নিজস্ব প্রতিবেদক: ৩ মে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে গোপালগঞ্জ জেলার পক্ষ থেকে ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি (NPS)-এর সভাপতি ও গোপালগঞ্জ জেলা প্রিন্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের গ্রন্থাগার বিষয়ক সম্পাদক সাংবাদিক বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকার এক বিবৃতিতে দেশের সকল গণমাধ্যমকর্মী, সাংবাদিক, সম্পাদকসহ সর্বস্তরের জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এই উপলক্ষে তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি সাংবাদিক সুরক্ষা আইন দ্রুত প্রণয়ন ও কার্যকর করার জোর দাবি জানান।
বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকার উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকরা অনেক ক্ষেত্রেই অবহেলিত অবস্থায় কাজ করছেন, যা বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় উদ্বেগজনক। প্রতিনিয়ত সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মিথ্যা মামলা, এমনকি হত্যার ঘটনাও ঘটছে। কিন্তু এসব ঘটনার সুষ্ঠু ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি সাংবাদিক নেতা আবু জাফরসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা সাংবাদিক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন এবং সাংবাদিকদের কল্যাণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে আন্দোলন ও আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত এসব দাবি বাস্তবায়িত হয়নি বলে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়নের জন্য একটি নির্দিষ্ট ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণ এবং তাদের আইনগত অধিকার ও কর্মের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক বিভেদ, হিংসা ও প্রতিহিংসা পরিহার করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “আমরা প্রায়ই শুনি—কাকের শত্রু কাক। তাই সাংবাদিকদের নিজেদের মধ্যকার বিরোধ দূর করে ঐক্যবদ্ধভাবে দাবি জানাতে হবে। আমরা যদি ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হই, তবে সরকার সেই দাবি বাস্তবায়নে বাধ্য হবে।”
বিবৃতির শেষাংশে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশে অসংখ্য সাংবাদিক সংগঠন, ক্লাব ও ইউনিয়ন থাকা সত্ত্বেও কেন সাংবাদিকরা এখনও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি সকল সাংবাদিককে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একত্রিত হয়ে নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, “গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়—এটি শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবেও তার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।”
প্রতিনিধির নাম 
















