ঢাকা ০৩:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কিশোরগঞ্জে জামায়াত নেতার ছেলেকে ছুরিকাঘাত পূর্বাচলে ২৫ কোটি টাকার কাঁচাবাজার জনশূন্য, প্রশ্ন উঠছে নির্মাণের যৌক্তিকতা গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি দাবিতে জিএম কাদেরের সমর্থন ফরিদপুরের সালথায় জমির সীমানায় সংঘর্ষ, ১০ জন আহত গাজীপুরে মহাসড়কে হামলা ও কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারের জন্য আদালতের অনুমতির প্রস্তাব যশোর কেশবপুরে স্যালোমেশিনের পানির গর্ত থেকে নারী-পুরুষের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার যশোরে শিক্ষা বোর্ডের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে যশোর, তলানিতে নড়াইল বরুড়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ২০, অভিভাবকের জিম্মায় ১৫ কিশোর, ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার, আদালতে সোপর্দ ৫ জন বরুড়ায় সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নে পিআইবির কর্মশালা শেষ মাল্টিমিডিয়া, এআই ও ফ্যাক্ট চেকিংয়ে প্রশিক্ষণ; সনদ পেলেন ৩৫ সাংবাদিক

দ. কোরিয়ায় যৌন হয়রানিমূলক কন্টেন্ট তৈরিতে লক্ষাধিক ক্যামেরা হ্যাক, আটক ৪

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৯:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩৫৫ বার পড়া হয়েছে

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ কোরিয়ায় মানুষের গোপন মুহূর্ত ধারণ করে কন্টেন্ট তৈরিতে এক লাখ ২০ হাজারের বেশি হোম ক্যামেরা হ্যাকের অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত ফুটেজগুলো নিয়ে অন্যদেশের একটি ওয়েবসাইটের জন্য যৌন হয়রানিমূলক কন্টেন্ট তৈরিতে ব্যবহার হতো।

দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় পুলিশ সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তরা ইন্টারনেট প্রোটোকল (আইপি) ক্যামেরার দুর্বলতা যেমন- সহজ পাসওয়ার্ড এবং অন্যান্য দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুযোগ কাজে লাগিয়ে হ্যাকিং চালাতো।

সিসিটিভির তুলনায় সস্তা হওয়ায় আইপি ক্যামেরা বা হোম ক্যামেরা সাধারণত বাড়ির নিরাপত্তা, শিশু ও পোষা প্রাণীর নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হয়। হ্যাক হওয়া ক্যামেরার অবস্থান ছিল ব্যক্তিগত বাসা, কারাওকে রুম, শরীরচর্চা কেন্দ্র, স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ক্লিনিকসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থান।

দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় পুলিশ সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়, চার সন্দেহভাজনের মধ্যে সমন্বয় করে হ্যাকের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তারা বিচ্ছিন্নভাবে এসব অপরাধ চালিয়েছে।

গ্রেফতার একজনের বিরুদ্ধে ৬৩ হাজার ক্যামেরা হ্যাক করে ৫৪৫টি যৌন হয়রানিমূলক ভিডিও তৈরির অভিযোগ রয়েছে, যা তিনি ৩ কোটি ৫০ লাখ উন বা ১২ হাজার ২৩৫ মার্কিন ডলারের সমমূল্য ভার্চুয়াল সম্পদের বিনিময়ে বিক্রি করেন।

আরেকজনের বিরুদ্ধে ৭০ হাজার ক্যামেরা হ্যাক করে ৬৪৮টি ভিডিও এক কোটি ৮০ লাখ উনের বিনিময়ে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

এ দুই ব্যক্তি গত এক বছরে অবৈধভাবে আইপি ক্যামেরার ফুটেজ বিতরণকারী একটি বিদেশি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ভিডিওর প্রায় ৬২ শতাংশের জন্য দায়ী বলে জানিয়েছে পুলিশ। কর্তৃপক্ষ এখন ওয়েবসাইটটি বন্ধ করার পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং এর পরিচালকের বিরুদ্ধে বিদেশি সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথ তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি সাইট থেকে ভিডিও কেনা বা দেখা-এমন আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জাতীয় পুলিশ সংস্থার সাইবার তদন্ত প্রধান পার্ক উ-হিউন বলেন, “আইপি ক্যামেরা হ্যাকিং এবং অবৈধ ভিডিও ধারণ ভুক্তভোগীদের ওপর গভীর মানসিক ও সামাজিক ক্ষতি তৈরি করে। এগুলো গুরুতর অপরাধ। অবৈধভাবে ধারণকৃত ভিডিও দেখা বা রাখাও অপরাধ। আমরা সেগুলোও কঠোরভাবে তদন্ত করব।”

পুলিশ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৫৮টি স্থানে ভুক্তভোগীদের সরাসরি গিয়ে বা যোগাযোগ করে অবহিত করেছে এবং দ্রুত পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছে। তারা ভুক্তভোগীদের ফুটেজ মুছে ফেলা ও ব্লক করতে সহায়তা করছে এবং আরও ভুক্তভোগীদের শনাক্তের চেষ্টা করছে।

জাতীয় পুলিশ সংস্থা এক বিবৃতিতে বলেছে, যারা বাসায় বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে আইপি ক্যামেরা ব্যবহার করেন, তাদের সচেতন থাকা ও নিয়মিতভাবে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করাটা সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরগঞ্জে জামায়াত নেতার ছেলেকে ছুরিকাঘাত

দ. কোরিয়ায় যৌন হয়রানিমূলক কন্টেন্ট তৈরিতে লক্ষাধিক ক্যামেরা হ্যাক, আটক ৪

আপডেট সময় : ০৮:৫৯:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ কোরিয়ায় মানুষের গোপন মুহূর্ত ধারণ করে কন্টেন্ট তৈরিতে এক লাখ ২০ হাজারের বেশি হোম ক্যামেরা হ্যাকের অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত ফুটেজগুলো নিয়ে অন্যদেশের একটি ওয়েবসাইটের জন্য যৌন হয়রানিমূলক কন্টেন্ট তৈরিতে ব্যবহার হতো।

দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় পুলিশ সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তরা ইন্টারনেট প্রোটোকল (আইপি) ক্যামেরার দুর্বলতা যেমন- সহজ পাসওয়ার্ড এবং অন্যান্য দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুযোগ কাজে লাগিয়ে হ্যাকিং চালাতো।

সিসিটিভির তুলনায় সস্তা হওয়ায় আইপি ক্যামেরা বা হোম ক্যামেরা সাধারণত বাড়ির নিরাপত্তা, শিশু ও পোষা প্রাণীর নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হয়। হ্যাক হওয়া ক্যামেরার অবস্থান ছিল ব্যক্তিগত বাসা, কারাওকে রুম, শরীরচর্চা কেন্দ্র, স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ক্লিনিকসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থান।

দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় পুলিশ সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়, চার সন্দেহভাজনের মধ্যে সমন্বয় করে হ্যাকের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তারা বিচ্ছিন্নভাবে এসব অপরাধ চালিয়েছে।

গ্রেফতার একজনের বিরুদ্ধে ৬৩ হাজার ক্যামেরা হ্যাক করে ৫৪৫টি যৌন হয়রানিমূলক ভিডিও তৈরির অভিযোগ রয়েছে, যা তিনি ৩ কোটি ৫০ লাখ উন বা ১২ হাজার ২৩৫ মার্কিন ডলারের সমমূল্য ভার্চুয়াল সম্পদের বিনিময়ে বিক্রি করেন।

আরেকজনের বিরুদ্ধে ৭০ হাজার ক্যামেরা হ্যাক করে ৬৪৮টি ভিডিও এক কোটি ৮০ লাখ উনের বিনিময়ে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

এ দুই ব্যক্তি গত এক বছরে অবৈধভাবে আইপি ক্যামেরার ফুটেজ বিতরণকারী একটি বিদেশি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ভিডিওর প্রায় ৬২ শতাংশের জন্য দায়ী বলে জানিয়েছে পুলিশ। কর্তৃপক্ষ এখন ওয়েবসাইটটি বন্ধ করার পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং এর পরিচালকের বিরুদ্ধে বিদেশি সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথ তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি সাইট থেকে ভিডিও কেনা বা দেখা-এমন আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জাতীয় পুলিশ সংস্থার সাইবার তদন্ত প্রধান পার্ক উ-হিউন বলেন, “আইপি ক্যামেরা হ্যাকিং এবং অবৈধ ভিডিও ধারণ ভুক্তভোগীদের ওপর গভীর মানসিক ও সামাজিক ক্ষতি তৈরি করে। এগুলো গুরুতর অপরাধ। অবৈধভাবে ধারণকৃত ভিডিও দেখা বা রাখাও অপরাধ। আমরা সেগুলোও কঠোরভাবে তদন্ত করব।”

পুলিশ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৫৮টি স্থানে ভুক্তভোগীদের সরাসরি গিয়ে বা যোগাযোগ করে অবহিত করেছে এবং দ্রুত পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছে। তারা ভুক্তভোগীদের ফুটেজ মুছে ফেলা ও ব্লক করতে সহায়তা করছে এবং আরও ভুক্তভোগীদের শনাক্তের চেষ্টা করছে।

জাতীয় পুলিশ সংস্থা এক বিবৃতিতে বলেছে, যারা বাসায় বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে আইপি ক্যামেরা ব্যবহার করেন, তাদের সচেতন থাকা ও নিয়মিতভাবে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করাটা সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।