ঢাকা ০৭:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চট্টগ্রামে পাঁচ বছরে দেড় কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য: ডিসি জাহিদ শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য শুধু সনদ নয়, মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হতে হবে : ডিসি জাহিদুল ইসলাম মিঞা নরসিংদীর শিবপুরে গাছের চারা রোপণ করেন মোছাঃ ফারজানা ইয়াসমিন সোনারগাঁয়ের পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘বিশ্বেশ্বর পোদ্দার ভবন’ শুভ উদ্বোধনে শিক্ষা মন্ত্রী ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির উদ্বোধন, নারায়ণগঞ্জ সদরে ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ সারা দেশের ন্যায় রামগড়ে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন আসন্ন ইউপি নির্বাচন: আশিয়া নির্বাচনী মাঠে আলোচনায় চেয়ারম্যান পদে ওলামা দল নেতা মাওলানা তৌহিদুল ইসলাম মৌলভীবাজারের উত্তর কলিমাবাদে ক্লুলেস সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রহস্য উদঘাটন: দুই আসামি গ্রেপ্তার- স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ক্সবাজারের ডুলাহাজারা থেকে নারায়ণগঞ্জে একযোগে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির উদ্বোধন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন

আর্থিক খাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে সঠিক রিপোর্টিং ও স্বচ্ছতা : অর্থমন্ত্রী

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৭:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • ৯৩ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের আর্থিক খাতে আস্থা পুনর্গঠনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সততা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, আর্থিক খাতের সুশাসন ও আর্থিক প্রতিবেদন ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বুধবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড রিপোর্টিং (এফএআর) সামিট-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি অস্থির সময় পার করেছে। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা, তদারকি ব্যবস্থা ও ওয়াচডগ বডিগুলো প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছিল, যার ফলে আর্থিক খাতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। মিথ্যা রিপোর্টিং বা ফলস রিপ্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে দুর্বল কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে, ফলে ভালো ও মৌলিক কোম্পানিগুলো বাজারে আসার আগ্রহ হারিয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা এখন একটি ক্রসরোডে দাঁড়িয়ে আছি। বর্তমান সরকার এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যেখানে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকবে। এফআরসি, আইসিএবি এবং আইসিএমএবি এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমই দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। কোনো রেগুলেটরি বডির পক্ষেই প্রতিদিন ডে-টু-ডে গিয়ে ভুলত্রুটি ধরা সম্ভব নয়; তাই হিসাববিদদের নিজেদেরই স্বপ্রণোদিত নিয়ন্ত্রণের ভূমিকা নিতে হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রী হিসেবে নিজের অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেসরকারি খাতে আস্থা রেখে অতীতে বিজিএমইএকে যেভাবে ইউডি সার্টিফিকেট প্রদানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং তারা সফল হয়েছিল, ঠিক তেমনি আইসিএবি ও আইসিএমএবিকে কেবল আনুষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ না রেখে সদস্যদের পারফরম্যান্স ও অডিট কার্যক্রম কঠোরভাবে তদারকি করতে হবে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে বড় বড় ফান্ড ম্যানেজার ও বিনিয়োগকারীরা এখন বাংলাদেশের প্রতি ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছে। জেপি মরগ্যানসহ বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে আসতে চায়। আমরা হংকং ও লন্ডনে বাংলাদেশ-নির্ভর ফান্ড ফ্লোট করার পরিকল্পনা করছি এবং পাশাপাশি ডোমেস্টিক বন্ড চালু করতে যাচ্ছি। তবে এসব বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রথম শর্তই হলো নির্ভরযোগ্য আর্থিক প্রতিবেদন। বিনিয়োগকারীরা যদি অডিট রিপোর্টে আস্থা না পায়, তবে কোনো সংস্কারই কাজে আসবে না।

তিনি স্বল্পমেয়াদি সুবিধার চিন্তা বাদ দিয়ে বৈশ্বিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী আর্থিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার জন্য পুঁজিবাজার, এনবিআর এবং আর্থিক খাতের সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম (বিটিএমএ ভাইস প্রেসিডেন্ট)। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া, চেয়ারম্যান এফআরসি।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে পাঁচ বছরে দেড় কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য: ডিসি জাহিদ

আর্থিক খাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে সঠিক রিপোর্টিং ও স্বচ্ছতা : অর্থমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৬:৪৭:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের আর্থিক খাতে আস্থা পুনর্গঠনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সততা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, আর্থিক খাতের সুশাসন ও আর্থিক প্রতিবেদন ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বুধবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড রিপোর্টিং (এফএআর) সামিট-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি অস্থির সময় পার করেছে। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা, তদারকি ব্যবস্থা ও ওয়াচডগ বডিগুলো প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছিল, যার ফলে আর্থিক খাতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। মিথ্যা রিপোর্টিং বা ফলস রিপ্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে দুর্বল কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে, ফলে ভালো ও মৌলিক কোম্পানিগুলো বাজারে আসার আগ্রহ হারিয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা এখন একটি ক্রসরোডে দাঁড়িয়ে আছি। বর্তমান সরকার এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যেখানে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকবে। এফআরসি, আইসিএবি এবং আইসিএমএবি এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমই দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। কোনো রেগুলেটরি বডির পক্ষেই প্রতিদিন ডে-টু-ডে গিয়ে ভুলত্রুটি ধরা সম্ভব নয়; তাই হিসাববিদদের নিজেদেরই স্বপ্রণোদিত নিয়ন্ত্রণের ভূমিকা নিতে হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রী হিসেবে নিজের অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেসরকারি খাতে আস্থা রেখে অতীতে বিজিএমইএকে যেভাবে ইউডি সার্টিফিকেট প্রদানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং তারা সফল হয়েছিল, ঠিক তেমনি আইসিএবি ও আইসিএমএবিকে কেবল আনুষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ না রেখে সদস্যদের পারফরম্যান্স ও অডিট কার্যক্রম কঠোরভাবে তদারকি করতে হবে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে বড় বড় ফান্ড ম্যানেজার ও বিনিয়োগকারীরা এখন বাংলাদেশের প্রতি ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছে। জেপি মরগ্যানসহ বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে আসতে চায়। আমরা হংকং ও লন্ডনে বাংলাদেশ-নির্ভর ফান্ড ফ্লোট করার পরিকল্পনা করছি এবং পাশাপাশি ডোমেস্টিক বন্ড চালু করতে যাচ্ছি। তবে এসব বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রথম শর্তই হলো নির্ভরযোগ্য আর্থিক প্রতিবেদন। বিনিয়োগকারীরা যদি অডিট রিপোর্টে আস্থা না পায়, তবে কোনো সংস্কারই কাজে আসবে না।

তিনি স্বল্পমেয়াদি সুবিধার চিন্তা বাদ দিয়ে বৈশ্বিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী আর্থিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার জন্য পুঁজিবাজার, এনবিআর এবং আর্থিক খাতের সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম (বিটিএমএ ভাইস প্রেসিডেন্ট)। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া, চেয়ারম্যান এফআরসি।