ঢাকা ১১:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবসে বরুড়ায় মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ক্যাডেট এএসআই (নি:) পদে পদে নিয়োগ হবে অত্যন্ত স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং দুর্নীতিমুক্ত :এসপি মো. মিজানুর রহমান মুন্সী নতুন রূপে বড় পর্দায় ফিরেছে ‘সুপারগার্ল’ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে : জামায়াত আমির সুদ না কমলে বিনিয়োগ বাড়বে না নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন ডিসি মো. রায়হান কবির বেনাপোল বন্দরে কাগজপত্রবিহীন পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাক জব্দ নকআউটে আর্জেন্টিনা-স্পেনের দেখা হতে পারে যেভাবে সিংড়া পৌরসভার ২৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা  যশোর সীমান্তে প্রায় দুই কোটি ২৩ লাখ টাকার ১৩ টি স্বর্ণের বারসহ আটক-০১

সুদ না কমলে বিনিয়োগ বাড়বে না

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৯:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ক্রীড়া ডেস্ক: উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সুদহার এবং জ্বালানিসংকটের কারণে দেশের বেসরকারি খাতে প্রাণচাঞ্চল্য নেই। এত কর ও সুদ দিয়ে দেশে ব্যবসা হবে না। নীতি সুদহার কমাতে হবে। করের টাকার অপচয় বন্ধ করতে হবে। তা না হলে বেসরকারি খাতে গতি আসবে না। অর্থনীতিতে মন্দাভাব চলে আসবে।

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনায় এ কথা বললেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদেরা। তারা বলেছেন, বন্ধ কারখানা চালু করার জন্য প্রণোদনা তহবিলের উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে বিদ্যমান শিল্পকারখানাকে টিকিয়ে রাখতে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। কারণ, বেসরকারি খাতে প্রবৃদ্ধি কমছে।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির আয়োজনে এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

রাজধানীর কাকরাইলে দ্য ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের মিলনায়তনে গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন অর্থনীতি সমিতির অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির আহ্বায়ক মাহবুব উল্লাহ। সঞ্চালনা করেন সমিতির সদস্যসচিব মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বাজেটের মডেলটাকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছি। আমরা অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণের কথা বলেছি।

যাতে করে দেশের সব মানুষ এই অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি হয়ে গিয়েছিল। একটি গোষ্ঠীই সব সুযোগ-সুবিধা পেত। তারা খুবই ক্ষমতাধর ছিল। আমরা সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলাম।’

অর্থনীতি অনেক চ্যালেঞ্জে :

আলোচনায় সাতটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাতজন ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অর্থনীতিবিদ। তাদের মধ্যে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক বলেন, সরকার একসঙ্গে থ্রিআর অর্থাৎ পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীলতা, পুনঃস্থাপন এবং পুনর্গঠন করার চেষ্টা করছে। অর্থনীতি অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। এটাকে মেরামত করতে আগে স্থিতিশীল করতে হবে। তা না হলে মূল্যস্ফীতি আবার বেড়ে যেতে পারে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক শরমিন্দ নীলোর্মি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে খানা (হাউসহোল্ড) প্রধান হিসেবে স্বাভাবিকভাবে নারীকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। যদিও ২ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে অর্থনীতিতে খুব বেশি চাহিদা সৃষ্টি করা যাবে কি না সন্দেহ আছে। তবে উদ্যোগটি খুব ভালো।

বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক সায়মা হক।

তিনি বলেন, শিক্ষা খাতে সরঞ্জাম ও অবকাঠামো নির্মাণে গুরুত্ব দেওয়া হলেও শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রকল্প নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে যুব বেকারত্ব, দক্ষতার অমিল এবং নারীদের কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা দূর করতে আরো কার্যকর।

সভায় আরো প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক মোহাম্মদ ইউনূস, কাজী ইকবাল ও অতনু (বুয়েট) শিক্ষক নাজমুল ইসলাম।

ঋণের সুদ কমিয়ে দেন :

রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ সংস্থা ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান আবু আহমেদ বলেন, সাড়ে ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য পূরণে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকার একা পারবে না। ভারতে নীতি সুদহার ও শতাংশ। বাংলাদেশে ১০ শতাংশের কাছাকাছি। তার জন্য বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ কমপক্ষে ২০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। সবার জন্য ঋণের সুদের হার কমিয়ে দেন।

যাদের সক্ষমতা আছে, তারা বিনিয়োগ শুরু করে দেবে। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, বাজেটে আমানতকারীদের সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে। ব্যাংক খাতে দ্রুত আস্থা ফিরিয়ে আনা প্রথম কাজ হওয়া উচিত।

ব্যবসায়ী সংগঠন বিসিআইয়ের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা ছাড়া বেসরকারি খাতে প্রবৃদ্ধি আসবে না। তিনি আরো বলেন, এনবিআরের অবস্থা এমন যে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) কমিশনারের কথা শোনেন না। কমিশনার আবার সদস্যকে পাত্তা দেন না। ফলে এনবিআরে সংস্কার লাগবে।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এআইটি) ইমেরিটাস অধ্যাপক এ টি এম নূরুল আমিন, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) ইমরান মতিন প্রমুখ।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবসে বরুড়ায় মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

সুদ না কমলে বিনিয়োগ বাড়বে না

আপডেট সময় : ০৮:৪৯:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

ক্রীড়া ডেস্ক: উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সুদহার এবং জ্বালানিসংকটের কারণে দেশের বেসরকারি খাতে প্রাণচাঞ্চল্য নেই। এত কর ও সুদ দিয়ে দেশে ব্যবসা হবে না। নীতি সুদহার কমাতে হবে। করের টাকার অপচয় বন্ধ করতে হবে। তা না হলে বেসরকারি খাতে গতি আসবে না। অর্থনীতিতে মন্দাভাব চলে আসবে।

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনায় এ কথা বললেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদেরা। তারা বলেছেন, বন্ধ কারখানা চালু করার জন্য প্রণোদনা তহবিলের উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে বিদ্যমান শিল্পকারখানাকে টিকিয়ে রাখতে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। কারণ, বেসরকারি খাতে প্রবৃদ্ধি কমছে।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির আয়োজনে এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

রাজধানীর কাকরাইলে দ্য ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের মিলনায়তনে গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন অর্থনীতি সমিতির অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির আহ্বায়ক মাহবুব উল্লাহ। সঞ্চালনা করেন সমিতির সদস্যসচিব মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বাজেটের মডেলটাকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছি। আমরা অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণের কথা বলেছি।

যাতে করে দেশের সব মানুষ এই অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি হয়ে গিয়েছিল। একটি গোষ্ঠীই সব সুযোগ-সুবিধা পেত। তারা খুবই ক্ষমতাধর ছিল। আমরা সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলাম।’

অর্থনীতি অনেক চ্যালেঞ্জে :

আলোচনায় সাতটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাতজন ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অর্থনীতিবিদ। তাদের মধ্যে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক বলেন, সরকার একসঙ্গে থ্রিআর অর্থাৎ পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীলতা, পুনঃস্থাপন এবং পুনর্গঠন করার চেষ্টা করছে। অর্থনীতি অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। এটাকে মেরামত করতে আগে স্থিতিশীল করতে হবে। তা না হলে মূল্যস্ফীতি আবার বেড়ে যেতে পারে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক শরমিন্দ নীলোর্মি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে খানা (হাউসহোল্ড) প্রধান হিসেবে স্বাভাবিকভাবে নারীকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। যদিও ২ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে অর্থনীতিতে খুব বেশি চাহিদা সৃষ্টি করা যাবে কি না সন্দেহ আছে। তবে উদ্যোগটি খুব ভালো।

বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক সায়মা হক।

তিনি বলেন, শিক্ষা খাতে সরঞ্জাম ও অবকাঠামো নির্মাণে গুরুত্ব দেওয়া হলেও শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রকল্প নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে যুব বেকারত্ব, দক্ষতার অমিল এবং নারীদের কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা দূর করতে আরো কার্যকর।

সভায় আরো প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক মোহাম্মদ ইউনূস, কাজী ইকবাল ও অতনু (বুয়েট) শিক্ষক নাজমুল ইসলাম।

ঋণের সুদ কমিয়ে দেন :

রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ সংস্থা ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান আবু আহমেদ বলেন, সাড়ে ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য পূরণে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকার একা পারবে না। ভারতে নীতি সুদহার ও শতাংশ। বাংলাদেশে ১০ শতাংশের কাছাকাছি। তার জন্য বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ কমপক্ষে ২০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। সবার জন্য ঋণের সুদের হার কমিয়ে দেন।

যাদের সক্ষমতা আছে, তারা বিনিয়োগ শুরু করে দেবে। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, বাজেটে আমানতকারীদের সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে। ব্যাংক খাতে দ্রুত আস্থা ফিরিয়ে আনা প্রথম কাজ হওয়া উচিত।

ব্যবসায়ী সংগঠন বিসিআইয়ের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা ছাড়া বেসরকারি খাতে প্রবৃদ্ধি আসবে না। তিনি আরো বলেন, এনবিআরের অবস্থা এমন যে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) কমিশনারের কথা শোনেন না। কমিশনার আবার সদস্যকে পাত্তা দেন না। ফলে এনবিআরে সংস্কার লাগবে।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এআইটি) ইমেরিটাস অধ্যাপক এ টি এম নূরুল আমিন, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) ইমরান মতিন প্রমুখ।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন