ঢাকা ০৯:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সেন্টমার্টিনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৩২ কোটি টাকার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ, আটক ৬ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে ইলিয়াস কোবরা নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম সিংড়ায় গোয়েন্দা তথ্যে অভিযান, ২০ লাখ টাকার অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল ধ্বংস  সিংড়ায় পানির সঙ্কট দূর করতে যুবদল নেতার টিউবওয়েল স্থাপন সাবেক বিচারমন্ত্রীকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দিলো দক্ষিণ কোরিয়া ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া ১৪ দিনে নামিয়ে আনার লক্ষ্য সরকারের গুম-খুন ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ করবে এনসিপি মেধা ও শৃঙ্খলাই পুলিশে নিয়োগের একমাত্র মানদণ্ড: প্রার্থীদের দালাল থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান করেছেন এসপি মিজানুর রহমান মুন্সী আওয়ামী লীগের নাশকতা ঠেকাতে নারায়ণগঞ্জে মোঃ সিদ্দিকুর রহমান উজ্জলের নেতৃত্বে শান্তি মিছিল

শহীদ জিয়ার ‘স্বাধীনতা ঘোষণা’ স্মৃতিকে চির অম্লান করে রাখা হবে : সংস্কৃতিমন্ত্রী

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৬:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
  • ১১৬ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, শহীদ জিয়ার ‘স্বাধীনতা ঘোষণা’ স্মৃতিকে চির অমর ও অম্লান করে ধরে রাখা হবে। যাতে পরবর্তী প্রজন্ম স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস জানতে পারে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর আক্রমণের পর সমগ্র দেশে যখন নেতৃত্ব শূন্যতা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল, তখন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ প্রদান করেন। সেই স্মৃতিবিজড়িত ‘স্বাধীনতা ঘোষণা’ ইতিহাসের বিষয়বস্তু। অথচ সেটা সেভাবে পালন করা হয় না, সেটা আমরা করতে চাই।

তিনি বলেন, মেজর জিয়া ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট থেকে বিদ্রোহ করে বেরিয়ে এসে স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে নতুন গতি সঞ্চার হয় এবং জনগণের মধ্যে সাহস ও উদ্দীপনা ফিরে আসে। এ লক্ষ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র এবং শহীদ জিয়ার স্মৃতিকে সংরক্ষণ ও উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার গৌরবময় ইতিহাস সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। যে জাতি তার ইতিহাস ভুলে যায়, সে জাতির অস্তিত্ব টিকে থাকতে পারে না। তাই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বীরত্বগাথা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি সর্বজনীন জনযুদ্ধ, যার মাধ্যমে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা অর্জন করে। এই স্বাধীনতার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস ১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলনের সূচনা, ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে শহীদের আত্মত্যাগ, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচন। এসব আন্দোলন সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বাঙালি জাতি স্বাধীনতার চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছে।

সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রামের অংশ ‘স্বাধীনতা ঘোষণা’, যেটা জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে করেছেন। আবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তিনি নির্মমভাবে শহীদ হন। সেটা আমাদের অত্যন্ত দুঃখ, বেদনা এবং শোকের অংশ। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র ও জিয়ার স্মৃতি জাদুঘরকে সমন্বিতভাবে একটি ব্যবস্থাপনায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি এখানে একটি আধুনিক স্মৃতি জাদুঘর স্থাপন, প্রয়োজনে শহীদ জিয়ার ভাস্কর্য নির্মাণ এবং ঐতিহাসিক সম্প্রচারের ব্যবহৃত সরঞ্জাম সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দর্শনার্থীরা যাতে প্রথমে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র পরিদর্শন করে পরে সংশ্লিষ্ট জাদুঘরে যেতে পারেন সে ধরনের একটি সমন্বিত পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে।

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে শহীদ জিয়ার নির্মম হত্যাকাণ্ড যেমন জাতির জন্য বেদনাদায়ক অধ্যায়, তেমনি মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান বাঙালির গৌরবের অংশ। এই দুই ঐতিহাসিক দিককে যথাযথভাবে উপস্থাপন ও সংরক্ষণের জন্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

পরিদর্শনকালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের আবাসিক প্রকৌশলী ভাস্কর দেওয়ানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এরপর সংস্কৃতিমন্ত্রী চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন ও জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সেন্টমার্টিনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৩২ কোটি টাকার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ, আটক ৬

শহীদ জিয়ার ‘স্বাধীনতা ঘোষণা’ স্মৃতিকে চির অম্লান করে রাখা হবে : সংস্কৃতিমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৭:৩৬:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, শহীদ জিয়ার ‘স্বাধীনতা ঘোষণা’ স্মৃতিকে চির অমর ও অম্লান করে ধরে রাখা হবে। যাতে পরবর্তী প্রজন্ম স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস জানতে পারে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর আক্রমণের পর সমগ্র দেশে যখন নেতৃত্ব শূন্যতা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল, তখন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ প্রদান করেন। সেই স্মৃতিবিজড়িত ‘স্বাধীনতা ঘোষণা’ ইতিহাসের বিষয়বস্তু। অথচ সেটা সেভাবে পালন করা হয় না, সেটা আমরা করতে চাই।

তিনি বলেন, মেজর জিয়া ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট থেকে বিদ্রোহ করে বেরিয়ে এসে স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে নতুন গতি সঞ্চার হয় এবং জনগণের মধ্যে সাহস ও উদ্দীপনা ফিরে আসে। এ লক্ষ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র এবং শহীদ জিয়ার স্মৃতিকে সংরক্ষণ ও উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার গৌরবময় ইতিহাস সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। যে জাতি তার ইতিহাস ভুলে যায়, সে জাতির অস্তিত্ব টিকে থাকতে পারে না। তাই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বীরত্বগাথা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি সর্বজনীন জনযুদ্ধ, যার মাধ্যমে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা অর্জন করে। এই স্বাধীনতার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস ১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলনের সূচনা, ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে শহীদের আত্মত্যাগ, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচন। এসব আন্দোলন সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বাঙালি জাতি স্বাধীনতার চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছে।

সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রামের অংশ ‘স্বাধীনতা ঘোষণা’, যেটা জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে করেছেন। আবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তিনি নির্মমভাবে শহীদ হন। সেটা আমাদের অত্যন্ত দুঃখ, বেদনা এবং শোকের অংশ। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র ও জিয়ার স্মৃতি জাদুঘরকে সমন্বিতভাবে একটি ব্যবস্থাপনায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি এখানে একটি আধুনিক স্মৃতি জাদুঘর স্থাপন, প্রয়োজনে শহীদ জিয়ার ভাস্কর্য নির্মাণ এবং ঐতিহাসিক সম্প্রচারের ব্যবহৃত সরঞ্জাম সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দর্শনার্থীরা যাতে প্রথমে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র পরিদর্শন করে পরে সংশ্লিষ্ট জাদুঘরে যেতে পারেন সে ধরনের একটি সমন্বিত পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে।

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে শহীদ জিয়ার নির্মম হত্যাকাণ্ড যেমন জাতির জন্য বেদনাদায়ক অধ্যায়, তেমনি মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান বাঙালির গৌরবের অংশ। এই দুই ঐতিহাসিক দিককে যথাযথভাবে উপস্থাপন ও সংরক্ষণের জন্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

পরিদর্শনকালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের আবাসিক প্রকৌশলী ভাস্কর দেওয়ানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এরপর সংস্কৃতিমন্ত্রী চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন ও জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন।