ঢাকা ০৬:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাবির দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী পলিনের পাশে দাঁড়ালেন মানবিক ডিসি মো: রায়হান কবির যশোরে-৪ আসনের এমপি গোলাম রসুলের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ সিংড়ায় ভেঙে যাওয়া সড়ক সংস্কার করলেন বিএনপি-ছাত্রদল নেতা কর্মীরা নারায়ণগঞ্জে বর্ণাঢ্য র‍্যালির মধ্য দিয়ে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন ২ ঘণ্টার মধ্যেই চোর শনাক্ত, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যবসায়ীর মালামাল উদ্ধার সাবেক ইউপি সদস্য ও সংবাদকর্মী জামাল উদ্দিনের ওপর সশস্ত্র হামলা, অপহরণ ও নির্যাতন; দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি টেকনাফ লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৩ মাসের কারাদণ্ড যশোরের শার্শায় ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল ভ্যানচালকের, চালক আটক মনির হোসেন, যশোর প্রতিনিধি : যশোরের শার্শা উপজেলায় ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল আবু সাঈদ (২৮) নামে এক ভ্যানচালকের। সোমবার বার (২৭ জুলাই) বিকেল পৌনে ৬টার দিকে৷ শার্শা বাগআঁচড়া গ্রামের জনসেবা ক্লিনিকের সামনে নাভারণ-সাতক্ষীরা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আবু সাঈদ সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার পূর্বকোটা গ্রামের তাহাজ্জত আলীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন ভ্যানচালক ছিলেন। পুলিশ জানায়, প্রতিদিনের মতো খালি ভ্যান নিয়ে বাগআঁচড়া বাজারের দিকে যাওয়ার সময় পেছন থেকে একটি আকিজ সিমেন্ট কোম্পানির ট্রাক ভ্যানটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে আবু সাঈদ ভ্যানসহ সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ঘাতক ট্রাকটিকে থামিয়ে চালক মাসুদুর রহমানকে আটক ও পরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার যাওডুবি গ্রামের কালু বেপারীর ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে নাভারণ হাইওয়ে পুলিশ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। যশোরে ক্রেতা সেজে অভিযান,প্যাথিডিনসহ ট্রপিক্যাল মেডিকেলের মালিক আটক নরসিংদীতে অবৈধ কারেন্ট ও রিং জালের বিরুদ্ধে মোবাইল কোটে ৭১ হাজার টাকা জরিমানা।

ঢাবির দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী পলিনের পাশে দাঁড়ালেন মানবিক ডিসি মো: রায়হান কবির

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৭:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ : শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে জ্ঞানের আলোয় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পলিন খান। তার সেই স্বপ্ন পূরণে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। মানবিক এই উদ্যোগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পলিনকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ২৮-৭-২৬ ইং দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পলিন খানের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন জেলা প্রশাসক। এ সময় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইআর) মাস্টার্স বর্ষের শিক্ষার্থী পলিন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে তার প্রয়োজন হয় ব্রেইল বই, ব্রেইল পেপার, অডিও রেকর্ডার এবং টকিং কম্পিউটারের মতো বিশেষ শিক্ষা উপকরণ। এসব উপকরণের উচ্চমূল্যের কারণে পরিবারের পক্ষে সবকিছু জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ছিল।

অনুদান গ্রহণের পর আবেগাপ্লুত পলিন খান বলেন, একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী হিসেবে আমার পড়াশোনার পথটা মোটেও সহজ নয়। ব্রেইল বই, অডিও রেকর্ডার, টকিং কম্পিউটার—এগুলো ছাড়া আমার পড়াশোনা প্রায় অসম্ভব। এগুলো খুব ব্যয়বহুল, পরিবারের পক্ষে কেনা কঠিন ছিল। মাননীয় জেলা প্রশাসক স্যারের এই অনুদানের কারণে এখন প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রী কিনতে পারব। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কাছে আমি চির কৃতজ্ঞ।

জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির এ সময় পলিনের পড়াশোনার খোঁজখবর নেন এবং ভবিষ্যতেও সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, শিক্ষাই পারে একজন মানুষকে তার সব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করতে। পলিনের মতো মেধাবী ও সংগ্রামী শিক্ষার্থীরা সমাজের অনুপ্রেরণা। রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব তাদের পাশে দাঁড়ানো। জেলা প্রশাসন সবসময় এমন উদ্যোগের পাশে থাকবে।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে সহায়তার অংশ হিসেবেই এই অনুদান দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সমাজে মানবিক মূল্যবোধের পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার বার্তাও ছড়িয়ে দেওয়া হলো।

পলিন খানের এই অদম্য প্রচেষ্টা এবং জেলা প্রশাসকের মানবিক উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ ধরনের সহায়তা শুধু একজন শিক্ষার্থীর জীবনই বদলায় না, পুরো সমাজকে সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাবির দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী পলিনের পাশে দাঁড়ালেন মানবিক ডিসি মো: রায়হান কবির

ঢাবির দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী পলিনের পাশে দাঁড়ালেন মানবিক ডিসি মো: রায়হান কবির

আপডেট সময় : ০৪:৪৭:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ : শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে জ্ঞানের আলোয় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পলিন খান। তার সেই স্বপ্ন পূরণে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। মানবিক এই উদ্যোগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পলিনকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ২৮-৭-২৬ ইং দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পলিন খানের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন জেলা প্রশাসক। এ সময় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইআর) মাস্টার্স বর্ষের শিক্ষার্থী পলিন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে তার প্রয়োজন হয় ব্রেইল বই, ব্রেইল পেপার, অডিও রেকর্ডার এবং টকিং কম্পিউটারের মতো বিশেষ শিক্ষা উপকরণ। এসব উপকরণের উচ্চমূল্যের কারণে পরিবারের পক্ষে সবকিছু জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ছিল।

অনুদান গ্রহণের পর আবেগাপ্লুত পলিন খান বলেন, একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী হিসেবে আমার পড়াশোনার পথটা মোটেও সহজ নয়। ব্রেইল বই, অডিও রেকর্ডার, টকিং কম্পিউটার—এগুলো ছাড়া আমার পড়াশোনা প্রায় অসম্ভব। এগুলো খুব ব্যয়বহুল, পরিবারের পক্ষে কেনা কঠিন ছিল। মাননীয় জেলা প্রশাসক স্যারের এই অনুদানের কারণে এখন প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রী কিনতে পারব। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কাছে আমি চির কৃতজ্ঞ।

জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির এ সময় পলিনের পড়াশোনার খোঁজখবর নেন এবং ভবিষ্যতেও সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, শিক্ষাই পারে একজন মানুষকে তার সব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করতে। পলিনের মতো মেধাবী ও সংগ্রামী শিক্ষার্থীরা সমাজের অনুপ্রেরণা। রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব তাদের পাশে দাঁড়ানো। জেলা প্রশাসন সবসময় এমন উদ্যোগের পাশে থাকবে।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে সহায়তার অংশ হিসেবেই এই অনুদান দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সমাজে মানবিক মূল্যবোধের পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার বার্তাও ছড়িয়ে দেওয়া হলো।

পলিন খানের এই অদম্য প্রচেষ্টা এবং জেলা প্রশাসকের মানবিক উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ ধরনের সহায়তা শুধু একজন শিক্ষার্থীর জীবনই বদলায় না, পুরো সমাজকে সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়।