ঢাকা ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বরুড়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত পাঁচ বছর খেদমত করলেই মাদরাসার খরচে উমরাহ, প্রতিশ্রুতি পূরণে গেলেন পাঁচ উস্তাদ নরসিংদীর আইয়ূব পুর ইউনিয়ন পরিষদে মসজিদ উদ্বোধন করেন নির্বাহী অফিসার মোছাঃ ফারজানা ইয়াসমিন টেকনাফে চেকপোস্টে নোহা থামিয়ে অস্ত্রসহ ৪ জন গ্রেপ্তার মালিক হঠাও, বাগান বাঁচাও’ স্লোগানে উত্তাল চার চা বাগান, মজুরির দাবিতে কর্মবিরতি যশোরে জমি নিয়ে বিরোধে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১ যশোর অভয়নগরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উখিয়ায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার নারায়ণগঞ্জে চুরি করতে গিয়ে মাধবপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৪ নারী আটক যশোরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত সংখ্যা বাড়ছে

​দুর্নীতি ও হয়রানির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স:একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থায় সর্বমহলে প্রশংসিত এসপি মিজানুর রহমান

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫৭:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ১০২ বার পড়া হয়েছে

​এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ: থানায় সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষের হয়রানি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী। অপরাধ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে তার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে গত কয়েক মাসে রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার, ফতুল্লা ও বন্দর থানার একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বদলি, প্রত্যাহার ও প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা পুলিশের এমন কঠোর অ্যাকশনে সর্বমহলে স্বস্তি ফিরেছে এবং এসপির এই উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে সর্বমহলে ।
তাঁর এধরনের কর্মকাণ্ডে‌ শুধু পুলিশ বাহিনী নয় নারায়ণগঞ্জের সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছেন। সরকারি যে কোন সেবা পেতে হয়রানি ঠেকাতে বদ্ধপরিকর।

মাদক, বাল্যবিবাহ, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই’সহ অপরাধ দমনে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধ দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী জেলায় অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সংগঠন ও গণমাধ্যমের কাছে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

​পুলিশ সূত্র জানায়, বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর গত কয়েক মাসে পরপর চারটি থানায় বড় ধরনের রদবদল ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

​গত ৯ জুন রাতে চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগে আড়াইহাজার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাসনাঈন আহমেদকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। এর আগে ৭ জুন দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বন্দর থানার এসআই মাসুদ রানাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বন্দরে ছুরিকাঘাতে নিহত এক যুবকের পরিবার মামলা করতে গেলে তিনি ঘুষ দাবি করেছিলেন।

​এছাড়া, গত ৮ জুন বন্দর থানার আরও তিন এসআই মনির হোসেন, শহিদুল ইসলাম ও ফারুককে বদলি করা হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলেও বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন জানান, এটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। মাদক সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এখনো প্রমাণিত হয়নি।
​
​গত ৬ ই মে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় (দেওভোগ হাশেমবাগ এলাকা সংলগ্ন) পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ ৫ আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার দায়ে ফতুল্লা মডেল থানার ৬ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন এসআই আবুল বাশার, এএসআই আশিক এবং চারজন কনস্টেবল রয়েছে।
​
​এর আগে গত ১৫ মার্চ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগে রূপগঞ্জ থানার তিন এসআই হুমায়ুন আহমেদ, আহসানউল্লাহ ও নাদিরুল ইসলামকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
​
​এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, “যাদের বদলি করা হয়েছে, তার কিছু স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতে হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। জনগণকে মানসম্মত সেবা দিতে পুলিশ কাজ করছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।”
​সেবাপ্রার্থীদের উদ্দেশে এসপি বলেন, “থানায় সেবা নিতে এসে কেউ হয়রানির শিকার হলে সরাসরি আমাকে জানাবেন। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত যেই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছি। ভালো কাজের জন্য যেমন পুরস্কৃত করা হবে, তেমনি মন্দ কাজের জন্য তিরস্কার ও শাস্তি অব্যাহত থাকবে।”
​
​সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাদক কারবারিদের সঙ্গে সখ্যতা ছাড়াও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন থানায় ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছিল। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সেবার মান নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজনে ফৌজদারি মামলাও করা হবে।

​এসপি মিজানুর রহমান মুন্সীর এই কঠোর ও ইতিবাচক অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক, সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষ। তাদের মতে, পুলিশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে এই ধরনের সাহসী উদ্যোগ সময়ের দাবি ছিল।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বরুড়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

​দুর্নীতি ও হয়রানির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স:একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থায় সর্বমহলে প্রশংসিত এসপি মিজানুর রহমান

আপডেট সময় : ০১:৫৭:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

​এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ: থানায় সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষের হয়রানি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী। অপরাধ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে তার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে গত কয়েক মাসে রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার, ফতুল্লা ও বন্দর থানার একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বদলি, প্রত্যাহার ও প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা পুলিশের এমন কঠোর অ্যাকশনে সর্বমহলে স্বস্তি ফিরেছে এবং এসপির এই উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে সর্বমহলে ।
তাঁর এধরনের কর্মকাণ্ডে‌ শুধু পুলিশ বাহিনী নয় নারায়ণগঞ্জের সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছেন। সরকারি যে কোন সেবা পেতে হয়রানি ঠেকাতে বদ্ধপরিকর।

মাদক, বাল্যবিবাহ, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই’সহ অপরাধ দমনে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধ দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী জেলায় অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সংগঠন ও গণমাধ্যমের কাছে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

​পুলিশ সূত্র জানায়, বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর গত কয়েক মাসে পরপর চারটি থানায় বড় ধরনের রদবদল ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

​গত ৯ জুন রাতে চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগে আড়াইহাজার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাসনাঈন আহমেদকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। এর আগে ৭ জুন দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বন্দর থানার এসআই মাসুদ রানাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বন্দরে ছুরিকাঘাতে নিহত এক যুবকের পরিবার মামলা করতে গেলে তিনি ঘুষ দাবি করেছিলেন।

​এছাড়া, গত ৮ জুন বন্দর থানার আরও তিন এসআই মনির হোসেন, শহিদুল ইসলাম ও ফারুককে বদলি করা হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলেও বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন জানান, এটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। মাদক সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এখনো প্রমাণিত হয়নি।
​
​গত ৬ ই মে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় (দেওভোগ হাশেমবাগ এলাকা সংলগ্ন) পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ ৫ আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার দায়ে ফতুল্লা মডেল থানার ৬ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন এসআই আবুল বাশার, এএসআই আশিক এবং চারজন কনস্টেবল রয়েছে।
​
​এর আগে গত ১৫ মার্চ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগে রূপগঞ্জ থানার তিন এসআই হুমায়ুন আহমেদ, আহসানউল্লাহ ও নাদিরুল ইসলামকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
​
​এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, “যাদের বদলি করা হয়েছে, তার কিছু স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতে হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। জনগণকে মানসম্মত সেবা দিতে পুলিশ কাজ করছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।”
​সেবাপ্রার্থীদের উদ্দেশে এসপি বলেন, “থানায় সেবা নিতে এসে কেউ হয়রানির শিকার হলে সরাসরি আমাকে জানাবেন। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত যেই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছি। ভালো কাজের জন্য যেমন পুরস্কৃত করা হবে, তেমনি মন্দ কাজের জন্য তিরস্কার ও শাস্তি অব্যাহত থাকবে।”
​
​সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাদক কারবারিদের সঙ্গে সখ্যতা ছাড়াও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন থানায় ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছিল। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সেবার মান নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজনে ফৌজদারি মামলাও করা হবে।

​এসপি মিজানুর রহমান মুন্সীর এই কঠোর ও ইতিবাচক অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক, সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষ। তাদের মতে, পুলিশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে এই ধরনের সাহসী উদ্যোগ সময়ের দাবি ছিল।