ঢাকা ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তা অঞ্জনা খান মজলিশ: পারিবারিক রাজনীতির বলির পাঁঠা, তবুও নীতিতে দৃঢ় বাঁশখালীতে বন্যাদুর্গতদের টেকসই পুনর্বাসনে বাড়ি বাড়ি জেলা প্রশাসক: দ্রুত নতুন ঘর নির্মাণের আশ্বাস ইনানীর জুম্মাপাড়া পাহাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, প্রধান অতিথি এমপি শাহজাহান চৌধুরী শার্শায় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য নাসির উদ্দীন গ্রেপ্তার শিশুকল্যাণ স্কুলের সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় আবুল কাউছার আশার দু’টি খাল খননের উদ্বৃত্ত ১৭ লাখ টাকা কোষাগারে জমা দিলেন ইউএনও পটিয়ায় মসজিদের জায়গার উপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা নারায়ণগঞ্জে বিভাগীয় কমিশনারের পরিদর্শনকালে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আরও দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছতার সাথে কাজ করা নির্দেশ প্রদান বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা দিল মেয়ে নারায়ণগঞ্জে ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ১০টি চেক বিতরণ

বাঁশখালীতে বন্যাদুর্গতদের টেকসই পুনর্বাসনে বাড়ি বাড়ি জেলা প্রশাসক: দ্রুত নতুন ঘর নির্মাণের আশ্বাস

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৩:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ : চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঠিক পুনর্বাসন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক বাহারছড়া ইউনিয়নের ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোতে যান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে তাদের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। উল্লেখ্য, এসব এলাকায় টানা ৭ থেকে ১০ দিন পানি জমে থাকায় মাটির তৈরি বাড়িগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অধিকাংশই ভেঙে গুড়িয়ে পানিতে মিশে যায়। বর্তমানে অনেক মানুষ চরম জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অর্ধভাঙা ঘরগুলোতে বসবাস করছেন, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

দুর্গত মানুষদের মানবিক পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করে জেলা প্রশাসক গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। পরিদর্শনকালে তিনি কেবল পরিস্থিতি দেখেই ক্ষান্ত হননি, বরং প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের সাথে সরাসরি কথা বলে তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। পরিবারে সদস্য সংখ্যা কত, তারা কী ধরনের পুনর্বাসন চান এবং কোন ধরণের উপকরণ ও ডিজাইনে বাড়ি তৈরি করলে তাদের জন্য সুবিধাজনক হবে—সেসব বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের কাছ থেকে বিস্তারিত মতামত সংগ্রহ করেন।

পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকে নিখুঁত ও বাস্তবসম্মত করতে জেলা প্রশাসক স্থানীয় কাঠমিস্ত্রিদের সাথে কথা বলে নতুন ঘর তৈরির সম্ভাব্য খরচ এবং নির্মাণ উপকরণের মান ও স্থায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত হিসাব বুঝে নেন। নতুন ঘর নির্মাণ করা হলে দুর্গতরা সেখানে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকবেন কিনা—সে বিষয়েও তিনি নিশ্চিত হন। এ সময় তিনি বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ রুহুল আমিন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে পুনর্বাসনের সার্বিক কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর আশস্তবাণী দিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এভাবে জরাজীর্ণ ও অর্ধভাঙা ঘরে বসবাস করা অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকারের পক্ষ থেকে খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের জন্য নিরাপদ ও টেকসই নতুন ঘর নির্মাণ নিশ্চিত করা হবে।

উক্ত সরেজমিন পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের সাথে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনের সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম বিপিএম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দিন।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তা অঞ্জনা খান মজলিশ: পারিবারিক রাজনীতির বলির পাঁঠা, তবুও নীতিতে দৃঢ়

বাঁশখালীতে বন্যাদুর্গতদের টেকসই পুনর্বাসনে বাড়ি বাড়ি জেলা প্রশাসক: দ্রুত নতুন ঘর নির্মাণের আশ্বাস

আপডেট সময় : ০৯:৩৩:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ : চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঠিক পুনর্বাসন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক বাহারছড়া ইউনিয়নের ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোতে যান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে তাদের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। উল্লেখ্য, এসব এলাকায় টানা ৭ থেকে ১০ দিন পানি জমে থাকায় মাটির তৈরি বাড়িগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অধিকাংশই ভেঙে গুড়িয়ে পানিতে মিশে যায়। বর্তমানে অনেক মানুষ চরম জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অর্ধভাঙা ঘরগুলোতে বসবাস করছেন, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

দুর্গত মানুষদের মানবিক পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করে জেলা প্রশাসক গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। পরিদর্শনকালে তিনি কেবল পরিস্থিতি দেখেই ক্ষান্ত হননি, বরং প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের সাথে সরাসরি কথা বলে তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। পরিবারে সদস্য সংখ্যা কত, তারা কী ধরনের পুনর্বাসন চান এবং কোন ধরণের উপকরণ ও ডিজাইনে বাড়ি তৈরি করলে তাদের জন্য সুবিধাজনক হবে—সেসব বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের কাছ থেকে বিস্তারিত মতামত সংগ্রহ করেন।

পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকে নিখুঁত ও বাস্তবসম্মত করতে জেলা প্রশাসক স্থানীয় কাঠমিস্ত্রিদের সাথে কথা বলে নতুন ঘর তৈরির সম্ভাব্য খরচ এবং নির্মাণ উপকরণের মান ও স্থায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত হিসাব বুঝে নেন। নতুন ঘর নির্মাণ করা হলে দুর্গতরা সেখানে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকবেন কিনা—সে বিষয়েও তিনি নিশ্চিত হন। এ সময় তিনি বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ রুহুল আমিন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে পুনর্বাসনের সার্বিক কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর আশস্তবাণী দিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এভাবে জরাজীর্ণ ও অর্ধভাঙা ঘরে বসবাস করা অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকারের পক্ষ থেকে খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের জন্য নিরাপদ ও টেকসই নতুন ঘর নির্মাণ নিশ্চিত করা হবে।

উক্ত সরেজমিন পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের সাথে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনের সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম বিপিএম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দিন।