ঢাকা ১২:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নারায়ণগঞ্জ সদরে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির উদ্বোধন: ১৮০ দিনে ১০ হাজার গাছ লাগানোর লক্ষ্য যুক্তির সমীরণে প্রাচ্যের ডান্ডি’: নারায়ণগঞ্জে ১৫ জুন শুরু হচ্ছে উপজেলা বিতর্ক উৎসব-২০২৬ বরুড়ায় পানিতে ডুবে ৫ বছরের শিশুর মৃত্যু আগামী ২০ জুলাই এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হবে : শিক্ষামন্ত্রী চিফ হুইপের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তার সাক্ষাৎ টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ২৭ কেজি গাঁজাসহ আটক ৩ রামগড়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে চাউল বিতরণ মাদকের বিরুদ্ধে কোস্ট গার্ডের অভিযান বেনাপোলে ইসলামী ব্যাংকের পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ র‌্যাব-১৫ এর অভিযানে কক্সবাজারের আলোচিত জোড়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে মাছে সহনীয় মাত্রার চেয়ে ৫০ গুণ বেশি পারদ: ইএসডিওর

সেলিম চৌধুরী, পটিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামে উৎপাদিত ও বাজারজাত হওয়া বিভিন্ন প্রজাতির মাছে সহনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক গুণ বেশি পারদ (মার্কারি) পাওয়া গেছে। এ তথ্য প্রকাশিত হওয়ায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশবিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিল্পবর্জ্য, ইলেকট্রনিক বর্জ্য, দূষিত জলাশয় এবং বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত মাছের খাদ্যের মাধ্যমে এই বিষাক্ত ভারী ধাতু খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করছে। এর ফলে ক্যান্সার, কিডনি ও লিভারের জটিলতা, স্নায়বিক রোগ এবং গর্ভস্থ শিশুর বিকলাঙ্গতা বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার (ইএসডিও) এক সমীক্ষায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা মাছে উদ্বেগজনক মাত্রায় পারদের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, পরীক্ষিত কিছু নমুনায় পারদের মাত্রা সহনীয় সীমার তুলনায় ৫০ গুণের বেশি পাওয়া গেছে। বিশেষ করে পুকুর ও দিঘিতে চাষ করা মাছের মধ্যে দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইএসডিওর দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের বিভিন্ন খামার, পুকুর ও জলাশয় থেকে সংগৃহীত মাছের নমুনা বিশ্লেষণে পারদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পাওয়া গেছে। বড়, মাঝারি ও ছোট সব ধরনের মাছেই এই দূষণ শনাক্ত হয়েছে। বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক। বিশেষজ্ঞরা জানান, পারদ একটি প্রাকৃতিক মৌলিক ধাতু হলেও এটি পরিবেশে একবার ছড়িয়ে পড়লে সহজে ধ্বংস হয় না। শিল্পকারখানার নির্গমন, কয়লা পোড়ানো, ইলেকট্রনিক বর্জ্য, ব্যাটারি, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পারদ পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা নদী, খাল, বিল ও সমুদ্রে জমা হয়ে মাছের শরীরে প্রবেশ করে। খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে মানুষ সেই দূষিত মাছ খেলে পারদ মানবদেহে জমা হতে থাকে।

সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক গবেষণাগুলোতেও বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মাছে পারদসহ বিভিন্ন ভারী ধাতুর উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, শিল্পায়ন, জাহাজ চলাচল, বন্দর কার্যক্রম, জ্বালানি তেল এবং নদীপথে আসা দূষণের কারণে উপকূলীয় জলজ পরিবেশে ভারী ধাতুর চাপ বাড়ছে। যদিও সাম্প্রতিক কয়েকটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বঙ্গোপসাগরের কিছু সামুদ্রিক মাছে পারদের মাত্রা আন্তর্জাতিক নিরাপদ সীমার মধ্যে থাকার তথ্য উঠে এসেছে। তবে গবেষকরা একই সঙ্গে সতর্ক করেছেন, শিল্পবর্জ্য ও দূষণের চাপ বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে। বিশেষ করে খাদ্যাভ্যাস, মাছের প্রজাতি এবং দূষণের উৎসভেদে ঝুঁকি ভিন্ন হতে পারে।
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে প্রতি বছর ৮০ হাজার টনের বেশি মিঠা পানির মাছ উৎপাদিত হয়। এছাড়া নদী ও সাগর থেকে আহরিত মাছের পরিমাণ দুইলক্ষ টনের বেশি। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এসব মাছ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ এবং বিদেশেও রপ্তানি করা হয়। ফলে মাছে পারদের উপস্থিতি শুধু চট্টগ্রাম নয়, জাতীয় পর্যায়ের খাদ্যনিরাপত্তার বিষয় হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. উৎপল দাশ দৈনিক আজকের জনবাণীকে বলেন, পারদ মানবদেহের জন্য অত্যন্ত বিষাক্ত একটি উপাদান। দীর্ঘদিন ধরে পারদযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করলে স্নায়ুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শিশুদের মেধা ও শারীরিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি ও স্মৃতিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া কিডনি ও লিভারের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া, বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার এবং গর্ভস্থ শিশুর জন্মগত ত্রুটি দেখা দেওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, শুধু মাছ নয়, দেশে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যেও ভারী ধাতু দূষণের প্রবণতা বাড়ছে। সম্প্রতি ইএসডিও পরিচালিত আরেকটি গবেষণায় টি–ব্যাগসহ বিভিন্ন পণ্যে পারদ ও অন্যান্য ভারী ধাতুর উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনা কঠোর করা, ইলেকট্রনিক বর্জ্যের নিরাপদ নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা, মাছের খাদ্য উৎপাদনে মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং নিয়মিতভাবে মাছ ও জলাশয়ের নমুনা পরীক্ষা করা জরুরি। একই সঙ্গে বাজারে বিক্রিত মাছে ভারী ধাতুর উপস্থিতি পর্যবেক্ষণে একটি জাতীয় মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়তে পারে। চট্টগ্রামের মাছে পারদের উদ্বেগজনক উপস্থিতির বিষয়টি তাই শুধু একটি পরিবেশগত সমস্যা নয়, বরং জনস্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তার জন্যও একটি গুরুতর সতর্কবার্তা।

জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা দৈনিক জনতা’কে জানান, আমরা বিষয়টি সম্পর্কে মাছ চাষিদের সচেতন করছি। তবে খালে বা নদীতে পড়া বর্জ্য থেকে যে পারদ মাছে যাচ্ছে তা থেকে নিস্তারের জন্য জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জ সদরে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির উদ্বোধন: ১৮০ দিনে ১০ হাজার গাছ লাগানোর লক্ষ্য

চট্টগ্রামে মাছে সহনীয় মাত্রার চেয়ে ৫০ গুণ বেশি পারদ: ইএসডিওর

আপডেট সময় : ০৪:১২:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

সেলিম চৌধুরী, পটিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামে উৎপাদিত ও বাজারজাত হওয়া বিভিন্ন প্রজাতির মাছে সহনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক গুণ বেশি পারদ (মার্কারি) পাওয়া গেছে। এ তথ্য প্রকাশিত হওয়ায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশবিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিল্পবর্জ্য, ইলেকট্রনিক বর্জ্য, দূষিত জলাশয় এবং বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত মাছের খাদ্যের মাধ্যমে এই বিষাক্ত ভারী ধাতু খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করছে। এর ফলে ক্যান্সার, কিডনি ও লিভারের জটিলতা, স্নায়বিক রোগ এবং গর্ভস্থ শিশুর বিকলাঙ্গতা বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার (ইএসডিও) এক সমীক্ষায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা মাছে উদ্বেগজনক মাত্রায় পারদের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, পরীক্ষিত কিছু নমুনায় পারদের মাত্রা সহনীয় সীমার তুলনায় ৫০ গুণের বেশি পাওয়া গেছে। বিশেষ করে পুকুর ও দিঘিতে চাষ করা মাছের মধ্যে দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইএসডিওর দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের বিভিন্ন খামার, পুকুর ও জলাশয় থেকে সংগৃহীত মাছের নমুনা বিশ্লেষণে পারদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পাওয়া গেছে। বড়, মাঝারি ও ছোট সব ধরনের মাছেই এই দূষণ শনাক্ত হয়েছে। বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক। বিশেষজ্ঞরা জানান, পারদ একটি প্রাকৃতিক মৌলিক ধাতু হলেও এটি পরিবেশে একবার ছড়িয়ে পড়লে সহজে ধ্বংস হয় না। শিল্পকারখানার নির্গমন, কয়লা পোড়ানো, ইলেকট্রনিক বর্জ্য, ব্যাটারি, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পারদ পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা নদী, খাল, বিল ও সমুদ্রে জমা হয়ে মাছের শরীরে প্রবেশ করে। খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে মানুষ সেই দূষিত মাছ খেলে পারদ মানবদেহে জমা হতে থাকে।

সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক গবেষণাগুলোতেও বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মাছে পারদসহ বিভিন্ন ভারী ধাতুর উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, শিল্পায়ন, জাহাজ চলাচল, বন্দর কার্যক্রম, জ্বালানি তেল এবং নদীপথে আসা দূষণের কারণে উপকূলীয় জলজ পরিবেশে ভারী ধাতুর চাপ বাড়ছে। যদিও সাম্প্রতিক কয়েকটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বঙ্গোপসাগরের কিছু সামুদ্রিক মাছে পারদের মাত্রা আন্তর্জাতিক নিরাপদ সীমার মধ্যে থাকার তথ্য উঠে এসেছে। তবে গবেষকরা একই সঙ্গে সতর্ক করেছেন, শিল্পবর্জ্য ও দূষণের চাপ বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে। বিশেষ করে খাদ্যাভ্যাস, মাছের প্রজাতি এবং দূষণের উৎসভেদে ঝুঁকি ভিন্ন হতে পারে।
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে প্রতি বছর ৮০ হাজার টনের বেশি মিঠা পানির মাছ উৎপাদিত হয়। এছাড়া নদী ও সাগর থেকে আহরিত মাছের পরিমাণ দুইলক্ষ টনের বেশি। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এসব মাছ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ এবং বিদেশেও রপ্তানি করা হয়। ফলে মাছে পারদের উপস্থিতি শুধু চট্টগ্রাম নয়, জাতীয় পর্যায়ের খাদ্যনিরাপত্তার বিষয় হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. উৎপল দাশ দৈনিক আজকের জনবাণীকে বলেন, পারদ মানবদেহের জন্য অত্যন্ত বিষাক্ত একটি উপাদান। দীর্ঘদিন ধরে পারদযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করলে স্নায়ুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শিশুদের মেধা ও শারীরিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি ও স্মৃতিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া কিডনি ও লিভারের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া, বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার এবং গর্ভস্থ শিশুর জন্মগত ত্রুটি দেখা দেওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, শুধু মাছ নয়, দেশে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যেও ভারী ধাতু দূষণের প্রবণতা বাড়ছে। সম্প্রতি ইএসডিও পরিচালিত আরেকটি গবেষণায় টি–ব্যাগসহ বিভিন্ন পণ্যে পারদ ও অন্যান্য ভারী ধাতুর উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনা কঠোর করা, ইলেকট্রনিক বর্জ্যের নিরাপদ নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা, মাছের খাদ্য উৎপাদনে মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং নিয়মিতভাবে মাছ ও জলাশয়ের নমুনা পরীক্ষা করা জরুরি। একই সঙ্গে বাজারে বিক্রিত মাছে ভারী ধাতুর উপস্থিতি পর্যবেক্ষণে একটি জাতীয় মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়তে পারে। চট্টগ্রামের মাছে পারদের উদ্বেগজনক উপস্থিতির বিষয়টি তাই শুধু একটি পরিবেশগত সমস্যা নয়, বরং জনস্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তার জন্যও একটি গুরুতর সতর্কবার্তা।

জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা দৈনিক জনতা’কে জানান, আমরা বিষয়টি সম্পর্কে মাছ চাষিদের সচেতন করছি। তবে খালে বা নদীতে পড়া বর্জ্য থেকে যে পারদ মাছে যাচ্ছে তা থেকে নিস্তারের জন্য জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।