ঢাকা ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
১১ দিনেই ৭০০ কোটি, তামিল সিনেমায় শীর্ষে ‘জেলার ২’ ইরাকে এশিয়া কাপে দুই ফাইনালে বাংলাদেশ জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াসুও ফুকুদা মারা গেছেন উখিয়ায় ৬৪ বিজিবির দুই অভিযানে ১ লাখ ৮০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার যশোরের বেনাপোল-খড়িডাঙ্গা পাকা সড়কে সৃষ্টি হয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ যশোরের শার্শায় চোর সন্দেহে আটক ৬ উচ্চশিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতে অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলকে আরও ভূমিকা রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির বিদেশি ঋণ পরিশোধ বেড়েছে গিয়াস কামাল চৌধুরী ছিলেন সাহসী ও নিষ্ঠাবান সাংবাদিক: রুহুল কবির রিজভী ট্রাকচালক হোসেন হত্যা মামলা : শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিচার শুরু

বরুড়ায় প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, শিশু-কিশোরসহ পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে লুট

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০০:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭২ বার পড়া হয়েছে

মোঃ আমিনুল ইসলামঃ বরুড়া: কুমিল্লার বরুড়ায় সৌদিপ্রবাসী এক ব্যক্তির বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ডাকাতরা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, রুপার গয়না ও মোবাইল ফোনসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার *আরিফপুর চেয়ারম্যান বাড়ির পাশে* সৌদিপ্রবাসী ফয়সাল হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ফয়সাল হোসেন স্থানীয় মালেক মেম্বারের ভাতিজা।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, ঘটনার সময় বাড়িতে ফয়সাল হোসেনের স্ত্রী নাঈমা আক্তার, তার মা ও বোন ফারভীন আক্তার ছিলেন। এ সময় ডাকাতরা ফয়সালের দেড় বছরের শিশু ও ১৩ বছরের মেয়েকেও জিম্মি করে। একপর্যায়ে ফয়সালের স্ত্রী নাঈমা আক্তার ও বোন ফারভীন আক্তারকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, ডাকাতদলের সদস্য সংখ্যা ছিল আনুমানিক ছয়জন। তাদের মুখ ডাকা ও পড়নে সর্টপেন্ট ছিলো। তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল। ডাকাতরা একটি গাছ বেয়ে বাড়ির ছাদে উঠে সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করে ধূমপান করে। পরে ছাদের দরজার লক ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে লুটপাট চালায়। সংঘবদ্ধ ডাকাতরা ১০/১৫ মিনিটের মধ্যে ডাকাতি শেষ করে পালিয়ে যায়।

ঘটনাস্থল থেকে *স্টার বিড়ির অবশিষ্ট অংশ* পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে, যা ডাকাতদের ছাদে অবস্থানের সময় ধূমপানের আলামত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডাকাতরা চার জোড়া কানের স্বর্ণের দুল, চারটি চেইন, একটি আংটিসহ আনুমানিক ৮ থেকে ১০ ভরি স্বর্ন ও ১০/১৫ ভরি রুপার অলংকার নিয়ে গেছে। এছাড়া আনুমানিক নগদ *৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা* এবং তিনটি মোবাইল ফোন—একটি হোনার ও দুটি স্যামসাং—লুট হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ *কাজী নাজমুল হক* পরবর্তীতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে খোসবাস ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান সর্দার বলেন, “এলাকায় আমার অনুপস্থিতির কারণে এ ধরনের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। আমি দায়িত্বে থাকাকালীন যেসব এলাকায় চিহ্নিত ডাকাতদের বসবাস ছিল, সেসব এলাকায় প্রশাসনের সহযোগিতায় তাদের ছবি দিয়ে পোস্টার ছাপিয়ে বিভিন্ন দেয়ালে লাগানো হয়েছিল। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। বর্তমানে অনেকেই ডাকাতির মামলায় জামিনে রয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের গুরুত্বসহকারে দেখা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী নাজমুল হক বলেন, *“ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আমি নিজেও ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি দেখব। তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা ও জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে।”*

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ বা মামলা দায়ের হয়নি বলে জানা গেছে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

১১ দিনেই ৭০০ কোটি, তামিল সিনেমায় শীর্ষে ‘জেলার ২’

বরুড়ায় প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, শিশু-কিশোরসহ পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে লুট

আপডেট সময় : ০৪:০০:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোঃ আমিনুল ইসলামঃ বরুড়া: কুমিল্লার বরুড়ায় সৌদিপ্রবাসী এক ব্যক্তির বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ডাকাতরা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, রুপার গয়না ও মোবাইল ফোনসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার *আরিফপুর চেয়ারম্যান বাড়ির পাশে* সৌদিপ্রবাসী ফয়সাল হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ফয়সাল হোসেন স্থানীয় মালেক মেম্বারের ভাতিজা।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, ঘটনার সময় বাড়িতে ফয়সাল হোসেনের স্ত্রী নাঈমা আক্তার, তার মা ও বোন ফারভীন আক্তার ছিলেন। এ সময় ডাকাতরা ফয়সালের দেড় বছরের শিশু ও ১৩ বছরের মেয়েকেও জিম্মি করে। একপর্যায়ে ফয়সালের স্ত্রী নাঈমা আক্তার ও বোন ফারভীন আক্তারকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, ডাকাতদলের সদস্য সংখ্যা ছিল আনুমানিক ছয়জন। তাদের মুখ ডাকা ও পড়নে সর্টপেন্ট ছিলো। তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল। ডাকাতরা একটি গাছ বেয়ে বাড়ির ছাদে উঠে সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করে ধূমপান করে। পরে ছাদের দরজার লক ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে লুটপাট চালায়। সংঘবদ্ধ ডাকাতরা ১০/১৫ মিনিটের মধ্যে ডাকাতি শেষ করে পালিয়ে যায়।

ঘটনাস্থল থেকে *স্টার বিড়ির অবশিষ্ট অংশ* পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে, যা ডাকাতদের ছাদে অবস্থানের সময় ধূমপানের আলামত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডাকাতরা চার জোড়া কানের স্বর্ণের দুল, চারটি চেইন, একটি আংটিসহ আনুমানিক ৮ থেকে ১০ ভরি স্বর্ন ও ১০/১৫ ভরি রুপার অলংকার নিয়ে গেছে। এছাড়া আনুমানিক নগদ *৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা* এবং তিনটি মোবাইল ফোন—একটি হোনার ও দুটি স্যামসাং—লুট হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ *কাজী নাজমুল হক* পরবর্তীতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে খোসবাস ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান সর্দার বলেন, “এলাকায় আমার অনুপস্থিতির কারণে এ ধরনের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। আমি দায়িত্বে থাকাকালীন যেসব এলাকায় চিহ্নিত ডাকাতদের বসবাস ছিল, সেসব এলাকায় প্রশাসনের সহযোগিতায় তাদের ছবি দিয়ে পোস্টার ছাপিয়ে বিভিন্ন দেয়ালে লাগানো হয়েছিল। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। বর্তমানে অনেকেই ডাকাতির মামলায় জামিনে রয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের গুরুত্বসহকারে দেখা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী নাজমুল হক বলেন, *“ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আমি নিজেও ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি দেখব। তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা ও জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে।”*

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ বা মামলা দায়ের হয়নি বলে জানা গেছে।