ঢাকা ১২:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নিজ কার্যালয়ে বিদায়ী ভাষণ দিলেন প্রধান উপদেষ্টা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকায় নির্বাচন প্রশংসিত: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ভালো মন্দ মিলিয়ে দায়িত্বের দেড় বছর শেষ হলো: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা টেকনাফে কোস্ট গার্ড ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে ১৫ জন উদ্ধার বরুড়ায় আলো পাঠাগার কর্তৃক ইফতার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ সিদ্ধিরগঞ্জে নির্মাণাধীন ভবনে নারীর মরদেহ, সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার মন্ত্রীদের জন্য ধানমন্ডিসহ কয়েকটি এলাকায় ৩৭টি বাসা প্রস্তুত: গণপূর্ত উপদেষ্টা শপথ অনুষ্ঠানে থাকছেন ১২শ দেশি-বিদেশি অতিথি টেকনাফে প্রাইভেটকারে ৬ হাজার ইয়াবা উদ্ধার চালক আটক বিয়ের প্রলোভনেশারীরিক সম্পর্ক ও পর্নোগ্রাফির মামলায় চার্জশিট

নারায়ণগঞ্জে ফ্ল্যাটবাসায় স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৩:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৯০ বার পড়া হয়েছে

আলোকিত কাগজ প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জ শহরের ভূঁইয়াপাড়া এলাকায় একটি ফ্ল্যাট বাসা থেকে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন মো. হাবিবুল্লাহ শিপলু (৩৫), তার স্ত্রী মোহিনী আক্তার মীম (২৪) এবং চার বছরের ছেলে আফরান। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

‎অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। ফ্ল্যাটের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় নিহতের আত্মীয়দের উপস্থিতিতে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়।

‎তিনি বলেন, “শিপলুকে একটি কক্ষে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখা যায়। অন্য কক্ষে স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ খাটের উপর পড়ে ছিল, তাদের মুখে বালিশ চাপা ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্ত্রী-সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার পর শিপলু আত্মহত্যা করেছেন।”

‎স্থানীয়রা জানান, কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বাসিন্দা হলেও শিপলু শৈশব থেকেই ভূঁইয়াপাড়া এলাকায় বড় হয়েছেন। তিনি বউবাজারে ‘সম্মিলিত সঞ্চয় তহবিল’ নামে একটি সমবায় সমিতির ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। করোনা মহামারীর সময় সমিতির পরিচালক রজমান আলী গ্রাহকদের টাকা নিয়ে পালিয়ে গেলে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরে রজমান র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বের হয়ে আত্মগোপনে চলে যান।

‎ফলে সমিতির গ্রাহকরা টাকা ফেরতের দাবিতে শিপলুর উপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলারও আসামি ছিলেন তিনি। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।

‎নিহতদের পাশের ফ্ল্যাটের এক বাসিন্দা বলেন, “চার মাস আগে পরিবারটি এখানে ভাড়া আসে। সমিতি বন্ধ হওয়ার পর অনেকেই টাকা দাবি করে বাড়িতে আসত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তেমন ঝামেলা হয়নি।”

‎অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী আরও বলেন, “অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের কারণেই হয়তো এ ঘটনা ঘটেছে। তবে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”

‎নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন,“শিপলু ওই সমিতির ম্যানেজার ছিলেন। করোনাকালীন সময়ে সমিতি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর গ্রাহকরা মামলা করেন। তিনি সেই মামলায় হাজিরাও দিয়েছেন। কিন্তু এলাকাতেই থাকায় প্রতিনিয়ত সমিতির পাওনাদাররা তাকে টাকার জন্য চাপ দিতো। এই চাপ ও হতাশার কারণেই হয়তো এমন ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিজ কার্যালয়ে বিদায়ী ভাষণ দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

নারায়ণগঞ্জে ফ্ল্যাটবাসায় স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা

আপডেট সময় : ১১:৩৩:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আলোকিত কাগজ প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জ শহরের ভূঁইয়াপাড়া এলাকায় একটি ফ্ল্যাট বাসা থেকে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন মো. হাবিবুল্লাহ শিপলু (৩৫), তার স্ত্রী মোহিনী আক্তার মীম (২৪) এবং চার বছরের ছেলে আফরান। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

‎অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। ফ্ল্যাটের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় নিহতের আত্মীয়দের উপস্থিতিতে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়।

‎তিনি বলেন, “শিপলুকে একটি কক্ষে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখা যায়। অন্য কক্ষে স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ খাটের উপর পড়ে ছিল, তাদের মুখে বালিশ চাপা ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্ত্রী-সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার পর শিপলু আত্মহত্যা করেছেন।”

‎স্থানীয়রা জানান, কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বাসিন্দা হলেও শিপলু শৈশব থেকেই ভূঁইয়াপাড়া এলাকায় বড় হয়েছেন। তিনি বউবাজারে ‘সম্মিলিত সঞ্চয় তহবিল’ নামে একটি সমবায় সমিতির ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। করোনা মহামারীর সময় সমিতির পরিচালক রজমান আলী গ্রাহকদের টাকা নিয়ে পালিয়ে গেলে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরে রজমান র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বের হয়ে আত্মগোপনে চলে যান।

‎ফলে সমিতির গ্রাহকরা টাকা ফেরতের দাবিতে শিপলুর উপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলারও আসামি ছিলেন তিনি। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।

‎নিহতদের পাশের ফ্ল্যাটের এক বাসিন্দা বলেন, “চার মাস আগে পরিবারটি এখানে ভাড়া আসে। সমিতি বন্ধ হওয়ার পর অনেকেই টাকা দাবি করে বাড়িতে আসত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তেমন ঝামেলা হয়নি।”

‎অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী আরও বলেন, “অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের কারণেই হয়তো এ ঘটনা ঘটেছে। তবে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”

‎নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন,“শিপলু ওই সমিতির ম্যানেজার ছিলেন। করোনাকালীন সময়ে সমিতি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর গ্রাহকরা মামলা করেন। তিনি সেই মামলায় হাজিরাও দিয়েছেন। কিন্তু এলাকাতেই থাকায় প্রতিনিয়ত সমিতির পাওনাদাররা তাকে টাকার জন্য চাপ দিতো। এই চাপ ও হতাশার কারণেই হয়তো এমন ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”