ফরহাদ রহমান,স্টাফ রিপোর্টার কক্সবাজার: কক্সবাজারের টেকনাফে অপহরণ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, মানবপাচার, সন্ত্রাস এবং অন্যান্য সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে নাফ নদী সীমান্তে বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি, পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের আস্তানা উচ্ছেদ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক অপরাধ দমন, ক্যাম্পের বাইরে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের শনাক্তকরণ এবং অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযান আরও জোরদারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) টেকনাফ উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বিশেষ আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল মান্নান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনিক চৌধুরী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়া কক্সবাজার জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক আব্দুল্লাহ, কক্সবাজার জেলা যুবদলের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল আমিন আবুল, টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসাইন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় টেকনাফের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, অপহরণ, হত্যা, রাহাজানি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান প্রতিরোধ, মানবপাচার রোধ, পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের আস্তানা উচ্ছেদ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চিরুনি অভিযান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমন এবং অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান আরও বেগবান করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী বলেন, টেকনাফে অপহরণ, হত্যা, রাহাজানি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, মানবপাচার এবং অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। সীমান্ত দিয়ে মাদক ও অস্ত্র পাচার রোধে সংশ্লিষ্ট সব বাহিনীকে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, টেকনাফ মডেল থানায় কোনো ভুক্তভোগী যেন অভিযোগ নিয়ে এসে অপেক্ষা করতে না হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল মান্নান বলেন, টেকনাফে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। মাদক, অস্ত্র, মানবপাচার, অপহরণ, সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে কোনো ধরনের শৈথিল্যের সুযোগ নেই। এ লক্ষ্যে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
সভায় বক্তারা টেকনাফে স্থিতিশীল আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং অপরাধমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রতিনিধির নাম 


















