ঢাকা ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পটিয়ার ডুবাই প্রবাসী’র বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানো নামে ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ চকরিয়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৩ আসামি গ্রেফতার কোস্ট গার্ডের অভিযানে উদ্ধার হলো সরকারি খাস জমি, উচ্ছেদ ২৫ অবৈধ স্থাপনা শার্শায় পরকীয়ার জেরে যুবক খুন : গোয়াল ঘরে পুঁতে রাখা মরদেহ উদ্ধার সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ কাব্যছন্দ ইন্সপায়ার অ্যাওয়ার্ড পেলেন এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ শার্শায় এসএসসি পরীক্ষায় নিজ মেয়েকে সহযোগিতা : প্রধান শিক্ষকসহ দুইজন কারাগারে ভারত থেকে পুশইন, দেশে ফিরলেন ১০ বাংলাদেশি সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে উপ-সচিব গোলাম কিবরিয়া মৌলভীবাজারে হামলা, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ; পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ বাংলাদেশের ৪১৩ রানের জবাব দিচ্ছে পাকিস্তান

শার্শায় পরকীয়ার জেরে যুবক খুন : গোয়াল ঘরে পুঁতে রাখা মরদেহ উদ্ধার

মনির হোসেন,যশোর জেলা প্রতিনিধি :যশোরের শার্শা উপজেলার বসতপুর গ্রামে পরকীয়া প্রেমের জেরে ইকরামুল কবির (২৫) নামে এক যুবককে হত্যার পর মরদেহ গুম করার রোমহর্ষক ঘটনা উদঘাটিত হয়েছে।

শনিবার (৯ মে ) সন্ধায় অভিযুক্তদের বাড়ির গোয়ালঘরের মাটি খুঁড়ে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক দম্পতিকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত ইকরামুল কবির পুটখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ বারোপোতা গ্রামের আব্দুল রশিদের ছেলে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বসতপুর পূর্বপাড়া এলাকার আরশাদের ছেলে আল ফুয়াদের স্ত্রী মুন্নীর (২২) সাথে ইকরামুলের দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এক মাস পাঁচদিন আগে ইকরামুল তার প্রেমিকা মুন্নীর কাছে পাওনা টাকা আনতে গিয়ে নিখোঁজ হন। এরপর থেকেই তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে অভিযুক্ত স্বামী আল ফুরাদকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার পুলিশ বসতপুর গ্রামে তাদের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখানে গোয়ালঘরের মেঝে খনন করে নিখোঁজ ইকরামুলের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী-স্ত্রী আল ফুরাদ ও মুন্নী বেগমকে পুলিশ আটক করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পরকীয়া ও পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে তাকে শ্বাসরোধ বা অন্য কোনো উপায়ে হত্যা করে লাশ মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর শত শত উৎসুক জনতা অভিযুক্তদের বাড়ির সামনে ভিড় জমায়। দীর্ঘ এক মাস পর মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আটক দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

পটিয়ার ডুবাই প্রবাসী’র বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানো নামে ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

শার্শায় পরকীয়ার জেরে যুবক খুন : গোয়াল ঘরে পুঁতে রাখা মরদেহ উদ্ধার

আপডেট সময় : ০৬:৫৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

মনির হোসেন,যশোর জেলা প্রতিনিধি :যশোরের শার্শা উপজেলার বসতপুর গ্রামে পরকীয়া প্রেমের জেরে ইকরামুল কবির (২৫) নামে এক যুবককে হত্যার পর মরদেহ গুম করার রোমহর্ষক ঘটনা উদঘাটিত হয়েছে।

শনিবার (৯ মে ) সন্ধায় অভিযুক্তদের বাড়ির গোয়ালঘরের মাটি খুঁড়ে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক দম্পতিকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত ইকরামুল কবির পুটখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ বারোপোতা গ্রামের আব্দুল রশিদের ছেলে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বসতপুর পূর্বপাড়া এলাকার আরশাদের ছেলে আল ফুয়াদের স্ত্রী মুন্নীর (২২) সাথে ইকরামুলের দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এক মাস পাঁচদিন আগে ইকরামুল তার প্রেমিকা মুন্নীর কাছে পাওনা টাকা আনতে গিয়ে নিখোঁজ হন। এরপর থেকেই তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে অভিযুক্ত স্বামী আল ফুরাদকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার পুলিশ বসতপুর গ্রামে তাদের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখানে গোয়ালঘরের মেঝে খনন করে নিখোঁজ ইকরামুলের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী-স্ত্রী আল ফুরাদ ও মুন্নী বেগমকে পুলিশ আটক করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পরকীয়া ও পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে তাকে শ্বাসরোধ বা অন্য কোনো উপায়ে হত্যা করে লাশ মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর শত শত উৎসুক জনতা অভিযুক্তদের বাড়ির সামনে ভিড় জমায়। দীর্ঘ এক মাস পর মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আটক দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।