ঢাকা ০৪:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংসদের প্রথম অধিবেশন ইতিহাসের সবচেয়ে সফল অধিবেশন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুই শিক্ষার্থী হত্যার বিচারের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি  সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযান: হেরোইন-ছুরি-চাপাতিসহ ৭ জন গ্রেফতার উখিয়ার ৫০ হাজার ইয়াবা ও সিএনজি উদ্ধার,পাচারকারী পলাতক টেকনাফ নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের তরুণী ইয়াবাসহ আটক সিংড়ায় সাংবাদিকদের কল্যাণে করণীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত টেকনাফে যুবক গুলিবিদ্ধ বেনাপোল আন্তর্জাতিক স্থলবন্দরে ‘অ্যাক্সেস’ (ACCESS) প্রকল্প সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ঐক্যবদ্ধ হলে দাবি আদায় সম্ভব: বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকার এর বার্তা টেকনাফে ১৬ এপিবিএনের সাইবার সাফল্য ২২টি হারানো মোবাইল ও বিকাশ অর্থ উদ্ধার

পোশাক খাতে যুক্ত হলো আরো ৪ লিড সনদপ্রাপ্ত কারখানা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত টেকসই ও পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে আরো একধাপ এগিয়েছে। নতুন করে ৪টি কারখানা আন্তর্জাতিক স্বীকৃত ‘লিড’ (LEED) সনদ অর্জন করায় দেশে এ ধরনের কারখানার মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮৪টিতে। এর মধ্যে ১২১টি প্লাটিনাম এবং ১৪৪টি গোল্ড রেটিংপ্রাপ্ত। একই সঙ্গে বিশ্বের সর্বোচ্চ স্কোরপ্রাপ্ত শীর্ষ ১০০ লিড কারখানার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৫২টিতে উন্নীত হয়েছে। এটি পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের ক্ষেত্রে দেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রতিফলন।

নতুন সনদপ্রাপ্ত কারখানাগুলো হলো: পাহাড়তলী টেক্সটাইল লিমিটেড (ইউনিট-০২): চট্টগ্রামের উত্তর পাহাড়তলীস্থ ইস্পাহানি কমপ্লেক্সে অবস্থিত এই কারখানাটি ‘লিড বিডি+সি: নিউ কন্সট্রাকশন ভি৪’ ক্যাটাগরিতে ৮৬ পয়েন্ট পেয়ে প্ল্যাটিনাম রেটিং অর্জন করেছে।

ওয়েলডান অ্যাপারেলস লিমিটেড: গাজীপুরের শ্রীপুরের বরাইদের চালায় অবস্থিত এই কারখানাটি ‘লিড ও+এম: এক্সিজটিং বিল্ডিংস ভি৪.১’ পদ্ধতিতে ৭৫ পয়েন্ট পেয়ে গোল্ড রেটিং পেয়েছে।

এভারব্রাইট সোয়েটার লিমিটেড: ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার কাঠগোড়ায় অবস্থিত এই কারখানাটি ৮৩ পয়েন্ট পেয়ে প্ল্যাটিনাম রেটিং লাভ করেছে।

সিয়াম কম্পিউটারাইজড ইলাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড-মামটেক্স: গাজীপুরের সুরাবাড়িতে অবস্থিত এই কারখানাটিও একই সিস্টেমে ৮৪ পয়েন্ট পেয়ে প্ল্যাটিনাম রেটিং অর্জন করেছে।

শিল্প নেতারা এই নতুন সনদ প্রাপ্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি বাংলাদেশের জ্বালানি দক্ষতা, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিরই বহিঃপ্রকাশ।

বাসস-এর সঙ্গে আলাপকালে বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক এবং ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, লিড সনদপ্রাপ্ত কারখানার এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি সবুজ প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক মান গ্রহণে এই খাতের সক্রিয় ভূমিকার প্রমাণ।

তিনি বলেন, দেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ জোগান দেওয়া তৈরি পোশাক খাত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টেকসই উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এছাড়া কারখানা মালিকরা জ্বালানি সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি, পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং উন্নত কর্মপরিবেশে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছেন।

মহিউদ্দিন রুবেল আরও বলেন, এসব অর্জনের যথাযথ মূল্যায়ন ও আন্তর্জাতিক বাজারে স্বীকৃতি নিশ্চিত করা জরুরি। আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও অংশীদারদের পরিবেশবান্ধব উৎপাদকদের ন্যায্যভাবে মূল্যায়ন ও সহযোগিতা করা উচিত, যা টেকসই চর্চার প্রসারকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) কর্তৃক প্রদত্ত লিড সনদ বিশ্বব্যাপী সবুজ ভবন নির্মাণের একটি স্বীকৃত মানদণ্ড। প্লাটিনাম ও গোল্ড রেটিং পেতে জ্বালানি ব্যবহার, অভ্যন্তরীণ পরিবেশের মান, টেকসই সাইট উন্নয়ন এবং সম্পদ ব্যবহারের দক্ষতার মতো কঠোর মানদণ্ড পূরণ করতে হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, সবুজ পোশাক কারখানায় বাংলাদেশের নেতৃত্ব বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় দেশকে এগিয়ে রাখার পাশাপাশি পরিবেশসম্মত সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ক্রমবর্ধমান চাহিদাও পূরণ করছে।

লিড সনদপ্রাপ্ত কারখানার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বোঝা যায়, বাংলাদেশ আরও টেকসই ও দায়িত্বশীল পোশাক শিল্পে রূপান্তরিত হচ্ছে, যা বৈশ্বিক জলবায়ু লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং একই সঙ্গে বিশ্বে শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক হিসেবে দেশের অবস্থান ধরে রাখছে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদের প্রথম অধিবেশন ইতিহাসের সবচেয়ে সফল অধিবেশন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পোশাক খাতে যুক্ত হলো আরো ৪ লিড সনদপ্রাপ্ত কারখানা

আপডেট সময় : ০৭:৫২:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত টেকসই ও পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে আরো একধাপ এগিয়েছে। নতুন করে ৪টি কারখানা আন্তর্জাতিক স্বীকৃত ‘লিড’ (LEED) সনদ অর্জন করায় দেশে এ ধরনের কারখানার মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮৪টিতে। এর মধ্যে ১২১টি প্লাটিনাম এবং ১৪৪টি গোল্ড রেটিংপ্রাপ্ত। একই সঙ্গে বিশ্বের সর্বোচ্চ স্কোরপ্রাপ্ত শীর্ষ ১০০ লিড কারখানার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৫২টিতে উন্নীত হয়েছে। এটি পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের ক্ষেত্রে দেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রতিফলন।

নতুন সনদপ্রাপ্ত কারখানাগুলো হলো: পাহাড়তলী টেক্সটাইল লিমিটেড (ইউনিট-০২): চট্টগ্রামের উত্তর পাহাড়তলীস্থ ইস্পাহানি কমপ্লেক্সে অবস্থিত এই কারখানাটি ‘লিড বিডি+সি: নিউ কন্সট্রাকশন ভি৪’ ক্যাটাগরিতে ৮৬ পয়েন্ট পেয়ে প্ল্যাটিনাম রেটিং অর্জন করেছে।

ওয়েলডান অ্যাপারেলস লিমিটেড: গাজীপুরের শ্রীপুরের বরাইদের চালায় অবস্থিত এই কারখানাটি ‘লিড ও+এম: এক্সিজটিং বিল্ডিংস ভি৪.১’ পদ্ধতিতে ৭৫ পয়েন্ট পেয়ে গোল্ড রেটিং পেয়েছে।

এভারব্রাইট সোয়েটার লিমিটেড: ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার কাঠগোড়ায় অবস্থিত এই কারখানাটি ৮৩ পয়েন্ট পেয়ে প্ল্যাটিনাম রেটিং লাভ করেছে।

সিয়াম কম্পিউটারাইজড ইলাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড-মামটেক্স: গাজীপুরের সুরাবাড়িতে অবস্থিত এই কারখানাটিও একই সিস্টেমে ৮৪ পয়েন্ট পেয়ে প্ল্যাটিনাম রেটিং অর্জন করেছে।

শিল্প নেতারা এই নতুন সনদ প্রাপ্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি বাংলাদেশের জ্বালানি দক্ষতা, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিরই বহিঃপ্রকাশ।

বাসস-এর সঙ্গে আলাপকালে বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক এবং ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, লিড সনদপ্রাপ্ত কারখানার এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি সবুজ প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক মান গ্রহণে এই খাতের সক্রিয় ভূমিকার প্রমাণ।

তিনি বলেন, দেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ জোগান দেওয়া তৈরি পোশাক খাত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টেকসই উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এছাড়া কারখানা মালিকরা জ্বালানি সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি, পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং উন্নত কর্মপরিবেশে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছেন।

মহিউদ্দিন রুবেল আরও বলেন, এসব অর্জনের যথাযথ মূল্যায়ন ও আন্তর্জাতিক বাজারে স্বীকৃতি নিশ্চিত করা জরুরি। আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও অংশীদারদের পরিবেশবান্ধব উৎপাদকদের ন্যায্যভাবে মূল্যায়ন ও সহযোগিতা করা উচিত, যা টেকসই চর্চার প্রসারকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) কর্তৃক প্রদত্ত লিড সনদ বিশ্বব্যাপী সবুজ ভবন নির্মাণের একটি স্বীকৃত মানদণ্ড। প্লাটিনাম ও গোল্ড রেটিং পেতে জ্বালানি ব্যবহার, অভ্যন্তরীণ পরিবেশের মান, টেকসই সাইট উন্নয়ন এবং সম্পদ ব্যবহারের দক্ষতার মতো কঠোর মানদণ্ড পূরণ করতে হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, সবুজ পোশাক কারখানায় বাংলাদেশের নেতৃত্ব বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় দেশকে এগিয়ে রাখার পাশাপাশি পরিবেশসম্মত সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ক্রমবর্ধমান চাহিদাও পূরণ করছে।

লিড সনদপ্রাপ্ত কারখানার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বোঝা যায়, বাংলাদেশ আরও টেকসই ও দায়িত্বশীল পোশাক শিল্পে রূপান্তরিত হচ্ছে, যা বৈশ্বিক জলবায়ু লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং একই সঙ্গে বিশ্বে শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক হিসেবে দেশের অবস্থান ধরে রাখছে।