ঢাকা ০২:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জনতা ব্যাংকে নিয়মিত পদোন্নতির পাশাপাশি সুপারনিউমারারি পদোন্নতির দাবি আবারও সভাপতি সালাউদ্দিন, নেপালকে আল্টিমেটাম সালমান-সঞ্জয়ের বন্ধুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মুগ্ধ নেটদুনিয়া জোরপূর্বক প্রিপেইড মিটার স্থাপনের প্রতিবাদে এমপি আলামিনকে নাগরিক অধিকার ফোরামের স্মারকলিপি পটিয়ায় কলা চুরির প্রতিবাদ করায় এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১ ইরানে ‘খুব কঠোর’ হামলা চালানোর হুমকি ট্রাম্পের বর্তমান সংসদের দিকে তাকিয়ে আছে দেশের ১৮ কোটি মানুষ : ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কেলিশহর ইউনিয়ন’কে মাদক ও  সন্রাস  মুক্ত করতে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে ফের আলোচনায় জসিম উদ্দিন মাষ্টার  উখিয়া সীমান্তে ২৪ ঘণ্টায় ১ লাখ ৭০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, পাচারকারীরা পালিয়েছে রামগড় কৃষি গবেষনা কেন্দ্রের ৩০ শ্রমিক-১২ আনসারের নিরাপত্তার মাঝেও সেগুন গাছ চুরি!

রামগড় কৃষি গবেষনা কেন্দ্রের ৩০ শ্রমিক-১২ আনসারের নিরাপত্তার মাঝেও সেগুন গাছ চুরি!

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪২:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৭২ বার পড়া হয়েছে

সাইফুল ইসলাম, রামগড়: খাগড়াছড়ির রামগড় পাহাড় অঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে একটি সেগুন গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি এই গবেষণা কেন্দ্রে প্রায় ৩০ জন শ্রমিক ও ১২ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। এর পাশাপাশি গবেষণা কেন্দ্রের কাছেই রয়েছে বিজিবির চেকপোস্ট। এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও কীভাবে একটি বড় সেগুন গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হলো, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

গবেষণা কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বাগানের একটি সেগুন গাছ কাটা হয়েছে। তবে গাছ কাটার সময় দায়িত্বরত শ্রমিক, আনসার সদস্য কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্য কেউ ঘটনাটি টের পাননি বলে দাবি করেছেন।৩১ জুলাই (শুক্রবার) সকালে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটার সত্যতা দেখতে পান। এবং গাছের কিছু অংশ উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়।

ঘটনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে—এতজন শ্রমিক ও আনসার সদস্যের উপস্থিতি এবং পাশেই বিজিবির চেকপোস্ট থাকা সত্ত্বেও কারা বাগানে ঢুকে গাছটি কাটল? কীভাবে গাছ কেটে তা গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো? নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কারও নজরে ঘটনাটি না আসার কারণই বা কী—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, সকাল ৭টার দিকে বাগানের দিক থেকে একটি গাড়িতে গাছ নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তারা দেখতে পান। তাদের ভাষ্য, গাছটি কেটে নিয়ে যাওয়ার পরই ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়। তবে কারা ওই গাছ কেটে নিয়ে গেছে এবং তাদের সঙ্গে বাগানের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে গবেষণা কেন্দ্রের সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখানে একটি সেগুন গাছ কাটা অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে গাছ কাটার সঙ্গে কারা জড়িত, কখন গাছটি কাটা হয়েছে এবং কীভাবে তা বাগান থেকে বের করে নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও ২০২৩ সালে রামগড় পাহাড় অঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের গাছ কেটে বিক্রির ঘটনা নিয়ে আলোচনা ও অভিযোগ উঠেছিল। সরকারি বাগান থেকে বারবার গাছ কাটার অভিযোগ থাকলেও এসব ঘটনায় দাপ্তরিকভাবে কী ধরনের তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ফলে নতুন করে সেগুন গাছ কাটার ঘটনায় আগের ঘটনাগুলোর বিষয়ও সামনে এসেছে।

এ বিষয়ে রামগড় পাহাড় অঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ এমদাদুল হক বলেন, তিনি বর্তমানে স্টেশনের বাইরে রয়েছেন। গাছ কাটার বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে অবগত ছিলেন না। তবে বিষয়টি জানতে পেরে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

জনতা ব্যাংকে নিয়মিত পদোন্নতির পাশাপাশি সুপারনিউমারারি পদোন্নতির দাবি

রামগড় কৃষি গবেষনা কেন্দ্রের ৩০ শ্রমিক-১২ আনসারের নিরাপত্তার মাঝেও সেগুন গাছ চুরি!

আপডেট সময় : ০৯:৪২:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

সাইফুল ইসলাম, রামগড়: খাগড়াছড়ির রামগড় পাহাড় অঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে একটি সেগুন গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি এই গবেষণা কেন্দ্রে প্রায় ৩০ জন শ্রমিক ও ১২ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। এর পাশাপাশি গবেষণা কেন্দ্রের কাছেই রয়েছে বিজিবির চেকপোস্ট। এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও কীভাবে একটি বড় সেগুন গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হলো, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

গবেষণা কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বাগানের একটি সেগুন গাছ কাটা হয়েছে। তবে গাছ কাটার সময় দায়িত্বরত শ্রমিক, আনসার সদস্য কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্য কেউ ঘটনাটি টের পাননি বলে দাবি করেছেন।৩১ জুলাই (শুক্রবার) সকালে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটার সত্যতা দেখতে পান। এবং গাছের কিছু অংশ উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়।

ঘটনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে—এতজন শ্রমিক ও আনসার সদস্যের উপস্থিতি এবং পাশেই বিজিবির চেকপোস্ট থাকা সত্ত্বেও কারা বাগানে ঢুকে গাছটি কাটল? কীভাবে গাছ কেটে তা গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো? নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কারও নজরে ঘটনাটি না আসার কারণই বা কী—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, সকাল ৭টার দিকে বাগানের দিক থেকে একটি গাড়িতে গাছ নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তারা দেখতে পান। তাদের ভাষ্য, গাছটি কেটে নিয়ে যাওয়ার পরই ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়। তবে কারা ওই গাছ কেটে নিয়ে গেছে এবং তাদের সঙ্গে বাগানের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে গবেষণা কেন্দ্রের সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখানে একটি সেগুন গাছ কাটা অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে গাছ কাটার সঙ্গে কারা জড়িত, কখন গাছটি কাটা হয়েছে এবং কীভাবে তা বাগান থেকে বের করে নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও ২০২৩ সালে রামগড় পাহাড় অঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের গাছ কেটে বিক্রির ঘটনা নিয়ে আলোচনা ও অভিযোগ উঠেছিল। সরকারি বাগান থেকে বারবার গাছ কাটার অভিযোগ থাকলেও এসব ঘটনায় দাপ্তরিকভাবে কী ধরনের তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ফলে নতুন করে সেগুন গাছ কাটার ঘটনায় আগের ঘটনাগুলোর বিষয়ও সামনে এসেছে।

এ বিষয়ে রামগড় পাহাড় অঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ এমদাদুল হক বলেন, তিনি বর্তমানে স্টেশনের বাইরে রয়েছেন। গাছ কাটার বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে অবগত ছিলেন না। তবে বিষয়টি জানতে পেরে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।