ঢাকা ১০:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুষ্টিয়ায় বৃদ্ধাকে অচেতন করে ১০ লাখ টাকা লুট, গ্রেপ্তার ৬ খুলনায় লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলির শিকার শিক্ষা কর্মকর্তা মশিউর রহমান বরিশালে ঠিকাদারের মোটরসাইকেল নিয়ে গেলেন বিএনপি নেতা, চাঁদা দাবির অভিযোগ স্বপ্নের প্রথম সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্ট প্রকাশ, টেকসই উন্নয়নের উদ্যোগ তুলে ধরা হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আটক যুবক বিএনপির রাজনীতির দাবি করেছেন তুরস্কে গাছের স্থান পরিবর্তনের ভিডিও নিয়ে আলোচনা যশোরে এসআরবি’র অভিযান; ৫০ বোতল উইনকেরিক্সসহ আটক ১ এইচএসসি ফলাফল বিপর্যয়: শিক্ষাব্যবস্থার অন্তর্নিহিত সংকট, দায়বদ্ধতা ও উত্তরণের পথ রামগড়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ মাধবপুরে ৩ টন ভারতীয় জিরাসহ ট্রাক জব্দ, গ্রেপ্তার ৩

ইরানের পারমাণবিক নীতি পরিবর্তনের প্রস্তুতি, আইআরজিসির হুঁশিয়ারি

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪০:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

ইরানের পারমাণবিক নীতি পরিবর্তনের — যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব যদি পারমাণবিক নীতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে প্রয়োজনীয় সামরিক প্রস্তুতি নিতে তারা প্রস্তুত। শনিবার আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এই তথ্য জানান।

মোহেব্বি বলেন, পারমাণবিক নীতিতে যেকোনও পরিবর্তন দেশের নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তবে তার বক্তব্যের মাধ্যমে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার দীর্ঘদিনের অবস্থান পরিবর্তন করেছে কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা হয়নি।

এক সপ্তাহ আগে, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মেজর জেনারেল মহসেন রেজাই জানিয়েছিলেন, পারমাণবিক নীতিতে পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে, কিন্তু এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এছাড়া, প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির এক ধর্মীয় ফতোয়ায় পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ও ব্যবহারকে ইসলামি নীতি অনুযায়ী নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে, আইআরজিসির সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো ইরানের পারমাণবিক নীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

গত শুক্রবার, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে, মার্কিন বাহিনী ইরানের কেশম দ্বীপে একটি বিমান বিধ্বংসী বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে সীমিত হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দাবি করেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করা থেকে না আটকালে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল এবং অন্যান্য দেশের অস্তিত্ব থাকত না।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) বর্তমানে ইরানের পারমাণবিক উপকরণের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করতে পারছে না। অক্টোবরে রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে বলা হয়, আইএইএ-র ধারণা অনুযায়ী, ইস্পাহানের ভূগর্ভস্থ টানেলে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ২০০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম সংরক্ষিত থাকতে পারে।

বর্তমানে, ওয়াশিংটন ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধের দাবি জানালেও, তেহরান পারমাণবিক কার্যক্রম বজায় রেখেই চুক্তি চায়। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি জোরদার করেছে। ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে জানান, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় পুনরায় হামলা চালানোর বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবে ওয়াশিংটন।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় বৃদ্ধাকে অচেতন করে ১০ লাখ টাকা লুট, গ্রেপ্তার ৬

ইরানের পারমাণবিক নীতি পরিবর্তনের প্রস্তুতি, আইআরজিসির হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় : ০৫:৪০:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

ইরানের পারমাণবিক নীতি পরিবর্তনের — যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব যদি পারমাণবিক নীতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে প্রয়োজনীয় সামরিক প্রস্তুতি নিতে তারা প্রস্তুত। শনিবার আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এই তথ্য জানান।

মোহেব্বি বলেন, পারমাণবিক নীতিতে যেকোনও পরিবর্তন দেশের নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তবে তার বক্তব্যের মাধ্যমে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার দীর্ঘদিনের অবস্থান পরিবর্তন করেছে কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা হয়নি।

এক সপ্তাহ আগে, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মেজর জেনারেল মহসেন রেজাই জানিয়েছিলেন, পারমাণবিক নীতিতে পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে, কিন্তু এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এছাড়া, প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির এক ধর্মীয় ফতোয়ায় পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ও ব্যবহারকে ইসলামি নীতি অনুযায়ী নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে, আইআরজিসির সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো ইরানের পারমাণবিক নীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

গত শুক্রবার, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে, মার্কিন বাহিনী ইরানের কেশম দ্বীপে একটি বিমান বিধ্বংসী বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে সীমিত হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দাবি করেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করা থেকে না আটকালে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল এবং অন্যান্য দেশের অস্তিত্ব থাকত না।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) বর্তমানে ইরানের পারমাণবিক উপকরণের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করতে পারছে না। অক্টোবরে রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে বলা হয়, আইএইএ-র ধারণা অনুযায়ী, ইস্পাহানের ভূগর্ভস্থ টানেলে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ২০০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম সংরক্ষিত থাকতে পারে।

বর্তমানে, ওয়াশিংটন ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধের দাবি জানালেও, তেহরান পারমাণবিক কার্যক্রম বজায় রেখেই চুক্তি চায়। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি জোরদার করেছে। ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে জানান, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় পুনরায় হামলা চালানোর বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবে ওয়াশিংটন।