ঢাকা ০৫:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের হাতে IBAS++ এর মাধ্যমে অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনে ছেংগারচর পৌরসভায় সারোয়ারুল আবেদীন খোকনের আয়োজনে দোয়া মাহফিল পটিয়া কইশ্যা পাড়া হযরত বদর আউলিয়া ইবতেদায়ী মাদ্রাসার একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যৌথ অভিযানে দুই ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার নামাজ শেষে বাংলাদেশি যুবককে গুলি: উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উত্তেজনা, আহত ১ মাধবপুরে মাদকবিরোধী সমাবেশ বরুড়া ক্লাব সামাজিক সংগঠনের আত্মপ্রকাশ মাধবপুরে ফুটবল খেলাশ প্রাণ গেল নৌশিনের চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’—মতলব উত্তরে মানববন্ধন ও র‌্যালি যশোর বাঘারপাড়ায় পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল তিন শিশুর

নামাজ শেষে বাংলাদেশি যুবককে গুলি: উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উত্তেজনা, আহত ১

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৬:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

ফরহাদ রহমান,স্টাফ রিপোর্টার কক্সবাজার: কক্সবাজারের উখিয়ায় জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় এক বাংলাদেশি যুবককে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে সশস্ত্র রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার দুপুরে পালংখালী ইউনিয়নের ১৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-২ ব্লকে এ ঘটনা ঘটে। গুলিতে গুরুতর আহত হন স্থানীয় ব্যবসায়ী ওবাইদুল হক লালু (৩২)। ঘটনার পর ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিরা মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় হঠাৎ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, মসজিদের সামনে লালুর সঙ্গে কয়েকজন রোহিঙ্গার কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে অস্ত্রধারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তার ডান পায়ের গোড়ালিতে গুলি লাগে।

আহত লালু পালংখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চোরখোলা এলাকার আবুল হোসেন (ভুলু)-এর ছেলে। তাকে প্রথমে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আহতের বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমার ভাই মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার চাই।”

স্থানীয়দের দাবি, জমি নিয়ে বিরোধ, আর্থিক লেনদেন ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে গুলির প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী মরিয়ম বেগম জানান, “জুমার নামাজের পর হঠাৎ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। পরে জানতে পারি একজন বাংলাদেশি যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।”

এদিকে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, গুলির ঘটনার পর অস্ত্রধারীরা ক্যাম্পের কাঁটাতারসংলগ্ন এলাকা দিয়ে বাংলাদেশি বসতিপূর্ণ এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ ও এপিবিএনের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

উখিয়া থানার এসআই আরমান আজাদ বলেন, “১৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাঁটাতারের পাশে স্থানীয় এক বাংলাদেশি দোকানদারকে গুলি করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”

৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, “ঘটনার পর ক্যাম্পের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।”

পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “ক্যাম্পের ভেতরে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার উদ্বেগজনক। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আরও কঠোর অভিযান প্রয়োজন।”

পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবর্ষণের প্রকৃত কারণ উদঘাটন, ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের মধ্যে এখনো উদ্বেগ বিরাজ করছে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের হাতে IBAS++ এর মাধ্যমে অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নামাজ শেষে বাংলাদেশি যুবককে গুলি: উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উত্তেজনা, আহত ১

আপডেট সময় : ০৪:৪৬:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

ফরহাদ রহমান,স্টাফ রিপোর্টার কক্সবাজার: কক্সবাজারের উখিয়ায় জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় এক বাংলাদেশি যুবককে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে সশস্ত্র রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার দুপুরে পালংখালী ইউনিয়নের ১৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-২ ব্লকে এ ঘটনা ঘটে। গুলিতে গুরুতর আহত হন স্থানীয় ব্যবসায়ী ওবাইদুল হক লালু (৩২)। ঘটনার পর ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিরা মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় হঠাৎ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, মসজিদের সামনে লালুর সঙ্গে কয়েকজন রোহিঙ্গার কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে অস্ত্রধারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তার ডান পায়ের গোড়ালিতে গুলি লাগে।

আহত লালু পালংখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চোরখোলা এলাকার আবুল হোসেন (ভুলু)-এর ছেলে। তাকে প্রথমে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আহতের বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমার ভাই মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার চাই।”

স্থানীয়দের দাবি, জমি নিয়ে বিরোধ, আর্থিক লেনদেন ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে গুলির প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী মরিয়ম বেগম জানান, “জুমার নামাজের পর হঠাৎ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। পরে জানতে পারি একজন বাংলাদেশি যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।”

এদিকে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, গুলির ঘটনার পর অস্ত্রধারীরা ক্যাম্পের কাঁটাতারসংলগ্ন এলাকা দিয়ে বাংলাদেশি বসতিপূর্ণ এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ ও এপিবিএনের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

উখিয়া থানার এসআই আরমান আজাদ বলেন, “১৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাঁটাতারের পাশে স্থানীয় এক বাংলাদেশি দোকানদারকে গুলি করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”

৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, “ঘটনার পর ক্যাম্পের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।”

পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “ক্যাম্পের ভেতরে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার উদ্বেগজনক। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আরও কঠোর অভিযান প্রয়োজন।”

পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবর্ষণের প্রকৃত কারণ উদঘাটন, ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের মধ্যে এখনো উদ্বেগ বিরাজ করছে।