ঢাকা ০৩:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আমদানি-রপ্তানিসহ কাস্টমস বন্দরের কার্যক্রম শুরু : টানা ছুটি শেষে কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে বেনাপোল বন্দরে যৌতুকের দাবিতে যশোরে গৃহবধূকে হত্যাচেষ্টা, আদালতে মামলার নির্দেশ মাধবপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ল বসতঘর উখিয়ায় পৃথক অভিযানে ২০ হাজার ইয়াবাসহ দুই কারবারি আটক বরুড়ায় বাঁশঝাড়ে গলাকাটা বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার বেনাপোল-যশোর মহাসড়কে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ২ ঈদগাঁওয়ে আলোচিত ডাকাতির ঘটনায় আটক ১ লুন্ঠিত নগদ টাকা ও ব্যবহৃত দা উদ্ধার যশোরে ৫০ পিস ইয়াবাসহ আইনজীবী সহকারী পরিচয়দানকারী মাসুদ ও লাবনী আটক বরুড়ায় চক্ষু চিকিৎসা শিবিরে ৫০০ রোগী, অপারেশনের জন্য নির্বাচিত ৭০ জন দুই বছর পর দেশে ফিরলেন ৬ বাংলাদেশী

পিআর পদ্ধতির নির্বাচনসহ ৫ দফা দাবিতে খুলনা জেলা জামায়াতের স্মারকলিপি পেশ

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০৫:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৬০ বার পড়া হয়েছে

 

গোলাম রব্বানী, স্টাফ রিপোর্টার:পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতিতে নির্বাচনসহ ৫ দফা দাবিতে খুলনা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী খুলনা জেলা শাখা।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার (১২ অক্টোবর) সকালে খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামী নগরীর ডাকবাংলা চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ আয়োজন করে। পরে মিছিলসহকারে নেতৃবৃন্দ খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমানের হাতে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। তিনি জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি নিশ্চিতকরণ, পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন, নির্বাচনে সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নিশ্চিতকরণ, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচার ও নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবিতে জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও নেজামে ইসলাম পার্টির অভিন্ন অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। সরকার গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে এবং সংস্কার কমিশনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, সরকার জুলাই জাতীয় ঘোষণাপত্র ও জুলাই জাতীয় সনদ প্রস্তুত করেছে। জামায়াতে ইসলামী বরাবরই এই সনদকে আইনগত ভিত্তি দেওয়ার পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। দলটি সরকারের কাছে দুইটি প্রস্তাব দিয়েছে—
সংবিধান আদেশ জারি করে জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দেওয়া, গণভোটের মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়ন করা।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে কালো টাকার ব্যবহার, ভোটকেন্দ্র দখল, পেশিশক্তি প্রদর্শন ও অনিয়ম বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে। অধিকাংশ রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি সমর্থন করেছেন।

জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, অতীতের সরকারগুলো সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনীতিকরণ করে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে। তাই জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশকে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তরের আহ্বান জানানো হয়।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা কবিরুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য মাস্টার শফিকুল আলম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও খুলনা মহানগর আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান।

সমাবেশ পরিচালনা করেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন খুলনা জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, মহানগর সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট শাহ আলম, প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম, গাউসুল আযম হাদী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজী, মহানগর ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাকিব হাসান, জেলা সেক্রেটারি ইলিয়াস হোসাইন প্রমুখ।

এছাড়া জেলা কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, আশরাফুল আলম, স. ম. এনামুল হক, হাফেজ আমিনুল ইসলাম, বিভিন্ন উপজেলা আমীর ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

আমদানি-রপ্তানিসহ কাস্টমস বন্দরের কার্যক্রম শুরু : টানা ছুটি শেষে কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে বেনাপোল বন্দরে

পিআর পদ্ধতির নির্বাচনসহ ৫ দফা দাবিতে খুলনা জেলা জামায়াতের স্মারকলিপি পেশ

আপডেট সময় : ০৩:০৫:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫

 

গোলাম রব্বানী, স্টাফ রিপোর্টার:পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতিতে নির্বাচনসহ ৫ দফা দাবিতে খুলনা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী খুলনা জেলা শাখা।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার (১২ অক্টোবর) সকালে খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামী নগরীর ডাকবাংলা চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ আয়োজন করে। পরে মিছিলসহকারে নেতৃবৃন্দ খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমানের হাতে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। তিনি জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি নিশ্চিতকরণ, পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন, নির্বাচনে সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নিশ্চিতকরণ, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচার ও নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবিতে জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও নেজামে ইসলাম পার্টির অভিন্ন অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। সরকার গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে এবং সংস্কার কমিশনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, সরকার জুলাই জাতীয় ঘোষণাপত্র ও জুলাই জাতীয় সনদ প্রস্তুত করেছে। জামায়াতে ইসলামী বরাবরই এই সনদকে আইনগত ভিত্তি দেওয়ার পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। দলটি সরকারের কাছে দুইটি প্রস্তাব দিয়েছে—
সংবিধান আদেশ জারি করে জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দেওয়া, গণভোটের মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়ন করা।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে কালো টাকার ব্যবহার, ভোটকেন্দ্র দখল, পেশিশক্তি প্রদর্শন ও অনিয়ম বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে। অধিকাংশ রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি সমর্থন করেছেন।

জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, অতীতের সরকারগুলো সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনীতিকরণ করে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে। তাই জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশকে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তরের আহ্বান জানানো হয়।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা কবিরুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য মাস্টার শফিকুল আলম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও খুলনা মহানগর আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান।

সমাবেশ পরিচালনা করেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন খুলনা জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, মহানগর সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট শাহ আলম, প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম, গাউসুল আযম হাদী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজী, মহানগর ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাকিব হাসান, জেলা সেক্রেটারি ইলিয়াস হোসাইন প্রমুখ।

এছাড়া জেলা কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, আশরাফুল আলম, স. ম. এনামুল হক, হাফেজ আমিনুল ইসলাম, বিভিন্ন উপজেলা আমীর ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।