ঢাকা ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংবিধান মেনে নির্বাচন হলে সরকার হলেন কীভাবে, বিএনপিকে শফিকুর রহমান চার দিনের সরকারি সফরে আজ রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী টেক্সটাইল শিক্ষার মানোন্নয়ন ও গবেষণায় গুরুত্ব আরোপ রাষ্ট্রপতির বাংলাদেশে ফ্যাসিস্ট বা পলাতক অপরাধীকে কোন অপতৎপরতা চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়কের ডাকাতি মামলায় সন্দেহভাজন আসামি গ্রেপ্তার আমদানি-রপ্তানিসহ কাস্টমস বন্দরের কার্যক্রম শুরু : টানা ছুটি শেষে কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে বেনাপোল বন্দরে যৌতুকের দাবিতে যশোরে গৃহবধূকে হত্যাচেষ্টা, আদালতে মামলার নির্দেশ মাধবপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ল বসতঘর উখিয়ায় পৃথক অভিযানে ২০ হাজার ইয়াবাসহ দুই কারবারি আটক বরুড়ায় বাঁশঝাড়ে গলাকাটা বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার

শার্শায় আদালতের আইন অমান্য করে সংখ্যালঘু খ্রীষ্ঠান সম্প্রদায়ের বসতভিটা দখল

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৮:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬৪ বার পড়া হয়েছে

মনির হোসেন, যশোর প্রতিনিধি: যশোরের শার্শায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সংখ্যালঘু খ্রীষ্ঠান সম্প্রদায়ের বসতভিটা দখল করে নিয়েছে দূর্বৃত্তরা। এ সময় বাড়ির প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দিয়েছে যাতে যাতায়াত করতে না পারে।

ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (২৯ আগষ্ট) বিকালে শার্শা উপজেলার বড়বসন্তপুর খ্রীষ্ঠান পাড়ায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী খ্রীষ্ঠান সম্প্রদায়ের মতি বিশ্বাস (৬৫) চার জনের নামে শার্শা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিযুক্তরা হলেন পাড়িয়ারঘোপ গ্রামের হাজী শহর আলীর ছেলে আব্দুল আজিজ, আবু বক্কর সিদ্দিক ও কন্দর্পপুর গ্রামের ইসলাম আলীর ছেলে বাবুর আলী ও তার ভাই লতা।

থানায় দেয়া অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শার্শা উপজেলার বড়বসন্তপুর খ্রীষ্ঠান পাড়ার মৃত হরিপদ বিশ্বাসের ছেলে মতি বিশ্বাস ২০০৪ সালে মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে কবলা দলিলমূলে ২০ শতক বসত ভিটার জমি ক্রয় করেন। তিনি জানান, ক্রয়কৃত ওই জমি তার নামে রেকর্ড ও নামজারী হয়েছে। চলতি বছরেও সে ওই বসত ভিটা জমির খাজনা পরিশোধ করে দাখিলা নিয়েছেন। বিএনপি করার অপরাধে তার বসত ভিটার জমি দখল করে নেয় বাবুর আলী।

অভিযোগে আরও জানা যায়, কন্দর্পপুর গ্রামের ইসলাম আলীর ছেলে বাবুর আলী ২০১৩ সালে সংখ্যালঘু মতি বিশ্বাসের ২০ শতক জমি দখল করে নেয়ার চেস্টা করে। সেই সময়ে মতি বিশ্বাস বাবুর আলীর নামে মামলা দায়ের করে। এখনও সেই মামলা চলমান রয়েছে।

মতি বিশ্বাস জানান, গোপনে জাল কাগজপত্র তৈরী করে বাবুর আলী আবারো মামলাকৃত বসতভিটার ওই জমি উপজেলার পাড়িয়ারঘোপ গ্রামের হাজী শহর আলীর ছেলে বিদেশ প্রবাসী আব্দুল আজিজের নিকটে গোপনে বিক্রি করে দেন। এ খবর শুনে মতি বিশ্বাস তার বসত ভিটার উপর যশোর বিজ্ঞ আদালত থেকে ১৪৪ ধারা জারী করে। এমন অবস্থায় শার্শা থানা পুলিশ প্রশাসন মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই জমিতে না যাওয়া বা দখল না করার জন্য আদালতের নির্দেশ প্রদান করেন। এমন অবস্থায় পাড়িয়ারঘোপ গ্রামের হাজী শহর আলী ও তার ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিকী শনিবার বিকালে আদালতের দেয়া ১৪৪ ধারা আইন অমান্য করে মতি বিশ্বাসের ঘরের দরজার তালা ভেঙ্গে বসতবাড়িটি দখল করে নেয়। জমির ৬ টি বড় বড় গাছ কেটে নেয়। যার মুল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা।

মতি বিশ্বাস বলেন, কন্দর্পপুর গ্রামের ইসলাম আলীর ছেলে বাবুর আলী স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীদের সাথে নিয়ে এখন জবর দখল করছে। এখন দূর্বৃত্তরা মতি বিশ্বাসের উপর হুমকিসহ খুন জখমের ভয় প্রদর্শন করছে বলে অভিযোগ করেন। তার প্রশ্ন মামলা চলাকালীন সময়ে এবং ১৪৪ ধারা জারীকৃত জমি কিভাবে রেজিষ্ট্রী হলো। এখন মতি বিশ্বাস ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

এ ব্যাপারে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, ১৪৪ ধারা অমান্য করে বসত ভিটার জমি দখলের ঘটনাটি শুনেছি। এ ঘটনায় মতি বিশ্বাস থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে অপরাধী যেই হোক তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সংবিধান মেনে নির্বাচন হলে সরকার হলেন কীভাবে, বিএনপিকে শফিকুর রহমান

শার্শায় আদালতের আইন অমান্য করে সংখ্যালঘু খ্রীষ্ঠান সম্প্রদায়ের বসতভিটা দখল

আপডেট সময় : ০৪:৩৮:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মনির হোসেন, যশোর প্রতিনিধি: যশোরের শার্শায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সংখ্যালঘু খ্রীষ্ঠান সম্প্রদায়ের বসতভিটা দখল করে নিয়েছে দূর্বৃত্তরা। এ সময় বাড়ির প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দিয়েছে যাতে যাতায়াত করতে না পারে।

ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (২৯ আগষ্ট) বিকালে শার্শা উপজেলার বড়বসন্তপুর খ্রীষ্ঠান পাড়ায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী খ্রীষ্ঠান সম্প্রদায়ের মতি বিশ্বাস (৬৫) চার জনের নামে শার্শা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিযুক্তরা হলেন পাড়িয়ারঘোপ গ্রামের হাজী শহর আলীর ছেলে আব্দুল আজিজ, আবু বক্কর সিদ্দিক ও কন্দর্পপুর গ্রামের ইসলাম আলীর ছেলে বাবুর আলী ও তার ভাই লতা।

থানায় দেয়া অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শার্শা উপজেলার বড়বসন্তপুর খ্রীষ্ঠান পাড়ার মৃত হরিপদ বিশ্বাসের ছেলে মতি বিশ্বাস ২০০৪ সালে মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে কবলা দলিলমূলে ২০ শতক বসত ভিটার জমি ক্রয় করেন। তিনি জানান, ক্রয়কৃত ওই জমি তার নামে রেকর্ড ও নামজারী হয়েছে। চলতি বছরেও সে ওই বসত ভিটা জমির খাজনা পরিশোধ করে দাখিলা নিয়েছেন। বিএনপি করার অপরাধে তার বসত ভিটার জমি দখল করে নেয় বাবুর আলী।

অভিযোগে আরও জানা যায়, কন্দর্পপুর গ্রামের ইসলাম আলীর ছেলে বাবুর আলী ২০১৩ সালে সংখ্যালঘু মতি বিশ্বাসের ২০ শতক জমি দখল করে নেয়ার চেস্টা করে। সেই সময়ে মতি বিশ্বাস বাবুর আলীর নামে মামলা দায়ের করে। এখনও সেই মামলা চলমান রয়েছে।

মতি বিশ্বাস জানান, গোপনে জাল কাগজপত্র তৈরী করে বাবুর আলী আবারো মামলাকৃত বসতভিটার ওই জমি উপজেলার পাড়িয়ারঘোপ গ্রামের হাজী শহর আলীর ছেলে বিদেশ প্রবাসী আব্দুল আজিজের নিকটে গোপনে বিক্রি করে দেন। এ খবর শুনে মতি বিশ্বাস তার বসত ভিটার উপর যশোর বিজ্ঞ আদালত থেকে ১৪৪ ধারা জারী করে। এমন অবস্থায় শার্শা থানা পুলিশ প্রশাসন মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই জমিতে না যাওয়া বা দখল না করার জন্য আদালতের নির্দেশ প্রদান করেন। এমন অবস্থায় পাড়িয়ারঘোপ গ্রামের হাজী শহর আলী ও তার ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিকী শনিবার বিকালে আদালতের দেয়া ১৪৪ ধারা আইন অমান্য করে মতি বিশ্বাসের ঘরের দরজার তালা ভেঙ্গে বসতবাড়িটি দখল করে নেয়। জমির ৬ টি বড় বড় গাছ কেটে নেয়। যার মুল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা।

মতি বিশ্বাস বলেন, কন্দর্পপুর গ্রামের ইসলাম আলীর ছেলে বাবুর আলী স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীদের সাথে নিয়ে এখন জবর দখল করছে। এখন দূর্বৃত্তরা মতি বিশ্বাসের উপর হুমকিসহ খুন জখমের ভয় প্রদর্শন করছে বলে অভিযোগ করেন। তার প্রশ্ন মামলা চলাকালীন সময়ে এবং ১৪৪ ধারা জারীকৃত জমি কিভাবে রেজিষ্ট্রী হলো। এখন মতি বিশ্বাস ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

এ ব্যাপারে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, ১৪৪ ধারা অমান্য করে বসত ভিটার জমি দখলের ঘটনাটি শুনেছি। এ ঘটনায় মতি বিশ্বাস থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে অপরাধী যেই হোক তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।