বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের নভেম্বর মাস ছিল অস্থিরতা ও ক্ষমতার সংঘাতের সময়। ১৫ আগস্টের পর রাষ্ট্রের সামরিক ও রাজনৈতিক কাঠামোতে যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছিল, ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থান তা আরও জটিল করে তোলে। তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয় এবং ৭ নভেম্বর সাধারণ সৈনিকদের বিদ্রোহ ও জনতার অংশগ্রহণে তিনি মুক্ত হন।
এই ঘটনাকে শুধুমাত্র একটি সামরিক অভ্যুত্থান হিসেবে দেখা হলে এর সামাজিক ও রাজনৈতিক তাৎপর্য বোঝা সম্ভব নয়। সাধারণ সৈনিকদের একটি বড় অংশ কেন জিয়াউর রহমানের মুক্তিকে নিজেদের আস্থা ও প্রত্যাশার সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন, সেই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এর উত্তর খুঁজতে হলে তাঁর সামরিক জীবন ও মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার দিকে নজর দিতে হবে।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মেজর জিয়া সৈনিকদের সশস্ত্র প্রতিরোধে উদ্বুদ্ধ করেন এবং যুদ্ধের সময় তিনি বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বীর উত্তম খেতাব পান। তাঁর নেতৃত্বে সৈনিকদের মধ্যে যে আস্থা তৈরি হয়েছিল, তা ৭ নভেম্বরের ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা এম সাখাওয়াত হোসেনের মতে, সৈনিকদের মধ্যে জিয়ার জনপ্রিয়তা তাঁর প্রতিপক্ষদের ধারণার চেয়েও বেশি ছিল।
জিয়াউর রহমানের জীবনযাপন ছিল ভোগবিলাসবর্জিত। তিনি সাধারণ সৈনিকদের সঙ্গে একই জীবনযাপন করতেন, যা সৈনিকদের মধ্যে আনুগত্যের অনুভূতি তৈরি করেছিল। আজকের বিএনপির সামনে সেই উত্তরাধিকারকে নতুন করে প্রমাণ করার সুযোগ রয়েছে। যদি তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে পারে, তবে অতীতের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বর্তমানের শক্তিতে রূপ নিতে পারে।
আস্থা অর্জন কঠিন, কিন্তু হারানো সহজ। জনগণের ভালোবাসা যে নেতৃত্ব অর্জন করে, তার দায়িত্বও তত বড়। ইতিহাস এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে বক্তৃতায় নয়, কাজে; স্লোগানে নয়, মানুষের জীবনে।
প্রতিনিধির নাম 




















