সিলেটে বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ — সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে টেস্ট সিরিজের চতুর্থ দিনের খেলায় সফরকারী দলের ব্যাটারদের দাপট দেখা গেছে। তাওহীদ হৃদয়ের একক লড়াইয়ের পর বাংলাদেশ ৩৮৬ রানের পুঁজি গড়লেও, চতুর্থ দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ের সামনে বাংলাদেশের বোলিং সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
চতুর্থ দিনের খেলা শুরু হয় বাংলাদেশ দলের ৩০ রানে পিছিয়ে থেকে। প্রথম সেশনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১২১ রান যোগ করে। বাংলাদেশের দুই স্পিনার তাইজুল ইসলাম এবং মেহেদী হাসান মিরাজ দুটি উইকেট পেলেও, সফরকারীরা তাদের ব্যাটিংয়ে দারুণভাবে এগিয়ে থাকে। জশুয়া ডা সিলভা ৩৬ রান এবং ব্রেন্ডন কিং ৬১ রান করে সাজঘরে ফিরলেও, কাভেম হজ এবং কেভিন উইকহ্যামের মধ্যে ১৬৫ রানের জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
দিনের শেষ সেশনে কাভেম হজ ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন। তিনি ১৮৯ বল খেলে ১৪০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। তার সঙ্গে ২০ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন আমির জাঙ্গু। এই জুটির ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের লিড দাঁড়িয়েছে ৩১৫ রানে, যা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশের পেসাররা এই ইনিংসে পুরোপুরি নিষ্প্রভ ছিলেন। হাসান মাহমুদ এবং তাসকিন আহমেদদের বোলিংয়ে কোনো উইকেটের দেখা মিলেনি। বরং, দুই স্পিনার তাইজুল ও মিরাজের উপরই নির্ভর করতে হয়েছে। তারা সারাদিনে কেবল ৩টি উইকেট নিতে সক্ষম হয়েছেন।
বাংলাদেশের জন্য এই টেস্টে পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। প্রথম ইনিংসে ভালো বোলিংয়ের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ের চাপের মুখে পড়েছে তারা। উইন্ডিজের ব্যাটারদের রান উৎসবের কারণে বাংলাদেশের বোলিং পরিকল্পনা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
এখন বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জ হলো, আগামী দিনে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স উপস্থাপন করা। সফরকারীদের বিপক্ষে এই অবস্থান থেকে ফিরে আসা সহজ হবে না, তবে ক্রিকেটের unpredictability এর কারণে কিছুই বলা যায় না।
সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলা শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩ উইকেটে ৩৫৬ রান সংগ্রহ করেছে। বাংলাদেশ দলের জন্য এখন প্রয়োজন নিজেদের শক্তি ফিরে পাওয়া এবং ম্যাচে ফিরে আসার চেষ্টা করা।
এখন দেখার বিষয় হলো, বাংলাদেশ কি করে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এবং নিজেদের সেরা ক্রিকেট উপহার দিতে পারে।
প্রতিনিধির নাম 
























