সাব্বির হাসান, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: ফুটবল খেলার প্রস্তুতি চলছিল। মাঠে নেমেছিল নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নৌশিন আক্তারও। কিন্তু খেলা শুরুর পরপরই হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হৃদরোগে আক্রান্ত নৌশিনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ছাতিয়াইন বিশ্বনাথ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন বিশ্বনাথ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়ের প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা-২০২৬-এ অংশগ্রহণের প্রস্তুতি হিসেবে বাছাই পর্বের খেলা চলছিল। মেয়েদের খেলায় অংশ নেয় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নৌশিন আক্তার। একপর্যায়ে মাঠেই অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। পরে শিক্ষকরা তাকে প্রথমে ছাতিয়াইন হাসপাতালে এবং পরে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নৌশিন ছাতিয়াইন গ্রামের জুয়েল খাঁনের মেয়ে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নৌশিন শিশুকাল থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত ছিল। চিকিৎসক তাকে খেলাধুলা ও অতিরিক্ত পরিশ্রম থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরিবারের দাবি, তার অসুস্থতার বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকরা জানতেন।
নৌশিনের চাচা শামীম খান অভিযোগ করে বলেন, “আমার ভাতিজির অসুস্থতার কথা প্রধান শিক্ষকসহ সব শিক্ষককে জানানো ছিল। এরপরও প্রচণ্ড রোদের মধ্যে তাকে খেলতে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। মৃত্যুর প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পার হলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের বিষয়টি জানায়নি।”
তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশিদ বলেন, তিনি উপজেলা সদরে একটি মিটিংয়ে ছিলেন। পরে বিষয়টি জানতে পারেন। তার ভাষ্য, নৌশিনের হার্টে ছিদ্র ছিল এবং অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি।
প্রধান শিক্ষক বলেন, “আজ মেয়েদের বাছাই খেলা ছিল। নৌশিনকে খেলতে একজন শিক্ষক বাধাও দিয়েছিলেন। কিন্তু সে খেলতে নেমে যায়। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে শিক্ষকরা তাকে প্রথমে ছাতিয়াইন হাসপাতালে এবং পরে উপজেলা সদরে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার অফিসার ইনচার্জকে জানানো হয়েছে।”
মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “শিক্ষা কর্মকর্তা আমাকে বিষয়টি অবগত করেছেন। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি হিসেবে বাছাই পর্বের ম্যাচ চলছিল। মেয়েটি ওই খেলায় অংশ নিয়েছিল।”
নৌশিনের আকস্মিক মৃত্যুতে সহপাঠী, শিক্ষক ও স্থানীয়দের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। একই সঙ্গে হৃদরোগে আক্রান্ত একজন শিক্ষার্থীকে খেলায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না এবং মৃত্যুর পর পরিবারকে খবর দিতে কোনো বিলম্ব হয়েছিল কি না—এসব বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
প্রতিনিধির নাম 


















