এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ : শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে জ্ঞানের আলোয় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পলিন খান। তার সেই স্বপ্ন পূরণে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। মানবিক এই উদ্যোগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পলিনকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ২৮-৭-২৬ ইং দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পলিন খানের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন জেলা প্রশাসক। এ সময় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইআর) মাস্টার্স বর্ষের শিক্ষার্থী পলিন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে তার প্রয়োজন হয় ব্রেইল বই, ব্রেইল পেপার, অডিও রেকর্ডার এবং টকিং কম্পিউটারের মতো বিশেষ শিক্ষা উপকরণ। এসব উপকরণের উচ্চমূল্যের কারণে পরিবারের পক্ষে সবকিছু জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ছিল।
অনুদান গ্রহণের পর আবেগাপ্লুত পলিন খান বলেন, একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী হিসেবে আমার পড়াশোনার পথটা মোটেও সহজ নয়। ব্রেইল বই, অডিও রেকর্ডার, টকিং কম্পিউটার—এগুলো ছাড়া আমার পড়াশোনা প্রায় অসম্ভব। এগুলো খুব ব্যয়বহুল, পরিবারের পক্ষে কেনা কঠিন ছিল। মাননীয় জেলা প্রশাসক স্যারের এই অনুদানের কারণে এখন প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রী কিনতে পারব। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কাছে আমি চির কৃতজ্ঞ।
জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির এ সময় পলিনের পড়াশোনার খোঁজখবর নেন এবং ভবিষ্যতেও সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, শিক্ষাই পারে একজন মানুষকে তার সব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করতে। পলিনের মতো মেধাবী ও সংগ্রামী শিক্ষার্থীরা সমাজের অনুপ্রেরণা। রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব তাদের পাশে দাঁড়ানো। জেলা প্রশাসন সবসময় এমন উদ্যোগের পাশে থাকবে।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে সহায়তার অংশ হিসেবেই এই অনুদান দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সমাজে মানবিক মূল্যবোধের পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার বার্তাও ছড়িয়ে দেওয়া হলো।
পলিন খানের এই অদম্য প্রচেষ্টা এবং জেলা প্রশাসকের মানবিক উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ ধরনের সহায়তা শুধু একজন শিক্ষার্থীর জীবনই বদলায় না, পুরো সমাজকে সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়।
প্রতিনিধির নাম 


















