ঢাকা ০৭:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বরুড়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত পাঁচ বছর খেদমত করলেই মাদরাসার খরচে উমরাহ, প্রতিশ্রুতি পূরণে গেলেন পাঁচ উস্তাদ নরসিংদীর আইয়ূব পুর ইউনিয়ন পরিষদে মসজিদ উদ্বোধন করেন নির্বাহী অফিসার মোছাঃ ফারজানা ইয়াসমিন টেকনাফে চেকপোস্টে নোহা থামিয়ে অস্ত্রসহ ৪ জন গ্রেপ্তার মালিক হঠাও, বাগান বাঁচাও’ স্লোগানে উত্তাল চার চা বাগান, মজুরির দাবিতে কর্মবিরতি যশোরে জমি নিয়ে বিরোধে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১ যশোর অভয়নগরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উখিয়ায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার নারায়ণগঞ্জে চুরি করতে গিয়ে মাধবপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৪ নারী আটক যশোরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত সংখ্যা বাড়ছে

বেনাপোল বন্দরে কাগজপত্রবিহীন পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাক জব্দ

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৮:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
  • ১০৯ বার পড়া হয়েছে

মনির হোসেন, যশোর প্রতিনিধি : যশোরের বেনাপোল বন্দরে কাগজ পত্র বিহীন একটি খৈলবাহী পণ্য চালানের ভারতীয় ট্রাক জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত ১০ টার দিকে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে বন্দরের ৩১ নম্বর ইয়ার্ড (ফলের মাঠ) থেকে কাস্টমস এ পণ্যবাহী ট্রাকটি জব্দ করে।

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, যশোরের ঝিকরগাছার আমদানিকারক মেসার্স আরাফ এন্টারপ্রাইজের নামে সরিষার খৈলবাহী ট্রাক (নং-ডাব্লিউবি-২৫ ক-৮৪১৫) গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত প্রায় ৯টায় বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। পরে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ট্রাকটি বন্দরের ৩৫ নম্বর শেডে খালাসের জন্য যাওয়ার তথ্য দেখিয়ে বের হয়।

অভিযোগ উঠেছে, ট্রাকটিতে থাকা অবৈধ পণ্য ৩১ নম্বর ইয়ার্ডে প্রবেশের আগেই বিশেষ ব্যবস্থায় সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর বিকেল প্রায় ৪টার দিকে ট্রাকটি বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই বন্দরের ৩১ নম্বর ইয়ার্ড এলাকায় প্রবেশ করলে বন্দর ট্রাকটি আটকায়। পরে কাস্টমসকে অবহিত করলে বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামীর উপস্থিতিতে ট্রাকটি তল্লাশি করা হয়। এ সময় ট্রাক থেকে ১৪০ বস্তা খৈল ও ৫০টি খালি বস্তা জব্দ করা হয়। জব্দকৃত পণ্যের মোট ওজন ৭ হাজার ১৫৭ কেজি এবং খৈলের নীট ওজন ৬ হাজার ৯১৩ কেজি পাওয়া যায়।

বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামী জানান, ঘোষণাপত্র অনুযায়ী ট্রাকটিতে ১০ টন ৯০ কেজি পণ্য থাকার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে পাওয়া গেছে ৬ হাজার ৯১৩ কেজি। ফলে ঘোষিত পরিমাণের তুলনায় ৩ হাজার ১৭৭ কেজি খৈলের ঘাটতি পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে পণ্য পাচারের সাথে জড়িত চক্রটি কৌশল করে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে মেসার্স প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনাল নাম ব্যবহার করেছে জানা গেছে। তবে সিঅ্যান্ডএফের পক্ষ থেকে তাদের নাম ব্যবহার করার প্রতিবাদ জানিয়ে লিখিতভাবে কাস্টমস, বন্দর ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পত্র দিয়ে অবগত করেছেন।

সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হাফিজুর রহমান হ্যাপি এক আবেদনে দাবি করেন, তার প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে কে বা কারা এ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ট্রাকটি কিংবা পণ্যচালান গ্রহণে তাদের কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী বা প্রতিনিধি জড়িত ছিলেন না। প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের প্রতিষ্ঠানকে যেন হয়রানি করা না হয়, সে অনুরোধও জানান তিনি।

এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩১ নম্বর শেডের দায়িত্বরত কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, মিথ্যা ঘোষণায় আমদানিকৃত পণ্যচালান সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কাস্টমসকে অবহিত করা হয়। পরে কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চালানটি জব্দ করা হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে কাস্টমস, বন্দর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় কোনো চোরাচালান চক্র জড়িত আছে কি না, তাও অনুসন্ধান করছে কর্তৃপক্ষ।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বরুড়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

বেনাপোল বন্দরে কাগজপত্রবিহীন পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাক জব্দ

আপডেট সময় : ০৮:০৮:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

মনির হোসেন, যশোর প্রতিনিধি : যশোরের বেনাপোল বন্দরে কাগজ পত্র বিহীন একটি খৈলবাহী পণ্য চালানের ভারতীয় ট্রাক জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত ১০ টার দিকে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে বন্দরের ৩১ নম্বর ইয়ার্ড (ফলের মাঠ) থেকে কাস্টমস এ পণ্যবাহী ট্রাকটি জব্দ করে।

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, যশোরের ঝিকরগাছার আমদানিকারক মেসার্স আরাফ এন্টারপ্রাইজের নামে সরিষার খৈলবাহী ট্রাক (নং-ডাব্লিউবি-২৫ ক-৮৪১৫) গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত প্রায় ৯টায় বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। পরে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ট্রাকটি বন্দরের ৩৫ নম্বর শেডে খালাসের জন্য যাওয়ার তথ্য দেখিয়ে বের হয়।

অভিযোগ উঠেছে, ট্রাকটিতে থাকা অবৈধ পণ্য ৩১ নম্বর ইয়ার্ডে প্রবেশের আগেই বিশেষ ব্যবস্থায় সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর বিকেল প্রায় ৪টার দিকে ট্রাকটি বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই বন্দরের ৩১ নম্বর ইয়ার্ড এলাকায় প্রবেশ করলে বন্দর ট্রাকটি আটকায়। পরে কাস্টমসকে অবহিত করলে বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামীর উপস্থিতিতে ট্রাকটি তল্লাশি করা হয়। এ সময় ট্রাক থেকে ১৪০ বস্তা খৈল ও ৫০টি খালি বস্তা জব্দ করা হয়। জব্দকৃত পণ্যের মোট ওজন ৭ হাজার ১৫৭ কেজি এবং খৈলের নীট ওজন ৬ হাজার ৯১৩ কেজি পাওয়া যায়।

বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামী জানান, ঘোষণাপত্র অনুযায়ী ট্রাকটিতে ১০ টন ৯০ কেজি পণ্য থাকার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে পাওয়া গেছে ৬ হাজার ৯১৩ কেজি। ফলে ঘোষিত পরিমাণের তুলনায় ৩ হাজার ১৭৭ কেজি খৈলের ঘাটতি পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে পণ্য পাচারের সাথে জড়িত চক্রটি কৌশল করে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে মেসার্স প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনাল নাম ব্যবহার করেছে জানা গেছে। তবে সিঅ্যান্ডএফের পক্ষ থেকে তাদের নাম ব্যবহার করার প্রতিবাদ জানিয়ে লিখিতভাবে কাস্টমস, বন্দর ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পত্র দিয়ে অবগত করেছেন।

সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হাফিজুর রহমান হ্যাপি এক আবেদনে দাবি করেন, তার প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে কে বা কারা এ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ট্রাকটি কিংবা পণ্যচালান গ্রহণে তাদের কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী বা প্রতিনিধি জড়িত ছিলেন না। প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের প্রতিষ্ঠানকে যেন হয়রানি করা না হয়, সে অনুরোধও জানান তিনি।

এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩১ নম্বর শেডের দায়িত্বরত কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, মিথ্যা ঘোষণায় আমদানিকৃত পণ্যচালান সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কাস্টমসকে অবহিত করা হয়। পরে কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চালানটি জব্দ করা হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে কাস্টমস, বন্দর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় কোনো চোরাচালান চক্র জড়িত আছে কি না, তাও অনুসন্ধান করছে কর্তৃপক্ষ।