারি ও টানাপাটির দখলে চলে গেলে ২০১৩ সালে আবার সরকারি তত্ত্বাবধানে চলে আসে। ট্রেনে বাড়ছে যাত্রী। বেশিরভাগ পাসপোর্ট যাত্রী এ রুটে ভারতে যাতায়াত করেন। লাভজনক ও যাত্রীসেবার মান বাড়িয়ে ২০১৭ সালের ১ মার্চ থেকে এ রুটে দিনে দুইবার যাত্রীবাহী কমিউটার ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ এর মাধ্যমে তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনতে চাই:ডিসি রায়হান কবির

বকেয়া পরিশোধে ব্যর্থতা: বেনাপোল-খুলনা-মোংলা কমিউটার ট্রেনের ইজারা চুক্তি বাতিল

আপডেট সময় : ০৭:১৪:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

মনির হোসেন,যশোর জেলা প্রতিনিধি : বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত বেনাপোল-খুলনা রুটে চলাচলকারী বেতনা কমিউটার ও বেনাপোল-মোংলা রুটে চলাচলকারী মোংলা কমিউটার ট্রেনের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। নির্দিস্ট সময়ের মধ্যে ট্রেনের ভাড়া, ভ্যাট ও উৎস করের পাওনা টাকা সময়মতো পরিশোধ করতে না পারায় এ চুক্তি বাতিল করা হয়েছে বলে রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে। গত ২৭ এপ্রিল বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজশাহীর চীফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (পশ্চিম) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ট্রেনটি বেসরকারি খাতে লিজ দিতে রেলওয়ের বর্তমান আয় থেকে বেশি পাওয়া যাবে এই অজুহাতে কিছু অসাধু কর্মকর্তা উঠে পড়ে লেগেছিল। স্টেশনে চেকার স্বল্পতার কারণে টিকেট কাটার কিছুটা সমস্যা হয়। লাভজনক রুটটি বেসরকারি টিকেট ব্যবস্থাপনার জন্য ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল দরপত্র আহ্বান, ১৯ মে দরপত্র খোলা এবং জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে যাচাই-বাছাই শেষে রেলের মূল্যায়ন কমিটিতে পাঠানো হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে ২২ ডিসেম্বর তিন বছরের জন্য কার্যদেশ দেয়া হয় ঢাকার মিরপুর দারুস সালাম রোডের এইচ এন্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে। তারা চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি থেকে নিজেদের ব্যবস্থাপনায় ট্রেনটি চালু করেন।

ওই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ রেলওয়ের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে দুই জোড়া ট্রেন পরিচালনা করে আসছিল। ট্রেনগুলো হলো, বেতনা কমিউটার (৫৩/৫৪): বেনাপোল-খুলনা-বেনাপোল রুটে চলাচলকারী ও মংলা কমিউটার (৯৫/৯৬) : খুলনা-মোংলা-খুলনা রুটে চলাচলকারী।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ওই প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ট্রেনের নির্ধারিত ভাড়া, ভ্যাট এবং উৎস কর পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও বকেয়া টাকা পরিশোধ না করায় চুক্তির ১১ নং ধারা অনুযায়ী রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শর্তভঙ্গের কারণে তিন মাস ১৭ দিন চালানোর পর এইচ এন্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশনের সাথে সম্পাদিত চুক্তিটি মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) হতে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এখন থেকে আবারও সরকারি ব্যবস্থাপনায় ট্রেন দুইটি চলাচল করছে।

বেনাপোল রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার আইনাল হাসান জানিয়েছেন, যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে এবং রাজস্ব ক্ষতি এড়াতে শীঘ্রই এই রুটগুলোতে ট্রেন পরিচালনার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। বেনাপোল-মোংলা এবং মোংলা-বেনাপোল রুটে চলাচলকারী ‘বেতনা কমিউটার’ ও ‘মোংলা কমিউটার’ ট্রেন দুটি আগে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হতো। বেসরকারি কর্তৃপক্ষ সরকারের সাথে চুক্তির শর্তসমূহ যথাযথভাবে পালন না করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ থেকে এই ট্রেন দুটি পুনরায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে। ট্রেন দুটির সাপ্তাহিক ছুটির দিন হিসেবে মঙ্গলবার বহাল থাকবে।

এই পরিবর্তনের ফলে ট্রেনগুলোর সেবার মান এবং ব্যবস্থাপনা সরকারি তদারকিতে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের এই নতুন সিদ্ধান্তের বিষয়ে অবগত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ থাকে যে, ১৯৯৯ সালের ২৩ নভেম্বর এই রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রীবাহী ট্রেন উদ্বোধনের পর ১১ বছর (২০১০ সালের ২৮ জুলাই পর্যন্ত) সরকারি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। পরে বেসরকারি খাতে ‘মেসার্স বান্না এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘ইসলাম শিপ বিল্ডার্স’ চুক্তিবদ্ধ হয়ে এই ট্রেন পরিচালনা করে। বেসরকারি টিকেট ব্যবস্থাপনায় যাত্রীসেবার মান নিম্নমুখী, চোরাকারবারি ও টানাপাটির দখলে চলে গেলে ২০১৩ সালে আবার সরকারি তত্ত্বাবধানে চলে আসে। ট্রেনে বাড়ছে যাত্রী। বেশিরভাগ পাসপোর্ট যাত্রী এ রুটে ভারতে যাতায়াত করেন। লাভজনক ও যাত্রীসেবার মান বাড়িয়ে ২০১৭ সালের ১ মার্চ থেকে এ রুটে দিনে দুইবার যাত্রীবাহী কমিউটার ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।