ঢাকা ০৩:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল ‘দামি ইনজেকশন কিনতে গরিবের হিমশিম’

মনির হোসেন, যশোর জেলা : যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসায় দামি ইনজেকশন কিনতে গিয়ে গরিব রোগীর স্বজনেরা হিমশিম খাচ্ছে। এমনকি ভর্তির পর ওষুধ কিনতে না পারায় অনেক রোগীর যথাযথ চিকিৎসা মিলছে না।

হাসপাতাল থেকে সরকারের সরবরাহকৃত বিনামূল্যে দামি ইনজেকশন না পাওয়ার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, যশোরসহ আশপাশের কয়েকটি জেলা ও উপজেলার রোগীদের আশা ভরসার স্থল হলো যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল । সরকারি এই স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠনে প্রতিদিন দ্বিগুনের বেশি রোগী ভর্তি থাকেন।

বহির্বিভাগে গড় চিকিৎসা সেবা নেন ৯ শ থেকে ১ হাজার রোগী। স্বনামধন্য এই হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত পাওয়ায় যশোরসহ নড়াইল, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, মাগুরা জেলার মানুষ চিকিৎসা নিতে এখানে আসেন। উদ্দেশ্য একটাই অল্প খরচে উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়া। মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে এই হাসপাতালে ৮৪ প্রকারের ওষুধ সরবরাহ কর হয়। এর মধ্যে ইডিসিএল ৪৪ প্রকার ও স্বাস্থ্য অধিদফতর ও স্থানীয় অর্থে টেন্ডারের মাধ্যমে অবশিষ্ট ৪০ প্রকার ওষুধ কর্তৃপক্ষ ক্রয় করে।কিন্তু বর্তমান সময়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের সংকট চলছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভর্তি রোগীদের চিকিৎসার জন্য অধিকাংশ ইনজেকশন বাইরে কিনে আনতে হয়। বিনামূল্যের ইনজেকশন ঠিক মতো দেয়া হয়না। বাইরে থেকে কেনার জন্য স্লিপ করে দেয়া হচ্ছে। ইনজেকশন মেরোপেনাম ১ গ্রাম, এনোক্সাপ্যারিন,সেফুরক্সিম ৭৫০ এমজি, সেফট্রিঅ্যাকসন, ওমেপ্রাজল ও ম্যাটরোনিডাজল রোগীর চিকিৎসার জন্য কিনে আনছেন স্বজনরা। সরকারি এ হাসপাতালে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত রোগীরাই ভর্তি হয়। মূল্যবান ইনজেকশন কিনতে গিয়ে রোগীর স্বজনেরা হাফিয়ে উঠছেন।

রফিকুল ইসলাম নামে এক রোগীর স্বজন জানান, ভর্তির পর থেকে প্রতিদিন ১১/১২শ’ টাকার ওষুধ ইনজেকশন কিনতে হচ্ছে। হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে দামি কোন ইনজেকশন দেয়া হচ্ছে না। গ্যাসের ইনজেকশন পর্যন্ত কিনে আনতে হচ্ছে। এক রোগীর মা পারভীনা খাতুন জানান, হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে বিনামূল্যে কোন ইনজেকশন পাননি। সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে।

ওইদুল ইসলাম নামে একজন জানান, তার স্বজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কিন্তু প্রতিদিন দুইটা করে সেফট্রিঅ্যাকসোন এবং ওমেপ্রাজল ইনজেকশন কিনতে হচ্ছে। বিনামূল্যের এসব ইনজেকশন দেয়া হচ্ছেনা। এছাড়া অন্যান্য ওষুধ সামগ্রী তো আছেই।
করোনারি কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন রোগীর স্বজনরা জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য নাভির ইনজেকশন (এনোক্সাপ্যারিন) বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। ওয়ার্ড থেকে বিনামূল্যে ইনজেকশ পাননি। প্রতিদিন ইনজেকশন কিনতে গিয়ে গরিব রোগীর স্বজনদের হাপিত্যেশ অবস্থা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ওয়ার্ড ইনচার্জ সেবিকা জানান, অধিকাংশ ইনজেকশন সরবরাহ বন্ধ। তাই রোগীদের দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। সরবরাহ থাকাকালে রোগীদের যথাসাধ্য ওষুধ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

হাসপাতালের স্টোর কিপার গৌতম কুমার বলেন, রোগীর তুলনায় ইনজেকশন সরবরাহ অনেক কম। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগে শেষ হয়ে যায়। এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) ইনজেকশন সরবরাহ না করার কারণে সংকট তৈরি হয়েছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, বিনামূল্যের কিছু ইনজেকশন শেষ হয়ে গেছে। যে কারণে কিছুটা সংকট দেখা দিয়েছে। খুব শিগগির এই সংকট কেটে যাবে বলে তিনি জানান ।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

পরিচ্ছন্নতা অভিযান যশোরে উদ্বোধন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর

যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল ‘দামি ইনজেকশন কিনতে গরিবের হিমশিম’

আপডেট সময় : ০১:৫০:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

মনির হোসেন, যশোর জেলা : যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসায় দামি ইনজেকশন কিনতে গিয়ে গরিব রোগীর স্বজনেরা হিমশিম খাচ্ছে। এমনকি ভর্তির পর ওষুধ কিনতে না পারায় অনেক রোগীর যথাযথ চিকিৎসা মিলছে না।

হাসপাতাল থেকে সরকারের সরবরাহকৃত বিনামূল্যে দামি ইনজেকশন না পাওয়ার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, যশোরসহ আশপাশের কয়েকটি জেলা ও উপজেলার রোগীদের আশা ভরসার স্থল হলো যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল । সরকারি এই স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠনে প্রতিদিন দ্বিগুনের বেশি রোগী ভর্তি থাকেন।

বহির্বিভাগে গড় চিকিৎসা সেবা নেন ৯ শ থেকে ১ হাজার রোগী। স্বনামধন্য এই হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত পাওয়ায় যশোরসহ নড়াইল, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, মাগুরা জেলার মানুষ চিকিৎসা নিতে এখানে আসেন। উদ্দেশ্য একটাই অল্প খরচে উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়া। মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে এই হাসপাতালে ৮৪ প্রকারের ওষুধ সরবরাহ কর হয়। এর মধ্যে ইডিসিএল ৪৪ প্রকার ও স্বাস্থ্য অধিদফতর ও স্থানীয় অর্থে টেন্ডারের মাধ্যমে অবশিষ্ট ৪০ প্রকার ওষুধ কর্তৃপক্ষ ক্রয় করে।কিন্তু বর্তমান সময়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের সংকট চলছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভর্তি রোগীদের চিকিৎসার জন্য অধিকাংশ ইনজেকশন বাইরে কিনে আনতে হয়। বিনামূল্যের ইনজেকশন ঠিক মতো দেয়া হয়না। বাইরে থেকে কেনার জন্য স্লিপ করে দেয়া হচ্ছে। ইনজেকশন মেরোপেনাম ১ গ্রাম, এনোক্সাপ্যারিন,সেফুরক্সিম ৭৫০ এমজি, সেফট্রিঅ্যাকসন, ওমেপ্রাজল ও ম্যাটরোনিডাজল রোগীর চিকিৎসার জন্য কিনে আনছেন স্বজনরা। সরকারি এ হাসপাতালে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত রোগীরাই ভর্তি হয়। মূল্যবান ইনজেকশন কিনতে গিয়ে রোগীর স্বজনেরা হাফিয়ে উঠছেন।

রফিকুল ইসলাম নামে এক রোগীর স্বজন জানান, ভর্তির পর থেকে প্রতিদিন ১১/১২শ’ টাকার ওষুধ ইনজেকশন কিনতে হচ্ছে। হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে দামি কোন ইনজেকশন দেয়া হচ্ছে না। গ্যাসের ইনজেকশন পর্যন্ত কিনে আনতে হচ্ছে। এক রোগীর মা পারভীনা খাতুন জানান, হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে বিনামূল্যে কোন ইনজেকশন পাননি। সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে।

ওইদুল ইসলাম নামে একজন জানান, তার স্বজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কিন্তু প্রতিদিন দুইটা করে সেফট্রিঅ্যাকসোন এবং ওমেপ্রাজল ইনজেকশন কিনতে হচ্ছে। বিনামূল্যের এসব ইনজেকশন দেয়া হচ্ছেনা। এছাড়া অন্যান্য ওষুধ সামগ্রী তো আছেই।
করোনারি কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন রোগীর স্বজনরা জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য নাভির ইনজেকশন (এনোক্সাপ্যারিন) বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। ওয়ার্ড থেকে বিনামূল্যে ইনজেকশ পাননি। প্রতিদিন ইনজেকশন কিনতে গিয়ে গরিব রোগীর স্বজনদের হাপিত্যেশ অবস্থা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ওয়ার্ড ইনচার্জ সেবিকা জানান, অধিকাংশ ইনজেকশন সরবরাহ বন্ধ। তাই রোগীদের দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। সরবরাহ থাকাকালে রোগীদের যথাসাধ্য ওষুধ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

হাসপাতালের স্টোর কিপার গৌতম কুমার বলেন, রোগীর তুলনায় ইনজেকশন সরবরাহ অনেক কম। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগে শেষ হয়ে যায়। এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) ইনজেকশন সরবরাহ না করার কারণে সংকট তৈরি হয়েছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, বিনামূল্যের কিছু ইনজেকশন শেষ হয়ে গেছে। যে কারণে কিছুটা সংকট দেখা দিয়েছে। খুব শিগগির এই সংকট কেটে যাবে বলে তিনি জানান ।