ঢাকা ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নিজ কার্যালয়ে বিদায়ী ভাষণ দিলেন প্রধান উপদেষ্টা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকায় নির্বাচন প্রশংসিত: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ভালো মন্দ মিলিয়ে দায়িত্বের দেড় বছর শেষ হলো: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা টেকনাফে কোস্ট গার্ড ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে ১৫ জন উদ্ধার বরুড়ায় আলো পাঠাগার কর্তৃক ইফতার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ সিদ্ধিরগঞ্জে নির্মাণাধীন ভবনে নারীর মরদেহ, সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার মন্ত্রীদের জন্য ধানমন্ডিসহ কয়েকটি এলাকায় ৩৭টি বাসা প্রস্তুত: গণপূর্ত উপদেষ্টা শপথ অনুষ্ঠানে থাকছেন ১২শ দেশি-বিদেশি অতিথি টেকনাফে প্রাইভেটকারে ৬ হাজার ইয়াবা উদ্ধার চালক আটক বিয়ের প্রলোভনেশারীরিক সম্পর্ক ও পর্নোগ্রাফির মামলায় চার্জশিট

রোহিঙ্গা সংলাপে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের ৭ দফা দাবি

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫
  • ৮৩ বার পড়া হয়েছে

‎কক্সবাজারে প্রতিনিধি: কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সংলাপে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ এবং টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য সাত দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন। তিনি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জাতিগত নির্মূল থেকে রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন।

‎সোমবার সকাল ১০টায় ড. ইউনুস কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। পরে সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “রোহিঙ্গাদের জীবন রক্ষা ও জাতিগত নির্মূল রোধ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ২০১৭ সালের আগে এবং পরে মানবিক কারণে বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দিয়েছিল। মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মিকে নিশ্চিত করতে হবে, যাতে আর কোনো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ না করে।”

‎তিনি আরও বলেন, “দেশ এখন স্থিতিশীল এবং জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। কক্সবাজারে অংশীজন সংলাপে এই বিষয়গুলো আলোচিত হচ্ছে।”

‎রোহিঙ্গাদের জন্য ড. ইউনুসের সাত দফা প্রস্তাব হলো:

‎রোহিঙ্গাদের দ্রুত এবং টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।

‎২০২৫–২৬ যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনায় তহবিলের ফাঁক পূরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিশ্চিত করা।

মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও আরাকান আর্মি দ্বারা হিংসা বন্ধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানো ও পুনর্মিলন প্রক্রিয়া উন্নয়ন।

‎আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা ও সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধ।

‎জাতিগত নিধনের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া।

‎ICJ ও ICC প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত করা।

‎ড. ইউনুস বলেন, “রোহিঙ্গা সংকট মিয়ানমারের সৃষ্টি, তাই এর সমাধানও সেখানে নিহিত। সকল পক্ষকে অবিলম্বে দৃঢ়তার সঙ্গে উদ্যোগ নিতে হবে।” তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, মিয়ানমার জুন্টা ও আরাকান আর্মির হিংসা বন্ধ করতে এবং রোহিঙ্গাদের প্রতি সহমর্মিতা অব্যাহত রাখতে।

‎সম্মেলনে রোহিঙ্গা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, বীর প্রতীক, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, ইউএনএইচসিআরের সহকারী হাই কমিশনার রাউফ মাজুসহ অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

‎ড. ইউনুস স্মরণ করেন, ২০১৭ সালের আগস্টে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা জীবন রক্ষার জন্য বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন। তিনি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ত্যাগ ও আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রশংসা করেন এবং বলেন, “এই সংলাপ নিউইয়র্কের উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের রোডম্যাপ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”

‎পরবর্তীতে ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস’-এর অংশ হিসেবে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং রোহিঙ্গা সংকটের ওপর একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিজ কার্যালয়ে বিদায়ী ভাষণ দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

রোহিঙ্গা সংলাপে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের ৭ দফা দাবি

আপডেট সময় : ০৪:৩১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫

‎কক্সবাজারে প্রতিনিধি: কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সংলাপে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ এবং টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য সাত দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন। তিনি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জাতিগত নির্মূল থেকে রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন।

‎সোমবার সকাল ১০টায় ড. ইউনুস কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। পরে সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “রোহিঙ্গাদের জীবন রক্ষা ও জাতিগত নির্মূল রোধ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ২০১৭ সালের আগে এবং পরে মানবিক কারণে বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দিয়েছিল। মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মিকে নিশ্চিত করতে হবে, যাতে আর কোনো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ না করে।”

‎তিনি আরও বলেন, “দেশ এখন স্থিতিশীল এবং জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। কক্সবাজারে অংশীজন সংলাপে এই বিষয়গুলো আলোচিত হচ্ছে।”

‎রোহিঙ্গাদের জন্য ড. ইউনুসের সাত দফা প্রস্তাব হলো:

‎রোহিঙ্গাদের দ্রুত এবং টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।

‎২০২৫–২৬ যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনায় তহবিলের ফাঁক পূরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিশ্চিত করা।

মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও আরাকান আর্মি দ্বারা হিংসা বন্ধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানো ও পুনর্মিলন প্রক্রিয়া উন্নয়ন।

‎আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা ও সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধ।

‎জাতিগত নিধনের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া।

‎ICJ ও ICC প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত করা।

‎ড. ইউনুস বলেন, “রোহিঙ্গা সংকট মিয়ানমারের সৃষ্টি, তাই এর সমাধানও সেখানে নিহিত। সকল পক্ষকে অবিলম্বে দৃঢ়তার সঙ্গে উদ্যোগ নিতে হবে।” তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, মিয়ানমার জুন্টা ও আরাকান আর্মির হিংসা বন্ধ করতে এবং রোহিঙ্গাদের প্রতি সহমর্মিতা অব্যাহত রাখতে।

‎সম্মেলনে রোহিঙ্গা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, বীর প্রতীক, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, ইউএনএইচসিআরের সহকারী হাই কমিশনার রাউফ মাজুসহ অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

‎ড. ইউনুস স্মরণ করেন, ২০১৭ সালের আগস্টে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা জীবন রক্ষার জন্য বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন। তিনি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ত্যাগ ও আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রশংসা করেন এবং বলেন, “এই সংলাপ নিউইয়র্কের উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের রোডম্যাপ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”

‎পরবর্তীতে ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস’-এর অংশ হিসেবে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং রোহিঙ্গা সংকটের ওপর একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।