মনির হোসেন, যশোর জেলা প্রতিনিধি:–
যশোর সহ ৬ টি উপজেলা জৈষ্ঠ্যের শুরুতেই খরতাপে পুড়ছে প্রাণ-প্রকৃতি। গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত হতে শুরু করেছে জনজীবন। শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার আগুনে পুড়েছে যশোর।শনিবারও তাপপ্রবাহ অব্যাহত ছিল। তবে এদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে খুলনায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে চৈত্রের শেষভাগ এবং বৈশাখেও কয়েকদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করেছে যশোরে। শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় যশোরে, ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর শনিবার যশোরে এই তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শনিবার দেশের ১৪টি জেলায় তাপপ্রবাহ বইছে। আগামী দু-এক দিন এই তাপপ্রবাহ থাকতে পারে। তবে এ সময় দেশের কিছু স্থানে বৃষ্টিও থাকতে পারে। শনিবার খুলনা বিভাগের সব জেলায় এবং মাদারীপুর, লক্ষ্মীপুর, রাজশাহী ও পাবনা জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। খুলনা বিভাগের জেলার সংখ্যা ১০। এর সঙ্গে বাকি চারটি মিলিয়ে মোট ১৪ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে শনিবার। যশোর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণাধীন আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় যশোরে, ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।এদিকে, যশোরে এই তাপপ্রবাহে গোটা প্রাণ-প্রকৃতি দগ্ধ হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে দুপুরের দিকে রাস্তা, ঘাট, ফসলের ক্ষেতে চোখ ঝলসানো উত্তাপ বিরাজ করছে। ঘরের বাইরে বের হলেই আগুনের হল্কা গায়ে লাগছে। শ্রমজীবী মানুষ রয়েছেন চরম ভোগান্তিতে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। স্বস্তি পেতে শ্রমজীবী মানুষ রাস্তার পাশে জিরিয়ে নিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ হাতে মুখে পানি দিয়ে ঠান্ডা হওয়ার চেষ্টা করছেন। কেউবা শরবর, আখের রস, স্যালাইন পানিতে শরীর শীতল করার চেষ্টা করছেন।যশোর শহরের লালদীঘিপাড়ে আখের রস বিক্রি করেন করিম শেখ । তিনি জানালেন, প্রচন্ড গরমে অনেক মানুষ আসছে আখের রস খেতে। কিন্তু রস বিক্রি করতেও রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা যাচ্ছে না। ছায়া খুঁজে দাঁড়িয়ে রস বিক্রি করতে হচ্ছে।যশোর শহরের রেলগেট এলাকার রিকসা ফারুক মিয়া বলেন, প্রচন্ড গরমে গায়ে যেনো আগুনের ধাক্কা লাগছে। একটু রিকসা চালালেই ঘামে গা ভিজে যাচ্ছে। গরমে মাথা ঘুরে উঠছে।দড়াটানা এলাকায় রিকসাচালক হোসেন মিয়া বলেন, গরমে রিকসা চালালে গায়ে যেনো আগুনের ছ্যাকা লাগছে। তারপরও রিকসা চালাতে হচ্ছে। কিন্তু ঠিকমত ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। গরমে বাইরে মানুষ কম আসছে। দড়াটানা চৌরাস্তা থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া নিয়ে গেলেও খালি ফিরে আসতে হচ্ছে। যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়ে গেলে সেখানে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে ধরা হয়।#
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে তাপপ্রবাহ অব্যহত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা
-
প্রতিনিধির নাম - আপডেট সময় : ১১:১৭:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
- ২ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ



















