ঢাকা ০৯:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খুলনায় লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলির শিকার শিক্ষা কর্মকর্তা মশিউর রহমান বরিশালে ঠিকাদারের মোটরসাইকেল নিয়ে গেলেন বিএনপি নেতা, চাঁদা দাবির অভিযোগ স্বপ্নের প্রথম সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্ট প্রকাশ, টেকসই উন্নয়নের উদ্যোগ তুলে ধরা হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আটক যুবক বিএনপির রাজনীতির দাবি করেছেন তুরস্কে গাছের স্থান পরিবর্তনের ভিডিও নিয়ে আলোচনা যশোরে এসআরবি’র অভিযান; ৫০ বোতল উইনকেরিক্সসহ আটক ১ এইচএসসি ফলাফল বিপর্যয়: শিক্ষাব্যবস্থার অন্তর্নিহিত সংকট, দায়বদ্ধতা ও উত্তরণের পথ রামগড়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ মাধবপুরে ৩ টন ভারতীয় জিরাসহ ট্রাক জব্দ, গ্রেপ্তার ৩ বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল দলের প্রথম ম্যাচে বড় হার

প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের বিরোধে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত, বদলির দাবি

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৮:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের — সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ৬৫ নম্বর গুপিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে বিরোধের কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই বিরোধের ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রধান শিক্ষকসহ সব শিক্ষককে অন্যত্র বদলির দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তারা।

গত ৫ নভেম্বর জেলা প্রশাসক বরাবর দেওয়া ওই আবেদনে গ্রামবাসীর পক্ষে মো. মিজানুর রহমান স্বাক্ষর করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষকদের পারস্পরিক বিরোধের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

আবেদনে বলা হয়, গত ৪ আগস্ট বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বমি করাকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক মো. খুরশিদ জিন্নাহর সঙ্গে সহকারী শিক্ষক শামীমা জাহানের বিরোধের সূত্রপাত হয়। এরপর থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও বাড়তে থাকে, যার ফলে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও প্রশাসনিক তদন্তের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই বিরোধের প্রভাব কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ছে। শিক্ষকরা নিজেদের মধ্যে বিরোধে জড়িয়ে পড়ায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, ফলে শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, শিক্ষকদের মধ্যে বিরোধ ও হিংসাত্মক মনোভাব থাকলে বিদ্যালয়ের ভালো ফলাফল প্রত্যাশা করা কঠিন। তাই শিশুদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের অন্যত্র বদলি করে নতুন শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে।

এর আগে, প্রধান শিক্ষক খুরশিদ জিন্নাহর বিরুদ্ধে অশালীন আচরণ, কুপ্রস্তাব ও মানসিক হেনস্তার অভিযোগ এনে পাঁচ সহকারী শিক্ষিকা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অন্যদিকে, প্রধান শিক্ষকও পাঁচ সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্বাক্ষর জাল করে অভিযোগ দেওয়ার পাল্টা অভিযোগ তুলে গত ১৭ অক্টোবর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করেন।

প্রধান শিক্ষকের দাবি, তদন্তে স্বাক্ষর জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষিকাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সহকারী শিক্ষক শামীমা জাহানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও বিরোধের মধ্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে পাঠদান স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়ের পরিবেশ স্বাভাবিক করতে তারা কাজ করছেন। সামনে জেলা পর্যায়ের মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। জেলা প্রশাসক মহোদয়ও এ বিষয়ে অবগত আছেন। তারা বিদ্যালয়টিকে স্বাভাবিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করছেন।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলির শিকার শিক্ষা কর্মকর্তা মশিউর রহমান

প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের বিরোধে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত, বদলির দাবি

আপডেট সময় : ০৩:৪৮:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের — সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ৬৫ নম্বর গুপিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে বিরোধের কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই বিরোধের ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রধান শিক্ষকসহ সব শিক্ষককে অন্যত্র বদলির দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তারা।

গত ৫ নভেম্বর জেলা প্রশাসক বরাবর দেওয়া ওই আবেদনে গ্রামবাসীর পক্ষে মো. মিজানুর রহমান স্বাক্ষর করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষকদের পারস্পরিক বিরোধের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

আবেদনে বলা হয়, গত ৪ আগস্ট বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বমি করাকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক মো. খুরশিদ জিন্নাহর সঙ্গে সহকারী শিক্ষক শামীমা জাহানের বিরোধের সূত্রপাত হয়। এরপর থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও বাড়তে থাকে, যার ফলে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও প্রশাসনিক তদন্তের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই বিরোধের প্রভাব কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ছে। শিক্ষকরা নিজেদের মধ্যে বিরোধে জড়িয়ে পড়ায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, ফলে শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, শিক্ষকদের মধ্যে বিরোধ ও হিংসাত্মক মনোভাব থাকলে বিদ্যালয়ের ভালো ফলাফল প্রত্যাশা করা কঠিন। তাই শিশুদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের অন্যত্র বদলি করে নতুন শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে।

এর আগে, প্রধান শিক্ষক খুরশিদ জিন্নাহর বিরুদ্ধে অশালীন আচরণ, কুপ্রস্তাব ও মানসিক হেনস্তার অভিযোগ এনে পাঁচ সহকারী শিক্ষিকা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অন্যদিকে, প্রধান শিক্ষকও পাঁচ সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্বাক্ষর জাল করে অভিযোগ দেওয়ার পাল্টা অভিযোগ তুলে গত ১৭ অক্টোবর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করেন।

প্রধান শিক্ষকের দাবি, তদন্তে স্বাক্ষর জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষিকাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সহকারী শিক্ষক শামীমা জাহানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও বিরোধের মধ্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে পাঠদান স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়ের পরিবেশ স্বাভাবিক করতে তারা কাজ করছেন। সামনে জেলা পর্যায়ের মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। জেলা প্রশাসক মহোদয়ও এ বিষয়ে অবগত আছেন। তারা বিদ্যালয়টিকে স্বাভাবিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করছেন।