ঢাকা ০৫:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের হাতে IBAS++ এর মাধ্যমে অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনে ছেংগারচর পৌরসভায় সারোয়ারুল আবেদীন খোকনের আয়োজনে দোয়া মাহফিল পটিয়া কইশ্যা পাড়া হযরত বদর আউলিয়া ইবতেদায়ী মাদ্রাসার একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যৌথ অভিযানে দুই ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার নামাজ শেষে বাংলাদেশি যুবককে গুলি: উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উত্তেজনা, আহত ১ মাধবপুরে মাদকবিরোধী সমাবেশ বরুড়া ক্লাব সামাজিক সংগঠনের আত্মপ্রকাশ মাধবপুরে ফুটবল খেলাশ প্রাণ গেল নৌশিনের চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’—মতলব উত্তরে মানববন্ধন ও র‌্যালি যশোর বাঘারপাড়ায় পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল তিন শিশুর

মাধবপুরে ফুটবল খেলাশ প্রাণ গেল নৌশিনের

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১৭:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

সাব্বির হাসান, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: ফুটবল খেলার প্রস্তুতি চলছিল। মাঠে নেমেছিল নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নৌশিন আক্তারও। কিন্তু খেলা শুরুর পরপরই হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হৃদরোগে আক্রান্ত নৌশিনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ছাতিয়াইন বিশ্বনাথ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন বিশ্বনাথ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়ের প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা-২০২৬-এ অংশগ্রহণের প্রস্তুতি হিসেবে বাছাই পর্বের খেলা চলছিল। মেয়েদের খেলায় অংশ নেয় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নৌশিন আক্তার। একপর্যায়ে মাঠেই অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। পরে শিক্ষকরা তাকে প্রথমে ছাতিয়াইন হাসপাতালে এবং পরে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নৌশিন ছাতিয়াইন গ্রামের জুয়েল খাঁনের মেয়ে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নৌশিন শিশুকাল থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত ছিল। চিকিৎসক তাকে খেলাধুলা ও অতিরিক্ত পরিশ্রম থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরিবারের দাবি, তার অসুস্থতার বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকরা জানতেন।

নৌশিনের চাচা শামীম খান অভিযোগ করে বলেন, “আমার ভাতিজির অসুস্থতার কথা প্রধান শিক্ষকসহ সব শিক্ষককে জানানো ছিল। এরপরও প্রচণ্ড রোদের মধ্যে তাকে খেলতে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। মৃত্যুর প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পার হলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের বিষয়টি জানায়নি।”

তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশিদ বলেন, তিনি উপজেলা সদরে একটি মিটিংয়ে ছিলেন। পরে বিষয়টি জানতে পারেন। তার ভাষ্য, নৌশিনের হার্টে ছিদ্র ছিল এবং অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি।

প্রধান শিক্ষক বলেন, “আজ মেয়েদের বাছাই খেলা ছিল। নৌশিনকে খেলতে একজন শিক্ষক বাধাও দিয়েছিলেন। কিন্তু সে খেলতে নেমে যায়। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে শিক্ষকরা তাকে প্রথমে ছাতিয়াইন হাসপাতালে এবং পরে উপজেলা সদরে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার অফিসার ইনচার্জকে জানানো হয়েছে।”

মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “শিক্ষা কর্মকর্তা আমাকে বিষয়টি অবগত করেছেন। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি হিসেবে বাছাই পর্বের ম্যাচ চলছিল। মেয়েটি ওই খেলায় অংশ নিয়েছিল।”

নৌশিনের আকস্মিক মৃত্যুতে সহপাঠী, শিক্ষক ও স্থানীয়দের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। একই সঙ্গে হৃদরোগে আক্রান্ত একজন শিক্ষার্থীকে খেলায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না এবং মৃত্যুর পর পরিবারকে খবর দিতে কোনো বিলম্ব হয়েছিল কি না—এসব বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের হাতে IBAS++ এর মাধ্যমে অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মাধবপুরে ফুটবল খেলাশ প্রাণ গেল নৌশিনের

আপডেট সময় : ০৩:১৭:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

সাব্বির হাসান, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: ফুটবল খেলার প্রস্তুতি চলছিল। মাঠে নেমেছিল নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নৌশিন আক্তারও। কিন্তু খেলা শুরুর পরপরই হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হৃদরোগে আক্রান্ত নৌশিনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ছাতিয়াইন বিশ্বনাথ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন বিশ্বনাথ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়ের প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা-২০২৬-এ অংশগ্রহণের প্রস্তুতি হিসেবে বাছাই পর্বের খেলা চলছিল। মেয়েদের খেলায় অংশ নেয় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নৌশিন আক্তার। একপর্যায়ে মাঠেই অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। পরে শিক্ষকরা তাকে প্রথমে ছাতিয়াইন হাসপাতালে এবং পরে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নৌশিন ছাতিয়াইন গ্রামের জুয়েল খাঁনের মেয়ে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নৌশিন শিশুকাল থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত ছিল। চিকিৎসক তাকে খেলাধুলা ও অতিরিক্ত পরিশ্রম থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরিবারের দাবি, তার অসুস্থতার বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকরা জানতেন।

নৌশিনের চাচা শামীম খান অভিযোগ করে বলেন, “আমার ভাতিজির অসুস্থতার কথা প্রধান শিক্ষকসহ সব শিক্ষককে জানানো ছিল। এরপরও প্রচণ্ড রোদের মধ্যে তাকে খেলতে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। মৃত্যুর প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পার হলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের বিষয়টি জানায়নি।”

তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশিদ বলেন, তিনি উপজেলা সদরে একটি মিটিংয়ে ছিলেন। পরে বিষয়টি জানতে পারেন। তার ভাষ্য, নৌশিনের হার্টে ছিদ্র ছিল এবং অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি।

প্রধান শিক্ষক বলেন, “আজ মেয়েদের বাছাই খেলা ছিল। নৌশিনকে খেলতে একজন শিক্ষক বাধাও দিয়েছিলেন। কিন্তু সে খেলতে নেমে যায়। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে শিক্ষকরা তাকে প্রথমে ছাতিয়াইন হাসপাতালে এবং পরে উপজেলা সদরে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার অফিসার ইনচার্জকে জানানো হয়েছে।”

মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “শিক্ষা কর্মকর্তা আমাকে বিষয়টি অবগত করেছেন। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি হিসেবে বাছাই পর্বের ম্যাচ চলছিল। মেয়েটি ওই খেলায় অংশ নিয়েছিল।”

নৌশিনের আকস্মিক মৃত্যুতে সহপাঠী, শিক্ষক ও স্থানীয়দের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। একই সঙ্গে হৃদরোগে আক্রান্ত একজন শিক্ষার্থীকে খেলায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না এবং মৃত্যুর পর পরিবারকে খবর দিতে কোনো বিলম্ব হয়েছিল কি না—এসব বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।