ঢাকা ০৩:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি শেষে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী বস্ত্রখাতের সমস্যা সমাধানে বাস্তবভিত্তিক সমন্বিত নীতি সহায়তার আহ্বান রাষ্ট্রপতির জনগণের শক্তির ওপর নির্ভর করেই বিএনপি রাজনীতি করে: রুহুল কবির রিজভী রূপগঞ্জে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চুরির অভিযোগে গ্রেফতার-২ টেকনাফে বাল্যবিয়ের আয়োজন, দুই রোহিঙ্গা যুবকের কারাদণ্ড বন্দিদের জন্য মাদকবিরোধী সভা ও গার্মেন্টস প্রশিক্ষণ: ৩ ঘোষণা দিলেন ডিসি মো:রায়হান কবির বরুড়ায় আবু তাহের ফাউন্ডেশনের আন্তঃউপজেলা ফুটবল টুর্নামেন্ট উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে বেনাপোল থেকে দুরপাল্লার আমদানি-রপ্তানি পণ্যের ট্রাকপ্রতি ভাড়া বেড়েছে ৪-৫ হাজার নতুন কুঁড়িতে নিবন্ধনে দেশসেরা চট্টগ্রাম প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিলো সদর উপজেলা প্রশাসন

নারায়ণগঞ্জে ফ্ল্যাটবাসায় স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৩:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ২২৯ বার পড়া হয়েছে

আলোকিত কাগজ প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জ শহরের ভূঁইয়াপাড়া এলাকায় একটি ফ্ল্যাট বাসা থেকে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন মো. হাবিবুল্লাহ শিপলু (৩৫), তার স্ত্রী মোহিনী আক্তার মীম (২৪) এবং চার বছরের ছেলে আফরান। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

‎অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। ফ্ল্যাটের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় নিহতের আত্মীয়দের উপস্থিতিতে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়।

‎তিনি বলেন, “শিপলুকে একটি কক্ষে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখা যায়। অন্য কক্ষে স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ খাটের উপর পড়ে ছিল, তাদের মুখে বালিশ চাপা ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্ত্রী-সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার পর শিপলু আত্মহত্যা করেছেন।”

‎স্থানীয়রা জানান, কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বাসিন্দা হলেও শিপলু শৈশব থেকেই ভূঁইয়াপাড়া এলাকায় বড় হয়েছেন। তিনি বউবাজারে ‘সম্মিলিত সঞ্চয় তহবিল’ নামে একটি সমবায় সমিতির ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। করোনা মহামারীর সময় সমিতির পরিচালক রজমান আলী গ্রাহকদের টাকা নিয়ে পালিয়ে গেলে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরে রজমান র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বের হয়ে আত্মগোপনে চলে যান।

‎ফলে সমিতির গ্রাহকরা টাকা ফেরতের দাবিতে শিপলুর উপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলারও আসামি ছিলেন তিনি। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।

‎নিহতদের পাশের ফ্ল্যাটের এক বাসিন্দা বলেন, “চার মাস আগে পরিবারটি এখানে ভাড়া আসে। সমিতি বন্ধ হওয়ার পর অনেকেই টাকা দাবি করে বাড়িতে আসত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তেমন ঝামেলা হয়নি।”

‎অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী আরও বলেন, “অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের কারণেই হয়তো এ ঘটনা ঘটেছে। তবে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”

‎নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন,“শিপলু ওই সমিতির ম্যানেজার ছিলেন। করোনাকালীন সময়ে সমিতি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর গ্রাহকরা মামলা করেন। তিনি সেই মামলায় হাজিরাও দিয়েছেন। কিন্তু এলাকাতেই থাকায় প্রতিনিয়ত সমিতির পাওনাদাররা তাকে টাকার জন্য চাপ দিতো। এই চাপ ও হতাশার কারণেই হয়তো এমন ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি শেষে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী

নারায়ণগঞ্জে ফ্ল্যাটবাসায় স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা

আপডেট সময় : ১১:৩৩:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আলোকিত কাগজ প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জ শহরের ভূঁইয়াপাড়া এলাকায় একটি ফ্ল্যাট বাসা থেকে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন মো. হাবিবুল্লাহ শিপলু (৩৫), তার স্ত্রী মোহিনী আক্তার মীম (২৪) এবং চার বছরের ছেলে আফরান। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

‎অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। ফ্ল্যাটের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় নিহতের আত্মীয়দের উপস্থিতিতে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়।

‎তিনি বলেন, “শিপলুকে একটি কক্ষে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখা যায়। অন্য কক্ষে স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ খাটের উপর পড়ে ছিল, তাদের মুখে বালিশ চাপা ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্ত্রী-সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার পর শিপলু আত্মহত্যা করেছেন।”

‎স্থানীয়রা জানান, কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বাসিন্দা হলেও শিপলু শৈশব থেকেই ভূঁইয়াপাড়া এলাকায় বড় হয়েছেন। তিনি বউবাজারে ‘সম্মিলিত সঞ্চয় তহবিল’ নামে একটি সমবায় সমিতির ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। করোনা মহামারীর সময় সমিতির পরিচালক রজমান আলী গ্রাহকদের টাকা নিয়ে পালিয়ে গেলে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরে রজমান র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বের হয়ে আত্মগোপনে চলে যান।

‎ফলে সমিতির গ্রাহকরা টাকা ফেরতের দাবিতে শিপলুর উপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলারও আসামি ছিলেন তিনি। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।

‎নিহতদের পাশের ফ্ল্যাটের এক বাসিন্দা বলেন, “চার মাস আগে পরিবারটি এখানে ভাড়া আসে। সমিতি বন্ধ হওয়ার পর অনেকেই টাকা দাবি করে বাড়িতে আসত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তেমন ঝামেলা হয়নি।”

‎অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী আরও বলেন, “অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের কারণেই হয়তো এ ঘটনা ঘটেছে। তবে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”

‎নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন,“শিপলু ওই সমিতির ম্যানেজার ছিলেন। করোনাকালীন সময়ে সমিতি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর গ্রাহকরা মামলা করেন। তিনি সেই মামলায় হাজিরাও দিয়েছেন। কিন্তু এলাকাতেই থাকায় প্রতিনিয়ত সমিতির পাওনাদাররা তাকে টাকার জন্য চাপ দিতো। এই চাপ ও হতাশার কারণেই হয়তো এমন ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”