ঢাকা ১০:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অতিরিক্ত অধিকাল ভাতার দাবিতে বেনাপোল স্থল বন্দরে মানববন্ধন, এক মাসের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত নরসিংদীর শিবপুরে ভূমি মেলায় বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুঃ আব্দুর রহিম উখিয়ায় বিজিবির দুই অভিযানে বিপুল ইয়াবা উদ্ধার পটিয়ায় গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে আঞ্চলিক তথ্য অফিস (পিআইডি), চট্টগ্রাম এর কার্যক্রম বিষয়ে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত বেনাপোল বন্দরে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রেন থেকে মাদক উদ্ধার, চোরাই পণ্য পাচার হচ্ছে যাত্রীবাহী ট্রেনে নারায়ণগঞ্জে ‘ভূমিসেবা মেলা ২০২৬’ এর উদ্বোধন ঈদুল আজহা ২০২৬ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জামাত আয়োজনে প্রস্তুতিমূলক সভা রামগড় চাষীনগরে উদ্ধার হওয়া শ্যামলী পরিবহন চালকের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর ভূমিসেবা পেতে জনগণকে আর দুর্নীতির শিকার হতে হবে না : প্রধানমন্ত্রী ঈদুল আজহা উপলক্ষে যাতায়াত নিরাপদ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে নারায়ণগঞ্জে বিশেষ সভা

ভয়াল ২৯ এপ্রিল: যে রাত এখনো ঘুম ভাঙায় উপকূলবাসীর মানুষদের

ফরহাদ রহমান,স্টাফ রিপোর্টার কক্সবাজার: উপকূলের মানুষদের কাছে ২৯ এপ্রিল কোনো সাধারণ দিন নয়—এটি এক শোকের দিন, স্মৃতির দিন, আর না ফেরার পথে হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের মনে করার দিন। ১৯৯১ সালের বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড়-এর সেই রাত যেন এখনো বেঁচে আছে মানুষের বুকের ভেতর।

১৯৯১ সালের এই দিনে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ উপকূলজুড়ে নামিয়ে আনে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ। রাতের আঁধারে, কোনো পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই, মুহূর্তেই তছনছ হয়ে যায় হাজারো জনপদ। সরকারি হিসাব বলছে—প্রাণ হারান ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮২ জন। তবে বাস্তব সংখ্যা আরও অনেক বেশি—এমনটাই বিশ্বাস স্থানীয়দের।

“সব হারানোর রাত”

কক্সবাজারের মহেশখালীর ধলঘাটার সুতরিয়া গ্রামের বাসিন্দা আবুল কাশেম (৬৫) এখনো সেই রাতের কথা বলতে গিয়ে থমকে যান।

“ঝড় শুরু হয়েছিল ২৬ এপ্রিল থেকেই। সংকেত বাড়ছিল, কিন্তু আমরা বুঝিনি কী হতে যাচ্ছে। ২৯ এপ্রিল রাতে হঠাৎ ২০ ফুটের মতো জলোচ্ছ্বাস এল… চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেল। বাবা-মা, ভাই-বোন—কেউই বাঁচেনি।”

তার কণ্ঠে এখনও চাপা কান্না। তিন দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই শোক যেন একটুও কমেনি।

সতর্কতা ছিল, প্রস্তুতি ছিল না

সেদিন ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করা হয়েছিল। কিন্তু সচেতনতার অভাব, আশ্রয়কেন্দ্রের স্বল্পতা এবং অভিজ্ঞতার ঘাটতিতে অধিকাংশ মানুষ নিরাপদে যেতে পারেননি। রাত ১০টার পর ১০ থেকে ২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস গ্রাম-গঞ্জ গিলে নেয় মুহূর্তেই।

স্মরণে শোক, বাস্তবে ঝুঁকি

প্রতি বছর ২৯ এপ্রিল উপকূলজুড়ে দোয়া, মিলাদ, আলোচনা সভা ও র‌্যালির মাধ্যমে নিহতদের স্মরণ করা হয়। কিন্তু এই আনুষ্ঠানিকতার আড়ালে থেকে যায় এক কঠিন বাস্তবতা—উপকূল এখনো পুরোপুরি নিরাপদ নয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া, ঈদগাঁও, কক্সবাজার সদর ও টেকনাফের অনেক বেড়িবাঁধ এখনও ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিনিয়ত আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করছেন লাখো মানুষ।

“মানুষ এখন সচেতন”

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান জানান, বর্তমানে জেলায় ৫ শতাধিক ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে।

“আগের তুলনায় মানুষ অনেক সচেতন। সতর্কতা পেলেই তারা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান। ফলে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।”

সামনে চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞদের মতে, আশ্রয়কেন্দ্র বাড়ানো ইতিবাচক হলেও তা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন টেকসই বেড়িবাঁধ, কার্যকর আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা এবং স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত সচেতনতা কার্যক্রম।

শেষ কথা

৩৬ বছর পরও সেই ভয়াল রাত উপকূলবাসীর মনে এক গভীর ক্ষত হয়ে আছে। সময় অনেক কিছু বদলেছে, কিন্তু ২৯ এপ্রিল এলে এখনো বুক কেঁপে ওঠে—কারণ, কিছু স্মৃতি কখনো পুরোনো হয় না।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

অতিরিক্ত অধিকাল ভাতার দাবিতে বেনাপোল স্থল বন্দরে মানববন্ধন, এক মাসের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত

ভয়াল ২৯ এপ্রিল: যে রাত এখনো ঘুম ভাঙায় উপকূলবাসীর মানুষদের

আপডেট সময় : ০২:২৬:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

ফরহাদ রহমান,স্টাফ রিপোর্টার কক্সবাজার: উপকূলের মানুষদের কাছে ২৯ এপ্রিল কোনো সাধারণ দিন নয়—এটি এক শোকের দিন, স্মৃতির দিন, আর না ফেরার পথে হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের মনে করার দিন। ১৯৯১ সালের বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড়-এর সেই রাত যেন এখনো বেঁচে আছে মানুষের বুকের ভেতর।

১৯৯১ সালের এই দিনে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ উপকূলজুড়ে নামিয়ে আনে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ। রাতের আঁধারে, কোনো পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই, মুহূর্তেই তছনছ হয়ে যায় হাজারো জনপদ। সরকারি হিসাব বলছে—প্রাণ হারান ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮২ জন। তবে বাস্তব সংখ্যা আরও অনেক বেশি—এমনটাই বিশ্বাস স্থানীয়দের।

“সব হারানোর রাত”

কক্সবাজারের মহেশখালীর ধলঘাটার সুতরিয়া গ্রামের বাসিন্দা আবুল কাশেম (৬৫) এখনো সেই রাতের কথা বলতে গিয়ে থমকে যান।

“ঝড় শুরু হয়েছিল ২৬ এপ্রিল থেকেই। সংকেত বাড়ছিল, কিন্তু আমরা বুঝিনি কী হতে যাচ্ছে। ২৯ এপ্রিল রাতে হঠাৎ ২০ ফুটের মতো জলোচ্ছ্বাস এল… চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেল। বাবা-মা, ভাই-বোন—কেউই বাঁচেনি।”

তার কণ্ঠে এখনও চাপা কান্না। তিন দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই শোক যেন একটুও কমেনি।

সতর্কতা ছিল, প্রস্তুতি ছিল না

সেদিন ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করা হয়েছিল। কিন্তু সচেতনতার অভাব, আশ্রয়কেন্দ্রের স্বল্পতা এবং অভিজ্ঞতার ঘাটতিতে অধিকাংশ মানুষ নিরাপদে যেতে পারেননি। রাত ১০টার পর ১০ থেকে ২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস গ্রাম-গঞ্জ গিলে নেয় মুহূর্তেই।

স্মরণে শোক, বাস্তবে ঝুঁকি

প্রতি বছর ২৯ এপ্রিল উপকূলজুড়ে দোয়া, মিলাদ, আলোচনা সভা ও র‌্যালির মাধ্যমে নিহতদের স্মরণ করা হয়। কিন্তু এই আনুষ্ঠানিকতার আড়ালে থেকে যায় এক কঠিন বাস্তবতা—উপকূল এখনো পুরোপুরি নিরাপদ নয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া, ঈদগাঁও, কক্সবাজার সদর ও টেকনাফের অনেক বেড়িবাঁধ এখনও ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিনিয়ত আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করছেন লাখো মানুষ।

“মানুষ এখন সচেতন”

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান জানান, বর্তমানে জেলায় ৫ শতাধিক ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে।

“আগের তুলনায় মানুষ অনেক সচেতন। সতর্কতা পেলেই তারা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান। ফলে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।”

সামনে চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞদের মতে, আশ্রয়কেন্দ্র বাড়ানো ইতিবাচক হলেও তা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন টেকসই বেড়িবাঁধ, কার্যকর আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা এবং স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত সচেতনতা কার্যক্রম।

শেষ কথা

৩৬ বছর পরও সেই ভয়াল রাত উপকূলবাসীর মনে এক গভীর ক্ষত হয়ে আছে। সময় অনেক কিছু বদলেছে, কিন্তু ২৯ এপ্রিল এলে এখনো বুক কেঁপে ওঠে—কারণ, কিছু স্মৃতি কখনো পুরোনো হয় না।