ঢাকা ১১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীকে গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিটি ক্লাসরুমে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী রপ্তানি ভর্তুকির আবেদন নিরীক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা এটাকেই শেষ বিশ্বকাপ বললেন রোনালদো তেহরানে খামেনির শেষযাত্রা শুরু, লাখো মানুষের ঢল বরুড়ায় কিশোরকে হত্যাচেষ্টা মামলায় এক আসামি গ্রেপ্তার, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি সোনারগাঁওয়ে’One Student, One Tree’ কর্মসূচির উদ্বোধনে ১৯ হাজার ৩২০ শিক্ষার্থীকে ২৫ হাজার বৃক্ষের চারা বিতরণ প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ উন্নয়ন হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত ও পল্লীকেন্দ্রিক: মির্জা ফখরুল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইএপিবি’র প্রধান নির্বাহীর সাক্ষাৎ

এটাকেই শেষ বিশ্বকাপ বললেন রোনালদো

ক্রীড়া ডেস্ক: বয়স তো কম হলো না। ৪১ বসন্ত পার করছেন।অনেকে যেখানে ত্রিশের কোঠা পার হতেই বুটজোড়া তুলে রাখেন সেখানে এই বয়সেও দিব্যি খেলে যাচ্ছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে আসায় তাই অবসর নিয়েই প্রশ্ন বেশি শুনতে হয়েছে রোনালদোকে।

শুনতে যে মোটেও ভালো লাগে না তার, স্পষ্ট করে আবারও জানালেন রোনালদো। কারো কথায় নয়, নিজের ইচ্ছায় থামবেন জানিয়ে ‘সিআর সেভেন’ বলেছেন, ‘আমি যখন চাইব তখন থামব।

৪১ বছর বয়সী রোনালদো বিশ্বকাপের ছয়টি আসরে খেলেছেন। ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং এখন ২০২৬ সালে টানা ছয়টি বিশ^কাপে অংশ নিয়ে তিনি অনন্য কীর্তি গড়েন। গ্রুপ পর্বে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গোল করে তিনি বিশ্বকাপের ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করা প্রথম ফুটবলার হন।

২০৩০ সালের পরবর্তী বিশ্বকাপ পর্তুগাল, স্পেন ও মরক্কো যৌথভাবে আয়োজন করবে।

গতকাল ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে রোনালদো বলেন, “যতটা সম্ভব উপভোগ করাই এখন মূল বিষয়। এটাই হবে আমার শেষ বিশ্বকাপ, তবে আশা করি আগামীকালের ম্যাচটি আমার শেষ ম্যাচ হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “একদিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার সময় আসবেই। কিন্তু আমি সত্যিকার অর্থেই বলছি, আগামীকাল যা-ই ঘটুক না কেন, ক্রিশ্চিয়ানো সম্পূর্ণ স্বচ্ছ বিবেক নিয়ে মাঠ ছাড়বে। ১০০ শতাংশ নয়, ১০০০ শতাংশ। কারণ আমি ফুটবলের জন্য আমার সবকিছু দিয়েছি। আমার এর প্রয়োজন নেই, আমার জীবন ভালোই চলছে। কিন্তু বিষয়টি আবেগের। আমি ফুটবল খেলি কারণ আমি এটাকে ভালোবাসি। প্রতিটি দিন উপভোগ করতে হয়। এই বিশ্বকাপে আমি তিনটি গোল করেছি- খুব খারাপ তো করছি না, তাই না?”

গ্রুপ পর্বে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে দুই গোল করার পর রাউন্ড অব ৩২-এ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টিতে একটি গোল করেন রোনালদো। সেটিই ছিল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তার প্রথম গোল।

এই বিশ্বকাপে নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি বলেন, “অসাধারণ ছিল। এটি শুধু মাঠের বিষয় নয়। মানুষের আবেগের কারণে এ বিশ্বকাপটি আমার সবচেয়ে বেশি মনে থাকবে। এবার যেন সেই আবেগ আরও বেশি অনুভব করেছি, কেন জানি না। আবেগের দিক থেকে এটিই ছিল সেরা বিশ্বকাপ। আমি দারুণভাবে বিষয়টা উপভোগ করেছি।”

২০১৬ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশীপ জয়ী এই তারকা বলেন, বিশ্বকাপ না জিতলেও তার অর্জনের খাতায় কোনো অপূর্ণতা থাকবে না, “আমার জীবনে কোনো কিছুর অভাব নেই। বিশ্বকাপ জিতলে আমি বেশি বা কম ক্রিশ্চিয়ানো হয়ে যাব না। আমাদের শিরোপা জয়ের সামর্থ্য আছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত একটি দেশই জিতবে। বয়স মানুষকে পরিপক্বতা ও অভিজ্ঞতা দেয়।”

তিনি আরও বলেন, “৪০ বছর পার করার পরও যে সমালোচনার মুখোমুখি হই, তার জন্যও আমি কৃতজ্ঞ। আশা করি আরও ৪০ বছর বাঁচব। সমালোচনা থেকেই মানুষ সবচেয়ে বেশি শেখে এবং বেড়ে ওঠে। এজন্য সাংবাদিকদেরও ধন্যবাদ।”

স্পেনের ১৮ বছর বয়সী তারকা লামিন ইয়ামাল সম্পর্কে রোনালদো বলেন, “সে অসাধারণ সম্ভাবনাময় একজন ফুটবলার। তবে আমি সবসময় স্পেনকে একটি দল হিসেবে দেখি। তাদের সবাই ভালো খেলোয়াড়। দীর্ঘ ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে যত বেশি প্রস্তুত থাকবে, ততই সফল হবে। সমালোচনার পেছনে ছুটলে তুমি হারিয়ে যাবে।”

তিনি যোগ করেন, “গঠনমূলক সমালোচনা আছে, আবার এমন সমালোচনাও আছে যা তোমাকে ধ্বংস করার জন্য করা হয়। দীর্ঘ ক্যারিয়ার চাইলে এসবের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে এবং যারা তোমাকে ভালোবাসে, সমর্থন করে, তাদের ভালোবাসা ও আবেগের দিকেই মনোযোগ দিতে হবে। সময়ের সঙ্গে আমি শিখেছি, যারা তোমাকে ভালোবাসে তাদের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে এবং নিজের কাজের প্রতি ভালোবাসা বজায় রাখতে।”

এদিকে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে স্পেনের কোচ লুইস ডি লা ফুয়েন্তে রোনালদোর প্রতি নিজের শ্রদ্ধার কথা জানান। তিনি বলেন, “আমি ক্রিশ্চিয়ানোর ভক্ত। আমি এমন খেলোয়াড় ও মানুষের ভক্ত, যাদের উচ্চাকাঙ্খা আছে, দৃঢ় চরিত্র আছে, যারা নিরলসভাবে প্রতিদিন আরও ভালো হতে চায় এবং তরুণদের জন্য উদাহরণ হয়ে ওঠে।”

ডি লা ফুয়েন্তে আরও বলেন, “আমাদের সবসময় তার দিকে নজর রাখতে হবে। এর অর্থ এই নয় যে একজন খেলোয়াড়কে শুধু তাকে পাহারা দিতে হবে। কিন্তু তার প্রতিভা ও মান বিবেচনায় তাকে নিয়ে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে। মাঠের যেসব এলাকায় সে খেলে, সেখানে সে সেরাদের একজন।”

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীকে গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ

এটাকেই শেষ বিশ্বকাপ বললেন রোনালদো

আপডেট সময় : ০৮:৩৫:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

ক্রীড়া ডেস্ক: বয়স তো কম হলো না। ৪১ বসন্ত পার করছেন।অনেকে যেখানে ত্রিশের কোঠা পার হতেই বুটজোড়া তুলে রাখেন সেখানে এই বয়সেও দিব্যি খেলে যাচ্ছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে আসায় তাই অবসর নিয়েই প্রশ্ন বেশি শুনতে হয়েছে রোনালদোকে।

শুনতে যে মোটেও ভালো লাগে না তার, স্পষ্ট করে আবারও জানালেন রোনালদো। কারো কথায় নয়, নিজের ইচ্ছায় থামবেন জানিয়ে ‘সিআর সেভেন’ বলেছেন, ‘আমি যখন চাইব তখন থামব।

৪১ বছর বয়সী রোনালদো বিশ্বকাপের ছয়টি আসরে খেলেছেন। ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং এখন ২০২৬ সালে টানা ছয়টি বিশ^কাপে অংশ নিয়ে তিনি অনন্য কীর্তি গড়েন। গ্রুপ পর্বে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গোল করে তিনি বিশ্বকাপের ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করা প্রথম ফুটবলার হন।

২০৩০ সালের পরবর্তী বিশ্বকাপ পর্তুগাল, স্পেন ও মরক্কো যৌথভাবে আয়োজন করবে।

গতকাল ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে রোনালদো বলেন, “যতটা সম্ভব উপভোগ করাই এখন মূল বিষয়। এটাই হবে আমার শেষ বিশ্বকাপ, তবে আশা করি আগামীকালের ম্যাচটি আমার শেষ ম্যাচ হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “একদিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার সময় আসবেই। কিন্তু আমি সত্যিকার অর্থেই বলছি, আগামীকাল যা-ই ঘটুক না কেন, ক্রিশ্চিয়ানো সম্পূর্ণ স্বচ্ছ বিবেক নিয়ে মাঠ ছাড়বে। ১০০ শতাংশ নয়, ১০০০ শতাংশ। কারণ আমি ফুটবলের জন্য আমার সবকিছু দিয়েছি। আমার এর প্রয়োজন নেই, আমার জীবন ভালোই চলছে। কিন্তু বিষয়টি আবেগের। আমি ফুটবল খেলি কারণ আমি এটাকে ভালোবাসি। প্রতিটি দিন উপভোগ করতে হয়। এই বিশ্বকাপে আমি তিনটি গোল করেছি- খুব খারাপ তো করছি না, তাই না?”

গ্রুপ পর্বে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে দুই গোল করার পর রাউন্ড অব ৩২-এ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টিতে একটি গোল করেন রোনালদো। সেটিই ছিল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তার প্রথম গোল।

এই বিশ্বকাপে নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি বলেন, “অসাধারণ ছিল। এটি শুধু মাঠের বিষয় নয়। মানুষের আবেগের কারণে এ বিশ্বকাপটি আমার সবচেয়ে বেশি মনে থাকবে। এবার যেন সেই আবেগ আরও বেশি অনুভব করেছি, কেন জানি না। আবেগের দিক থেকে এটিই ছিল সেরা বিশ্বকাপ। আমি দারুণভাবে বিষয়টা উপভোগ করেছি।”

২০১৬ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশীপ জয়ী এই তারকা বলেন, বিশ্বকাপ না জিতলেও তার অর্জনের খাতায় কোনো অপূর্ণতা থাকবে না, “আমার জীবনে কোনো কিছুর অভাব নেই। বিশ্বকাপ জিতলে আমি বেশি বা কম ক্রিশ্চিয়ানো হয়ে যাব না। আমাদের শিরোপা জয়ের সামর্থ্য আছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত একটি দেশই জিতবে। বয়স মানুষকে পরিপক্বতা ও অভিজ্ঞতা দেয়।”

তিনি আরও বলেন, “৪০ বছর পার করার পরও যে সমালোচনার মুখোমুখি হই, তার জন্যও আমি কৃতজ্ঞ। আশা করি আরও ৪০ বছর বাঁচব। সমালোচনা থেকেই মানুষ সবচেয়ে বেশি শেখে এবং বেড়ে ওঠে। এজন্য সাংবাদিকদেরও ধন্যবাদ।”

স্পেনের ১৮ বছর বয়সী তারকা লামিন ইয়ামাল সম্পর্কে রোনালদো বলেন, “সে অসাধারণ সম্ভাবনাময় একজন ফুটবলার। তবে আমি সবসময় স্পেনকে একটি দল হিসেবে দেখি। তাদের সবাই ভালো খেলোয়াড়। দীর্ঘ ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে যত বেশি প্রস্তুত থাকবে, ততই সফল হবে। সমালোচনার পেছনে ছুটলে তুমি হারিয়ে যাবে।”

তিনি যোগ করেন, “গঠনমূলক সমালোচনা আছে, আবার এমন সমালোচনাও আছে যা তোমাকে ধ্বংস করার জন্য করা হয়। দীর্ঘ ক্যারিয়ার চাইলে এসবের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে এবং যারা তোমাকে ভালোবাসে, সমর্থন করে, তাদের ভালোবাসা ও আবেগের দিকেই মনোযোগ দিতে হবে। সময়ের সঙ্গে আমি শিখেছি, যারা তোমাকে ভালোবাসে তাদের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে এবং নিজের কাজের প্রতি ভালোবাসা বজায় রাখতে।”

এদিকে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে স্পেনের কোচ লুইস ডি লা ফুয়েন্তে রোনালদোর প্রতি নিজের শ্রদ্ধার কথা জানান। তিনি বলেন, “আমি ক্রিশ্চিয়ানোর ভক্ত। আমি এমন খেলোয়াড় ও মানুষের ভক্ত, যাদের উচ্চাকাঙ্খা আছে, দৃঢ় চরিত্র আছে, যারা নিরলসভাবে প্রতিদিন আরও ভালো হতে চায় এবং তরুণদের জন্য উদাহরণ হয়ে ওঠে।”

ডি লা ফুয়েন্তে আরও বলেন, “আমাদের সবসময় তার দিকে নজর রাখতে হবে। এর অর্থ এই নয় যে একজন খেলোয়াড়কে শুধু তাকে পাহারা দিতে হবে। কিন্তু তার প্রতিভা ও মান বিবেচনায় তাকে নিয়ে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে। মাঠের যেসব এলাকায় সে খেলে, সেখানে সে সেরাদের একজন।”