ঢাকা ০৯:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোর কেশবপুর উপজেলায়  খাদ্য সংকটে কালোমুখ হনু নিজ অর্থায়নে ৩০০ মিটার সড়ক সংস্কার করে প্রশংসায় মেম্বার প্রার্থী আব্দুস সালাম টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, ভোগান্তিতে দুই গ্রামের ১০ হাজার মানুষ টেকনাফে র‌্যাবের অভিযানে ইয়াবা, নগদ টাকা ও ইলেকট্রিক শক মেশিনসহ আটক ২ ব্লু ইকোনমি সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেনাপোল স্থলবন্দরে ভারত থেকে এলো টিয়ার গ্যাস সেলের বড় চালান, গন্তব্য যশোর ক্যান্টনমেন্ট বিজিবির অভিযানে বেনাপোল সীমান্তে ৫ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাচালানি পণ্য জব্দ বেনাপোলে ফেনসিডিল মামলায় পারভীনাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড যশোরে প্রতারক চক্রের মালামাল সহ দুই সদস্য আটক গাছ লাগানোও রাজনীতি, যদি তা জনগণের কল্যাণে আসে: আতাউর রহমান ঢালী

যশোর কেশবপুর উপজেলায়  খাদ্য সংকটে কালোমুখ হনু

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১২:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

মনির হোসেন, যশোর প্রতিনিধি: খাদ্যের সন্ধানে হনুমান এখন বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হানা দিচ্ছে।
যশোরের কেশবপুর উপজেলায় গণনা করে বিরল প্রজাতির কালোমুখো হনুমানের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহের দাবি উঠেছে। সম্প্রতি কেশবপুরে হনুমানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এমন দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। খাদ্যের সন্ধানে হনুমান এখন বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হানা দিচ্ছে। আবার খাদ্যের খোঁজে বেরিয়ে আহত হওয়া হনুমান চিকিৎসার জন্য মানুষের শরণাপন্ন হচ্ছে। এমন ঘটনার পর হনুমান গণনার দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

কেশবপুর বর্তমানে প্রায় ৪ শতাধিক হনুমান বিচরণ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০। তবে কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে গণনা না হওয়ায় সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি। বর্তমানে কেশবপুর ও মণিরামপুর উপজেলার অন্তত ১২টি স্থানে হনুমানের বিচরণ বেশি দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, বন বিভাগ থেকে যে খাদ্য সরবরাহ করা হয়, তা হনুমানগুলোর প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত নয়।

প্রতিদিন বন বিভাগ থেকে কালোমুখো হনুমানের জন্য ৪৭ কেজি ২০০ গ্রাম কলা, ৬ কেজি ৭০০ গ্রাম পাউরুটি, ৭ কেজি ৩৫০ গ্রাম বাদাম ও ৭ কেজি সবজি সরবরাহ করা হয়। তবে মাত্র ৫ থেকে ৬টি স্থানে এই খাদ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয় বলে জানান খাদ্য সরবরাহকারী ভ্যানচালক আতিয়ার রহমান।

আদিকাল থেকে কেশবপুরের ভোগতী, বালিয়াডাঙ্গা, মধ্যকুল, ক্ষতিয়াখালী, সুজাপুর, ব্রহ্মকাটি, আলতাপোল, বায়সা, রামচন্দ্রপুর, মাগুরাডাঙ্গা এবং পাশের মণিরামপুর উপজেলার মুজগুন্নী ও দুর্গাপুর এলাকায় হনুমান বিচরণ করে আসছে।

সম্প্রতি আগের তুলনায় এসব এলাকায় হনুমানের উপস্থিতি আরও বেড়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। খাদ্যের সন্ধানে বেরিয়ে অনেক হনুমান বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাচ্ছে, আবার বিভিন্নভাবে আহতও হচ্ছে।

খাদ্য সরবরাহকারী আতিয়ার রহমান বলেন, “উপজেলা সদর, হাসপাতাল, বালিয়াডাঙ্গা, ক্ষতিয়াখালী, মাগুরাডাঙ্গা ও বাঁকাবর্শী-নতুনহাট এলাকা ছাড়া অন্য কোথাও নিয়মিত খাদ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয় না।”

সাহাপাড়ার খ্রিস্টান মিশনের পাশের মুদি দোকানদার বিশ্বজিৎ বলেন, “সম্প্রতি আমাদের এলাকায় হনুমানের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। প্রায়ই দোকান থেকে বিস্কুট, পটেটো চিপস ও বাজারের প্যাকেট নিয়ে যায়। আগের তুলনায় অনেক বেশি হনুমান এসেছে। পর্যাপ্ত খাবার না পেয়ে তারা বাড়িঘর ও দোকানে হানা দিচ্ছে।”

সম্প্রতি খাদ্যের সন্ধানে বেরিয়ে আহত একটি হনুমান শহরের ত্রিমোহিনী মোড়ে এসে চিকিৎসার জন্য মানুষের সাহায্য চাইতে থাকে। স্থানীয় সংবাদকর্মী আব্দুর রহমান হনুমানটির কাছে যেতেই সেটি তার কাঁধে উঠে বসে। পরে তিনি দ্রুত পাশের একটি ফার্মেসিতে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

কেশবপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা অলোকেশ কুমার সরকার বলেন, “বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুটি হনুমানের মৃত্যুর তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। এছাড়া কয়েকটি আহত হনুমানের চিকিৎসাও দেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা সমীরণ বিশ্বাস বলেন, “সম্প্রতি কেশবপুরে হনুমানের সংখ্যা বেড়েছে। উপজেলা সদর ও হাসপাতাল এলাকায় বিচরণকারী অধিকাংশ মা হনুমানের কোলে শাবক দেখা যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমানে কেশবপুরে ৪ শতাধিক হনুমান রয়েছে। আনুষ্ঠানিক গণনা হলে সঠিক সংখ্যা জানা সম্ভব হবে।”

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

যশোর কেশবপুর উপজেলায়  খাদ্য সংকটে কালোমুখ হনু

যশোর কেশবপুর উপজেলায়  খাদ্য সংকটে কালোমুখ হনু

আপডেট সময় : ০৮:১২:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

মনির হোসেন, যশোর প্রতিনিধি: খাদ্যের সন্ধানে হনুমান এখন বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হানা দিচ্ছে।
যশোরের কেশবপুর উপজেলায় গণনা করে বিরল প্রজাতির কালোমুখো হনুমানের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহের দাবি উঠেছে। সম্প্রতি কেশবপুরে হনুমানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এমন দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। খাদ্যের সন্ধানে হনুমান এখন বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হানা দিচ্ছে। আবার খাদ্যের খোঁজে বেরিয়ে আহত হওয়া হনুমান চিকিৎসার জন্য মানুষের শরণাপন্ন হচ্ছে। এমন ঘটনার পর হনুমান গণনার দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

কেশবপুর বর্তমানে প্রায় ৪ শতাধিক হনুমান বিচরণ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০। তবে কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে গণনা না হওয়ায় সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি। বর্তমানে কেশবপুর ও মণিরামপুর উপজেলার অন্তত ১২টি স্থানে হনুমানের বিচরণ বেশি দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, বন বিভাগ থেকে যে খাদ্য সরবরাহ করা হয়, তা হনুমানগুলোর প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত নয়।

প্রতিদিন বন বিভাগ থেকে কালোমুখো হনুমানের জন্য ৪৭ কেজি ২০০ গ্রাম কলা, ৬ কেজি ৭০০ গ্রাম পাউরুটি, ৭ কেজি ৩৫০ গ্রাম বাদাম ও ৭ কেজি সবজি সরবরাহ করা হয়। তবে মাত্র ৫ থেকে ৬টি স্থানে এই খাদ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয় বলে জানান খাদ্য সরবরাহকারী ভ্যানচালক আতিয়ার রহমান।

আদিকাল থেকে কেশবপুরের ভোগতী, বালিয়াডাঙ্গা, মধ্যকুল, ক্ষতিয়াখালী, সুজাপুর, ব্রহ্মকাটি, আলতাপোল, বায়সা, রামচন্দ্রপুর, মাগুরাডাঙ্গা এবং পাশের মণিরামপুর উপজেলার মুজগুন্নী ও দুর্গাপুর এলাকায় হনুমান বিচরণ করে আসছে।

সম্প্রতি আগের তুলনায় এসব এলাকায় হনুমানের উপস্থিতি আরও বেড়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। খাদ্যের সন্ধানে বেরিয়ে অনেক হনুমান বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাচ্ছে, আবার বিভিন্নভাবে আহতও হচ্ছে।

খাদ্য সরবরাহকারী আতিয়ার রহমান বলেন, “উপজেলা সদর, হাসপাতাল, বালিয়াডাঙ্গা, ক্ষতিয়াখালী, মাগুরাডাঙ্গা ও বাঁকাবর্শী-নতুনহাট এলাকা ছাড়া অন্য কোথাও নিয়মিত খাদ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয় না।”

সাহাপাড়ার খ্রিস্টান মিশনের পাশের মুদি দোকানদার বিশ্বজিৎ বলেন, “সম্প্রতি আমাদের এলাকায় হনুমানের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। প্রায়ই দোকান থেকে বিস্কুট, পটেটো চিপস ও বাজারের প্যাকেট নিয়ে যায়। আগের তুলনায় অনেক বেশি হনুমান এসেছে। পর্যাপ্ত খাবার না পেয়ে তারা বাড়িঘর ও দোকানে হানা দিচ্ছে।”

সম্প্রতি খাদ্যের সন্ধানে বেরিয়ে আহত একটি হনুমান শহরের ত্রিমোহিনী মোড়ে এসে চিকিৎসার জন্য মানুষের সাহায্য চাইতে থাকে। স্থানীয় সংবাদকর্মী আব্দুর রহমান হনুমানটির কাছে যেতেই সেটি তার কাঁধে উঠে বসে। পরে তিনি দ্রুত পাশের একটি ফার্মেসিতে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

কেশবপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা অলোকেশ কুমার সরকার বলেন, “বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুটি হনুমানের মৃত্যুর তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। এছাড়া কয়েকটি আহত হনুমানের চিকিৎসাও দেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা সমীরণ বিশ্বাস বলেন, “সম্প্রতি কেশবপুরে হনুমানের সংখ্যা বেড়েছে। উপজেলা সদর ও হাসপাতাল এলাকায় বিচরণকারী অধিকাংশ মা হনুমানের কোলে শাবক দেখা যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমানে কেশবপুরে ৪ শতাধিক হনুমান রয়েছে। আনুষ্ঠানিক গণনা হলে সঠিক সংখ্যা জানা সম্ভব হবে।”