এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন ইসদাইর বুড়ির দোকান এলাকা একসময় সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু ও কোমর পানিতে তলিয়ে যেত। বর্ষা মৌসুম এলেই দুর্ভোগ যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়াতো স্থানীয়দের জন্য। জলাবদ্ধতার কারণে রাস্তা-ঘাট ডুবে যাওয়া, চলাচলে বিঘ্ন, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা— সব মিলিয়ে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হতো এলাকাবাসীকে।
এই জনদুর্ভোগ লাঘবে নারায়ণগঞ্জ জেলা তাঁতী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মোঃ সিদ্দিকুর রহমান উজ্জল বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতা নিরসনে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। ভরাট হয়ে যাওয়া খাল বেকু দিয়ে খনন করে পুনরায় সচল করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন দিনরাত। দখল হয়ে যাওয়া অনেক খাল উদ্ধার করে খনন করেছেন।
উজ্জল সবসময়ই এলাকার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে আলাপ-আলোচনা করে তাদের কাছ থেকে বুদ্ধি-পরামর্শ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তার এই কার্যক্রমের কারণে দীর্ঘদিনের সেই দুর্ভোগ থেকে অবশেষে অনেকাংশেই মুক্তি পেয়েছেন ইসদাইর ও আশেপাশের এলাকার বাসিন্দারা।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের সাথে উজ্জ্বল ও স্থানীয় মুরুব্বিদের নিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খননের জন্য আবেদন করেন এবং জলাবদ্ধতার নিরসন নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেন। জেলা পরিষদের প্রশাসক মামুন মাহমুদ সাথে সাথে সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট স্থান পরিদর্শন করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
তিনি তাঁতী দল নেতা সিদ্দিকুর রহমান উজ্জলের নেতৃত্বে জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খননসহ দখল হওয়া খাল মুক্ত করে এলাকায় খাল খননের কাজ সম্পন্ন করতে বলেন এবং আশ্বাস দেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে জেলা পরিষদ সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
জেলা পরিষদের প্রশাসকের সহযোগিতা পেয়ে ইসদাইরের জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজ দুর্দান্ত গতিতে দিনরাত পরিশ্রম করে উজ্জল দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছেন।
সর্বশেষ টানা দুই দিনের বৃষ্টিতেও ইসদাইর বুড়ির দোকান এলাকা ও আশেপাশে কোথাও পানি জমে থাকতে দেখা যায়নি। বৃষ্টি থামার পরপরই দ্রুত পানি নেমে গেছে, যা স্থানীয়দের কাছে স্বস্তির বার্তা হয়ে এসেছে। খাল খননের ফলে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি হওয়ায় পানি নিষ্কাশন এখন অনেকটাই সহজ হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, আগে অল্প বৃষ্টিতেই হাঁটু পানি জমে যেত, বাড়ি থেকে বের হওয়া ছিল কষ্টকর। শিশু ও বৃদ্ধদের চলাচল ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু এখন সেই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হয়েছে। তারা প্রশাসক মামুন মাহমুদ ও সিদ্দিকুর রহমান উজ্জলের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, পরিকল্পিত খাল খনন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান এনে দিয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে নারায়ণগঞ্জের অন্যান্য জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাও দ্রুত এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে।
সচেতন মহল বলছে, শুধু খাল খনন করলেই হবে না, এর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। খাল দখল ও ময়লা ফেলা বন্ধে কঠোর নজরদারি থাকলে এই সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে।
সব মিলিয়ে, ইসদাইর এলাকায় খাল খননের এই উদ্যোগ স্থানীয়দের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে এসেছে— যেখানে একসময় বৃষ্টি মানেই ছিল দুর্ভোগ, এখন তা হয়ে উঠেছে স্বস্তির প্রতীক।
প্রতিনিধির নাম 


















