স্বপ্নের প্রথম সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্ট — দেশের বৃহত্তম রিটেইল চেইন শপ ‘স্বপ্ন’ প্রথমবারের মতো ‘সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্ট ২০২৫’ প্রকাশ করেছে। রবিবার (৮ নভেম্বর) ঢাকার গুলশানে লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই প্রতিবেদনটি উন্মোচন করা হয়। প্রতিবেদনে টেকসই কৃষি, দায়িত্বশীল পণ্য সংগ্রহ, পরিবেশ সুরক্ষা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন উদ্যোগ ও অগ্রগতি তুলে ধরা হয়েছে।
‘লিডিং চেঞ্জ, নারচারিং টুমরো’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনটি ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত চার বছরের কার্যক্রম নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এতে কৃষকদের সহায়তা, সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে স্বপ্নের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সারা দেশে স্বপ্নের ৬৮৫টি আউটলেট ছিল এবং এসব আউটলেটের মাধ্যমে প্রতিদিন ১ লাখ ৪৪ হাজারের বেশি পরিবারকে সেবা দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী নেতা, কূটনীতিক, টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ এবং স্বপ্নের সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা। টেকসই উন্নয়ন নিয়ে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অংশ নেন সিএসআর সেন্টারের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ফারুক সোবহান, বাংলাদেশে জাপান দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন ইয়োশিদা আয়া, এসিআই পিএলসির গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড. আরিফ দৌলা, মিৎসুই অ্যান্ড কোং (এশিয়া প্যাসিফিক) পিটিই লিমিটেডের কান্ট্রি চেয়ারপারসন কেনিচিরো কাওয়ামোতো, গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ফারজানা চৌধুরী এবং সিএসআর সেন্টারের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার শাহামিন এস জামান।
অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য রাখেন ফারুক সোবহান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে টেকসই উন্নয়ন নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্যোগে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নানা চ্যালেঞ্জ ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে অনেক এগিয়েছে। তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশের সুরক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
ইয়োশিদা আয়া বলেন, রিটেইল খাতে খাদ্য অপচয় রোধ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি জানান, অনেক পণ্য বিক্রি না হওয়ায় নষ্ট হয়ে যায়। এই অপচয় কমাতে কার্যক্রমের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং উন্নতির সুযোগ খুঁজে বের করা জরুরি। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, স্বপ্নের এই উদ্যোগ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে আলোচনা ও সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করবে।
ড. আরিফ দৌলা বলেন, কৃষকদের ন্যায্যতা ও আরও ভালো সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই স্বপ্নের যাত্রা শুরু হয়েছিল। তিনি জানান, স্বপ্নের সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়াতে ক্রমেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে।
কেনিচিরো কাওয়ামোতো বলেন, দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসার সফলতার জন্য টেকসই উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি স্বপ্নের প্রথম সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্ট প্রকাশকে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ফারজানা চৌধুরী বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি এবং মানুষের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে টেকসই উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। তিনি জানান, কৃষিবিমা এবং নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সেবায় প্রবেশাধিকার বাড়ানোর মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
প্রতিবেদনে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বপ্নের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে দায়িত্বশীল ভোগ ও উৎপাদন, টেকসই কৃষি, শোভন কর্মসংস্থান এবং পরিবেশ সুরক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগগুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
এই প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও জোরদার করার পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রিটেইল খাত গড়ে তুলতে অবদান রাখতে চায় স্বপ্ন।
প্রতিনিধির নাম 
























