ঢাকা ০৬:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিলেটে সুরমা নদীর তীরে সৌন্দর্যবর্ধন ও বন্যা প্রতিরোধ প্রকল্পের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর ঈদের দিন প্রধানমন্ত্রী প্রথম আলোর প্রতিবেদন পাঠিয়ে তনু হত্যা মামলার অগ্রগতি জানতে চান: আইনমন্ত্রী প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সম্পর্কিত ভুয়া অনুমতিপত্র বিষয়ে সতর্কীকরণ আড়াইহাজারে বর্ণাঢ্য আয়োজনে “দৈনিক দেশ রূপান্তর” এর ৭ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত টেকনাফে র‍্যাব-১৫ এর অভিযানে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার মরিচ্যায় ‘ইউনিফর্মের আড়ালে’ মাদক: এপিবিএন সদস্যের ব্যাগে ২০ হাজার ইয়াবা চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি : মির্জা ফখরুল আসন্ন পটিয়া পৌরসভা নির্বাচনে ৫ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হবেন রাসেল মে’ দিবসে বেনাপোলে বন্দর শ্রমিক ইউনিয়ন-৯২৫ এবং ৮৯১ এর বর্ণাঢ্য র‍্যালি শ্রমিক জাগরণ মঞ্চের ১৪০ তম আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস পালিত

ভোলায় সুপারির বাম্পার ফলনে চাষিদের মুখে হাসি, গ্রামীণ অর্থনীতিতে সুদিন, ১২ হাজার হেক্টর জমিতে বাগান

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২৫:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ১০৮ বার পড়া হয়েছে

ভোলা প্রতিনিধি: ভোলার সদর উপজেলা সহ বোরহানউদ্দিন, তজুমদ্দিন, লালমোহন ও চরফ্যাশন উপজেলার গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে সুপারি। এ উপজেলা গুলোতে ধান ও শাকসবজির পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে বিশাল সুপারি বাগান, এছাড়াও বাড়ির আঙিনা, বাগানবাড়ি ও পতিত জমিতে সারি সারি সুপারি গাছ দেখা যাচ্ছে। সুপারি গাছের চারা একবার রোপণ করলে দীর্ঘদিন ফলন পাওয়া যায়।

তুলনামূলকভাবে কম খরচে চাষ করা যায় এবং বাজারে সুপারির চাহিদাও অনেক বেশি। যার ফলে স্থানীয় অনেক পাইকাররা গ্রামে গ্রামে ঘুরে সুপারি কেনেন। এতে চাষিদের সুপারি বিক্রিতে কোনো ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয় না।

চলতি মৌসুমে এই উপজেলা গুলোতে সুপারির ব্যাপক বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানে বাজারে আকারভেদে প্রতি বি (৩২০ পিস) সুপারি ৩০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এতে খুশি চাষিরা, জেলার এসব সুপারি ঢাকা, চট্টগ্রাম, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, রংপুর ও কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্নস্থানে রপ্তানি করা হয়।

বর্তমানে ভোলা জেলার উপজেলা গুলোর ছোট বড় সবগুলো বাজারে সুপারির বেচাকেনা জমজমাট। এর মধ্যে ভোলা সদরের ইলিশা হাট, জংশন বাজার, তুলাতুলি বাজার, পরীরহাট, কলপাড় বাজার, বোরহানউদ্দিন উপজেলার সিকদার হাট বাজার, বোরহানগঞ্জ বাজার, মনিরাম বাজার, কুঞ্জের হাট বাজার, লালমোহন উপজেলার গজারিয়া, কর্তারহাট, লর্ডহাডিঞ্জ, নাজিরপুর, মঙ্গলসিকদার, চতলা, রায়চাঁদ, ডাওরী, তজুমদ্দিন উপজেলার তজুমদ্দিন সদর, চাঁদপুর বাজার, সোনাপুর বাজার, খাসেরহাট, গুরিন্ধা বাজার, চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট, চেয়ারম্যান বাজার, দক্ষিণ আইচা বাজার, নীলকমল বাজার, পাচকপাট বাজার, মাইনকা বাজার, উল্লেখযোগ্য। এসব বাজার থেকে স্থানীয় আড়তদাররা চাষিদের থেকে সুপারি কিনে জেলা শহরের আড়ত গুলোতে বিক্রি করে।

ভোলা সদরের পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের চাষি মো. পারভেজ বলেন, আমাদের প্রায় ২১০ শতাংশ জমিতে সুপারির বাগান রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় দ্বিগুণের বেশি সুপারি হয়েছে। তবে ফলন কিছুটা ছোট। বাজারেও দাম গত বছরের তুলনায় কম। তবে ফলন বেশি হওয়ায় এ মৌসুমেও সুপারি বিক্রি করে অনেকটা লাভবান হবো।

বোরহানউদ্দিনের সিকদার হাট বাজারের মেসার্স বাবুল ভাণ্ডারের মালিক মোঃ বাবুল বলেন, পুরো জেলায় প্রায় ৩০০টি সুপারির আড়ত রয়েছে। প্রতি বছর আশ্বিন, কার্তিক ও অগ্রহায়ণ এই তিন মাস মূলত সুপারি বেচাকেনা হয়। বাগান থেকে চাষিরা পাকা সুপারি বাজারে এনে বিক্রি করেন। আড়তদাররা সুপারি কেনার পর পাকা সুপারিকে চালান করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। এ ছাড়াও সুপারি ভিজিয়ে এবং শুকিয়ে পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। বোরহানউদ্দিনে বর্তমানে দৈনিক অন্তত ৫০/৬০ লাখ টাকার মতো সুপারি বেচাকেনা হয়।

চাষি মোঃ মহসিন সিকদার বলেন, এ বছর সুপারির ফলন বেশি হওয়ায় দাম গত বছরের চেয়ে কিছুটা কম। তবে ফলন বেশি হওয়ায় চাষিরা কাঙ্ক্ষিত লাভের মুখ দেখছেন। বর্তমানে আকারভেদে ১বি (৩২০ পিস) ৫০০ টাকা, মাঝারি ৪৫০ টাকা, ছোটোগুলো ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ভোলা জেলার উপ-পরিচালক মোঃ খায়রুল ইসলাম মল্লিক বলেন, এ বছর জেলায় বাগান আকারে সুপারি চাষ করা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে। তবে এর বাহির ও কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে সুপারির আবাদ হয়। এবছর প্রচুর সুপারির ফলন হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর দুই থেকে তিনগুণ বেশি সুপারির উৎপাদন হয়েছে। এবার সুপারিতে পোকার আক্রমণও নেই। অনুকূল আবহাওয়া থাকায় এ অঞ্চলে সুপারির ফলন অত্যধিক ভালো হয়েছে। যা দেখে এলাকার মানুষ সুপারি চাষে আরো আগ্রহী হবেন বলে মনে করছি। এ ছাড়া লাভজনক হওয়ায় সুপারি গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখছে।

অপরদিকে স্থানীয় কৃষি সচেতন ব্যক্তিরা মনে করছেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে আগামী কয়েক বছরে সুপারি জেলার গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হবে। কারণ ধান চাষে যেমন খরচ বেশি, তেমন ঝুঁকিও থাকে। কিন্তু সুপারিতে একবার পরিশ্রম করলেই বছরের পর বছর লাভ আসতে থাকে।

 

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিলেটে সুরমা নদীর তীরে সৌন্দর্যবর্ধন ও বন্যা প্রতিরোধ প্রকল্পের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

ভোলায় সুপারির বাম্পার ফলনে চাষিদের মুখে হাসি, গ্রামীণ অর্থনীতিতে সুদিন, ১২ হাজার হেক্টর জমিতে বাগান

আপডেট সময় : ১২:২৫:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫

ভোলা প্রতিনিধি: ভোলার সদর উপজেলা সহ বোরহানউদ্দিন, তজুমদ্দিন, লালমোহন ও চরফ্যাশন উপজেলার গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে সুপারি। এ উপজেলা গুলোতে ধান ও শাকসবজির পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে বিশাল সুপারি বাগান, এছাড়াও বাড়ির আঙিনা, বাগানবাড়ি ও পতিত জমিতে সারি সারি সুপারি গাছ দেখা যাচ্ছে। সুপারি গাছের চারা একবার রোপণ করলে দীর্ঘদিন ফলন পাওয়া যায়।

তুলনামূলকভাবে কম খরচে চাষ করা যায় এবং বাজারে সুপারির চাহিদাও অনেক বেশি। যার ফলে স্থানীয় অনেক পাইকাররা গ্রামে গ্রামে ঘুরে সুপারি কেনেন। এতে চাষিদের সুপারি বিক্রিতে কোনো ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয় না।

চলতি মৌসুমে এই উপজেলা গুলোতে সুপারির ব্যাপক বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানে বাজারে আকারভেদে প্রতি বি (৩২০ পিস) সুপারি ৩০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এতে খুশি চাষিরা, জেলার এসব সুপারি ঢাকা, চট্টগ্রাম, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, রংপুর ও কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্নস্থানে রপ্তানি করা হয়।

বর্তমানে ভোলা জেলার উপজেলা গুলোর ছোট বড় সবগুলো বাজারে সুপারির বেচাকেনা জমজমাট। এর মধ্যে ভোলা সদরের ইলিশা হাট, জংশন বাজার, তুলাতুলি বাজার, পরীরহাট, কলপাড় বাজার, বোরহানউদ্দিন উপজেলার সিকদার হাট বাজার, বোরহানগঞ্জ বাজার, মনিরাম বাজার, কুঞ্জের হাট বাজার, লালমোহন উপজেলার গজারিয়া, কর্তারহাট, লর্ডহাডিঞ্জ, নাজিরপুর, মঙ্গলসিকদার, চতলা, রায়চাঁদ, ডাওরী, তজুমদ্দিন উপজেলার তজুমদ্দিন সদর, চাঁদপুর বাজার, সোনাপুর বাজার, খাসেরহাট, গুরিন্ধা বাজার, চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট, চেয়ারম্যান বাজার, দক্ষিণ আইচা বাজার, নীলকমল বাজার, পাচকপাট বাজার, মাইনকা বাজার, উল্লেখযোগ্য। এসব বাজার থেকে স্থানীয় আড়তদাররা চাষিদের থেকে সুপারি কিনে জেলা শহরের আড়ত গুলোতে বিক্রি করে।

ভোলা সদরের পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের চাষি মো. পারভেজ বলেন, আমাদের প্রায় ২১০ শতাংশ জমিতে সুপারির বাগান রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় দ্বিগুণের বেশি সুপারি হয়েছে। তবে ফলন কিছুটা ছোট। বাজারেও দাম গত বছরের তুলনায় কম। তবে ফলন বেশি হওয়ায় এ মৌসুমেও সুপারি বিক্রি করে অনেকটা লাভবান হবো।

বোরহানউদ্দিনের সিকদার হাট বাজারের মেসার্স বাবুল ভাণ্ডারের মালিক মোঃ বাবুল বলেন, পুরো জেলায় প্রায় ৩০০টি সুপারির আড়ত রয়েছে। প্রতি বছর আশ্বিন, কার্তিক ও অগ্রহায়ণ এই তিন মাস মূলত সুপারি বেচাকেনা হয়। বাগান থেকে চাষিরা পাকা সুপারি বাজারে এনে বিক্রি করেন। আড়তদাররা সুপারি কেনার পর পাকা সুপারিকে চালান করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। এ ছাড়াও সুপারি ভিজিয়ে এবং শুকিয়ে পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। বোরহানউদ্দিনে বর্তমানে দৈনিক অন্তত ৫০/৬০ লাখ টাকার মতো সুপারি বেচাকেনা হয়।

চাষি মোঃ মহসিন সিকদার বলেন, এ বছর সুপারির ফলন বেশি হওয়ায় দাম গত বছরের চেয়ে কিছুটা কম। তবে ফলন বেশি হওয়ায় চাষিরা কাঙ্ক্ষিত লাভের মুখ দেখছেন। বর্তমানে আকারভেদে ১বি (৩২০ পিস) ৫০০ টাকা, মাঝারি ৪৫০ টাকা, ছোটোগুলো ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ভোলা জেলার উপ-পরিচালক মোঃ খায়রুল ইসলাম মল্লিক বলেন, এ বছর জেলায় বাগান আকারে সুপারি চাষ করা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে। তবে এর বাহির ও কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে সুপারির আবাদ হয়। এবছর প্রচুর সুপারির ফলন হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর দুই থেকে তিনগুণ বেশি সুপারির উৎপাদন হয়েছে। এবার সুপারিতে পোকার আক্রমণও নেই। অনুকূল আবহাওয়া থাকায় এ অঞ্চলে সুপারির ফলন অত্যধিক ভালো হয়েছে। যা দেখে এলাকার মানুষ সুপারি চাষে আরো আগ্রহী হবেন বলে মনে করছি। এ ছাড়া লাভজনক হওয়ায় সুপারি গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখছে।

অপরদিকে স্থানীয় কৃষি সচেতন ব্যক্তিরা মনে করছেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে আগামী কয়েক বছরে সুপারি জেলার গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হবে। কারণ ধান চাষে যেমন খরচ বেশি, তেমন ঝুঁকিও থাকে। কিন্তু সুপারিতে একবার পরিশ্রম করলেই বছরের পর বছর লাভ আসতে থাকে।