ঢাকা ১১:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কেলিশহর ইউনিয়ন’কে মাদক ও  সন্রাস  মুক্ত করতে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে ফের আলোচনায় জসিম উদ্দিন মাষ্টার  উখিয়া সীমান্তে ২৪ ঘণ্টায় ১ লাখ ৭০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, পাচারকারীরা পালিয়েছে রামগড় কৃষি গবেষনা কেন্দ্রের ৩০ শ্রমিক-১২ আনসারের নিরাপত্তার মাঝেও সেগুন গাছ চুরি! যশোর ঝিকরগাছায় বকুলিয়ার রাস্তায় হাঁটুপানি কাদা, চরম দুর্ভোগে শতাধিক পরিবার নারায়ণগঞ্জে কেক কাটা ও খাবার বিতরণের মধ্য দিয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের জন্মদিন পালন নরসিংদীর আলতাফ হোসেন এর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সচেতন মহলের নিন্দা জেলে যেতে হলে যাবো তবুও প্রিপেইড মিটার লাগাতে পারবেননা : এডভোকেট মাহাবুবুর রহমান মাসুম মার্কিন বিশেষ দূতের সামনে রোহিঙ্গাদের একটাই দাবি-‘ফিরতে চাই নিজ দেশে’ যশোরে উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ : অনিন্দ্য ইসলাম অমিত যশোর সফরে এসেছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী, দিনভর কর্মসূচি

যশোর মণিরামপুরে বেড়িবাঁধ ধসে নতুন করে ৫ গ্রাম প্লাবিত,‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

মনির হোসেন,যশোর প্রতিনিধি: যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় ৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। মুক্তেশ্বরী নদীর বেড়িবাঁধ ধসে নতুন করে এ যেন ভবদহ বিলপাড়ের মানুষের কাছে ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’-এ রুপ নিয়েছে। দ্রুত বেড়িবাঁধ মেরামত না করা হলে নতুন আরও অনেক গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছে ভবদহ বিলপাড়ের মানুষ।

উপজেলার লখাইডাঙ্গা গ্রাম সংলগ্ন মুক্তেশ্বরী নদী ও বিল কেদেরিয়ার ৩ নম্বর বেড়িবাঁধ ধসে গিয়েছে। গত কয়েকদিনের টানা আকাশ বৃষ্টি ও উজানের ঢল ভবদহ স্লুইচগেট দিয়ে নিষ্কাশিত না হওয়ায় ভবদহ সংলগ্ন অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়কসহ উপসনালয়। ভেসে গেছে শত শত মাছের ঘের। এতে পানিবন্দি হয়ে প্রায় এক লাখ মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে।

এদিকে ১শ’ ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নদী ও খালের ৮১.৫ কিলোমিটার খনন কাজ ভবদহ বিলের পাড়ের মানুষের দুর্ঘোব লাঘোবে আশা জাগিয়েছিল। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে ফের জলাবদ্ধ হওয়ায় সেই আশা এখন নিরাশায় পরিণত হয়েছে। আর বেড়িবাঁধ ধস নতুন করে ‘গোদের ওপর বিষফোঁড়া’ দেখা দিয়েছে। অবশ্য গত কয়েকদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের বাধার কারণ চিহ্নিত করে গত রোববার থেকে কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এতে পানি নামতে শুরু করলেও বেড়িবাঁধ ভাঙায় তাদের কপালে চিন্তার ভাজ পড়েছে।

এতে করে উপজেলা পাঁচাকড়ি, বালিদহ, নেহালপুর, লখাইডাঙ্গা, দিঘলিয়া, পোড়াডাঙ্গা নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। তবে, দ্রুতই পানির বন্দীদশা থেকে মুক্তি মিলবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি। জানা যায়, প্রায় ১শ’৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে গেলো বছরের অক্টোবর মাস হতে সেনাবাহিনীর অধীনে খনন কাজ শুরু হয়। ভবদহ সংলগ্ন হরিহর, হরি,তেলেগাতী, আপার ভদ্রা, টেকা ও শ্রী নদী এই খননের আওতায় ছিল।

এরমধ্যে হরি ও তেলেগাতী নদীর ২০ কিলোমিটার এবং টেকা নদীর ৭ কিলোমিটার খনন কাজ শেষ হয়েছে। সরেজমিন গিয়ে চোখে পড়ে ভবদহ স্লুইচগেটের কপাট উঠা-নামা করছে না। আকাশ বৃষ্টি ও উজানের পানি নিষ্কাশনে ৪টি পাম্প দিয়ে সেচ কাজ চলছে এবং আরও ৫টি পাম্প স্থাপনের কাজ চলমান। কিন্তু খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেরার খর্ণিয়া তেলেগাতী নদীর ওপর বাঁধ দিয়ে খনন কাজ করায়, বাঁধের বিপরীতে ৫শ’ থেকে ৬শ’ মিটার দূরে নদীর বুকে পলি জমায় পানি নিস্কাশন বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় এই জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে।

এতে অভয়নগর, মণিরামপুর, কেশবপুর ও ডুমুরিয়া উপজেলার প্রায় ৫০টি গ্রাম সম্পূর্ণ ও আংশিক প্লাবিত হয়েছে। আকস্মিক এই জলাবদ্ধতায় ভাবিয়ে তোলে পাউবোসহ সংশ্লিষ্টদের।

ডুমুরতলা গ্রামের স্কুল শিক্ষক সুশান্ত কুমার বিশ্বাস বলেন, গ্রামের ৫৫টি বাড়ির মধ্যে ৬টি ছাড়া বাকিগুলো পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জী বলেন, কারণ চিহ্নিত করেই সেনাবাহিনীর সাথে কথা বলেই গত রোববার থেকে পলি অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

কেলিশহর ইউনিয়ন’কে মাদক ও  সন্রাস  মুক্ত করতে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে ফের আলোচনায় জসিম উদ্দিন মাষ্টার 

যশোর মণিরামপুরে বেড়িবাঁধ ধসে নতুন করে ৫ গ্রাম প্লাবিত,‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’

আপডেট সময় : ০৯:০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

মনির হোসেন,যশোর প্রতিনিধি: যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় ৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। মুক্তেশ্বরী নদীর বেড়িবাঁধ ধসে নতুন করে এ যেন ভবদহ বিলপাড়ের মানুষের কাছে ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’-এ রুপ নিয়েছে। দ্রুত বেড়িবাঁধ মেরামত না করা হলে নতুন আরও অনেক গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছে ভবদহ বিলপাড়ের মানুষ।

উপজেলার লখাইডাঙ্গা গ্রাম সংলগ্ন মুক্তেশ্বরী নদী ও বিল কেদেরিয়ার ৩ নম্বর বেড়িবাঁধ ধসে গিয়েছে। গত কয়েকদিনের টানা আকাশ বৃষ্টি ও উজানের ঢল ভবদহ স্লুইচগেট দিয়ে নিষ্কাশিত না হওয়ায় ভবদহ সংলগ্ন অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়কসহ উপসনালয়। ভেসে গেছে শত শত মাছের ঘের। এতে পানিবন্দি হয়ে প্রায় এক লাখ মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে।

এদিকে ১শ’ ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নদী ও খালের ৮১.৫ কিলোমিটার খনন কাজ ভবদহ বিলের পাড়ের মানুষের দুর্ঘোব লাঘোবে আশা জাগিয়েছিল। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে ফের জলাবদ্ধ হওয়ায় সেই আশা এখন নিরাশায় পরিণত হয়েছে। আর বেড়িবাঁধ ধস নতুন করে ‘গোদের ওপর বিষফোঁড়া’ দেখা দিয়েছে। অবশ্য গত কয়েকদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের বাধার কারণ চিহ্নিত করে গত রোববার থেকে কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এতে পানি নামতে শুরু করলেও বেড়িবাঁধ ভাঙায় তাদের কপালে চিন্তার ভাজ পড়েছে।

এতে করে উপজেলা পাঁচাকড়ি, বালিদহ, নেহালপুর, লখাইডাঙ্গা, দিঘলিয়া, পোড়াডাঙ্গা নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। তবে, দ্রুতই পানির বন্দীদশা থেকে মুক্তি মিলবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি। জানা যায়, প্রায় ১শ’৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে গেলো বছরের অক্টোবর মাস হতে সেনাবাহিনীর অধীনে খনন কাজ শুরু হয়। ভবদহ সংলগ্ন হরিহর, হরি,তেলেগাতী, আপার ভদ্রা, টেকা ও শ্রী নদী এই খননের আওতায় ছিল।

এরমধ্যে হরি ও তেলেগাতী নদীর ২০ কিলোমিটার এবং টেকা নদীর ৭ কিলোমিটার খনন কাজ শেষ হয়েছে। সরেজমিন গিয়ে চোখে পড়ে ভবদহ স্লুইচগেটের কপাট উঠা-নামা করছে না। আকাশ বৃষ্টি ও উজানের পানি নিষ্কাশনে ৪টি পাম্প দিয়ে সেচ কাজ চলছে এবং আরও ৫টি পাম্প স্থাপনের কাজ চলমান। কিন্তু খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেরার খর্ণিয়া তেলেগাতী নদীর ওপর বাঁধ দিয়ে খনন কাজ করায়, বাঁধের বিপরীতে ৫শ’ থেকে ৬শ’ মিটার দূরে নদীর বুকে পলি জমায় পানি নিস্কাশন বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় এই জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে।

এতে অভয়নগর, মণিরামপুর, কেশবপুর ও ডুমুরিয়া উপজেলার প্রায় ৫০টি গ্রাম সম্পূর্ণ ও আংশিক প্লাবিত হয়েছে। আকস্মিক এই জলাবদ্ধতায় ভাবিয়ে তোলে পাউবোসহ সংশ্লিষ্টদের।

ডুমুরতলা গ্রামের স্কুল শিক্ষক সুশান্ত কুমার বিশ্বাস বলেন, গ্রামের ৫৫টি বাড়ির মধ্যে ৬টি ছাড়া বাকিগুলো পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জী বলেন, কারণ চিহ্নিত করেই সেনাবাহিনীর সাথে কথা বলেই গত রোববার থেকে পলি অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে।