চীন পাকিস্তান তথ্য করিডরে — চীন-পাকিস্তান তথ্য করিডর (সিপিআইসি) সম্প্রতি উদ্বোধন করা হয়েছে, যা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। ২৭ অক্টোবর ইসলামাবাদের পাকিস্তান-চীন মৈত্রী কেন্দ্রে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এবং পাকিস্তানে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত জিয়াং জাইদং।
সিপিআইসি প্রকল্পের আওতায় সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও থিংক ট্যাংক একত্র হয়ে সংবাদ বিনিময় এবং কনটেন্ট তৈরি করবে। কর্মকর্তারা এটিকে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের (সিপিইসি) ‘কণ্ঠস্বর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সিপিইসি হলো পাকিস্তানে চীনের কয়েক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ও অর্থায়নের একটি কর্মসূচি।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার ২০২৪ সালের মার্চে সিপিইসি নিয়ে ভুয়া খবরের বিরুদ্ধে যৌথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। এর আগে ২০২১ সালে চীন-পাকিস্তান মিডিয়া ফোরাম একটি মিডিয়া করিডর প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এই উদ্যোগকে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি ‘নার্ভ সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেছে।
সিপিআইসি পরিকল্পনার আওতায় পাকিস্তান ও চীনের ১৮টি সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠান সংবাদ ও কনটেন্ট বিনিময় করবে। এর মধ্যে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবং কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে। চীনের সিনহুয়া, চায়না মিডিয়া গ্রুপ এবং পিপলস ডেইলি এই উদ্যোগের অংশ। একটি ‘তথ্য যাচাই’ ইউনিটও গঠন করা হবে, যা বিভ্রান্তিকর খবরগুলো পর্যবেক্ষণ করবে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মতে, এই উদ্যোগ ভুল তথ্য ও মিথ্যার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। পাকিস্তানে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতও এই উদ্যোগকে উভয় দেশের বিরুদ্ধে প্রচারণা মোকাবিলায় সহায়ক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে, সিপিআইসি এমন একটি দেশে চালু হচ্ছে যেখানে ‘ভুয়া খবর’ শব্দটি ব্যবহার করলেই সাংবাদিকদের কারাদণ্ড হতে পারে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তান সরকার ইলেকট্রনিক অপরাধ প্রতিরোধ আইন (পিইসিএ) সংশোধন করে, যা সাংবাদিকদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।
সংশোধিত আইনের ২৬-এ ধারায় মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানা হতে পারে। এই আইনের মাধ্যমে সরকারনিয়ন্ত্রিত একটি সংস্থাকে অনলাইন কনটেন্ট বন্ধ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) জানিয়েছে, পিইসিএর অধীনে অন্তত ৯ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে পিইসিএ লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন রাফতার-এর প্রতিষ্ঠাতা ফারহান মালিক। বেলুচিস্তানে দুর্নীতি নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কারণে ডন-এর সাংবাদিক মুহাম্মদ আকবর নোটজাইকে নোটিশ দেওয়া হয়।
সিপিআইসির উদ্দেশ্য হলো এই অংশীদারিত্বের ভাবমূর্তি রক্ষা করা। ফলে, সাংবাদিকদের জন্য অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধান করা কঠিন হয়ে পড়ছে। চাকরি হারানোর বা গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কায় সাংবাদিকরা প্রতিবেদন প্রকাশে hesitant হতে পারেন, যা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং তথ্যের প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করবে।
সুতরাং, সিপিআইসি প্রকল্পের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সৎ তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে গভীর উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। সাংবাদিকদের জন্য এই পরিস্থিতি তাদের কাজের স্বাধীনতা এবং জনগণের জন্য তথ্যের প্রবাহকে সংকুচিত করছে।
প্রতিনিধির নাম 
























