ঢাকা ০২:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে বিয়ের এক মাসের মাথায় নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু : আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা? টেকনাফে পৃথক ঘটনায় নিখোঁজ শিশু ও অপহৃত রোহিঙ্গা উদ্ধার বেনাপোলে বিজিবির অভিযানে ২০ কেজি গাঁজাসহ সাড়ে ৫ লাখ টাকার মালামাল জব্দ বেনাপোলে পৌর বিএনপির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি কক্সবাজারে বারে বিরোধের জেরে দুই যুবক নিহত স্বপ্ন সেবা কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারে সার্টিফিকেট বিতরণ উন্নত দেশ গড়তে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই—-একাডেমিক সুপারভাইজার মো. সাইফুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীর কাছে বর্তমান এসপির বদলি আদেশ প্রত্যাহারের দাবী সাদুল্লাপুর ইউপির ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ড সংরক্ষিত মহিলা আসনে মেম্বার পদপ্রার্থী মিনুরী জাহান একিন বেনাপোল এক দিনে কুকুরের কামড়ে আহত ২০ যানজট নিরসনে যশোর পৌরসভার অভিযানের মাঝেই ফের যানজট, দুর্ভোগে পথচারী

যশোরে বিয়ের এক মাসের মাথায় নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু : আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা?

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২০:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

মনির হোসেন৷, যশোর প্রতিনিধি: যশোর সদর উপজেলার কুয়াদা সিরাজসিঙ্গা (বোসপাড়া) গ্রামে বিয়ের মাত্র এক মাসের মাথায় শীলা রানী (৩০) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

শ্বশুরবাড়ির স্বজনদের দাবি, পারিবারিক মনোমালিন্যের জেরে ঘরের আড়ার সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে নিহতের স্বজনদের অভিযোগ-অমানুষিক নির্যাতনের পর তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে।

নিহত শীলা কেশবপুর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ভাল্লুকঘর (কায়েতপাড়া) গ্রামের মৃত শংকর বোসের মেয়ে

অনুসন্ধানে জানা যায়, পূর্বে ডুমুরিয়ার গোণালী বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে শীলার প্রথম বিয়ে হয়েছিল। সেখানে অতনু (৯) নামে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। প্রথম শ্বশুরবাড়ির নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ঘর ছেড়ে তিনি ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নেন।

পরবর্তীতে গত ১৫ জুলাই কুয়াদা সিরাজসিঙ্গা গ্রামের মৃত সুবল বোসের ছেলে সুজয় কুমার বোসের (৩৫) সাথে শীলার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর শিশু সন্তানকে নিয়ে সংসারে আসার পর থেকেই কারণ-অকারণে শাশুড়ি রত্না রানী ও স্বামী সুজয় তার ওপর নির্যাতন চালাত। বিয়ে পর শীলার সঞ্চিত হিসাব থেকে স্বামী ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় এবং পরবর্তীতে আরও টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। সম্প্রতি শিশু অতনুর (বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্র) জন্মনিবন্ধনের জন্য সুজয়ের পরিচয়পত্র চাইলে পরিবারের বিরোধ চরমে পৌঁছায়। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে শীলা গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সোমবার হাসপাতালের মর্গে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। নিহত শীলার সৎ মা শংকরী নাগ অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়েকে অমানুষিক নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।’ স্থানীয়রা জানায়, সুজয়ের প্রথম স্ত্রীও একইভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। এদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে থানায় মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন এবং শিশু সন্তানকে এক বিঘা জমি লিখে দেয়ার আশ্বাসে স্থানীয়ভাবে গ্রাম্য সালিশে বিষয়টি রফা করার চেষ্টা চলছে বলে গুঞ্জন উঠেছে।

তবে নিহতের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমেই উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। ঘটনার পর কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে কালারহাট মহাশ্মশানে মরদেহের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে স্বামী সুজয় কুমার বোসের ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘দুই মিনিট পর কথা বলছেন’ জানিয়ে ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে বিয়ের এক মাসের মাথায় নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু : আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা?

যশোরে বিয়ের এক মাসের মাথায় নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু : আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা?

আপডেট সময় : ১২:২০:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

মনির হোসেন৷, যশোর প্রতিনিধি: যশোর সদর উপজেলার কুয়াদা সিরাজসিঙ্গা (বোসপাড়া) গ্রামে বিয়ের মাত্র এক মাসের মাথায় শীলা রানী (৩০) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

শ্বশুরবাড়ির স্বজনদের দাবি, পারিবারিক মনোমালিন্যের জেরে ঘরের আড়ার সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে নিহতের স্বজনদের অভিযোগ-অমানুষিক নির্যাতনের পর তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে।

নিহত শীলা কেশবপুর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ভাল্লুকঘর (কায়েতপাড়া) গ্রামের মৃত শংকর বোসের মেয়ে

অনুসন্ধানে জানা যায়, পূর্বে ডুমুরিয়ার গোণালী বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে শীলার প্রথম বিয়ে হয়েছিল। সেখানে অতনু (৯) নামে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। প্রথম শ্বশুরবাড়ির নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ঘর ছেড়ে তিনি ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নেন।

পরবর্তীতে গত ১৫ জুলাই কুয়াদা সিরাজসিঙ্গা গ্রামের মৃত সুবল বোসের ছেলে সুজয় কুমার বোসের (৩৫) সাথে শীলার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর শিশু সন্তানকে নিয়ে সংসারে আসার পর থেকেই কারণ-অকারণে শাশুড়ি রত্না রানী ও স্বামী সুজয় তার ওপর নির্যাতন চালাত। বিয়ে পর শীলার সঞ্চিত হিসাব থেকে স্বামী ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় এবং পরবর্তীতে আরও টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। সম্প্রতি শিশু অতনুর (বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্র) জন্মনিবন্ধনের জন্য সুজয়ের পরিচয়পত্র চাইলে পরিবারের বিরোধ চরমে পৌঁছায়। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে শীলা গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সোমবার হাসপাতালের মর্গে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। নিহত শীলার সৎ মা শংকরী নাগ অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়েকে অমানুষিক নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।’ স্থানীয়রা জানায়, সুজয়ের প্রথম স্ত্রীও একইভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। এদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে থানায় মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন এবং শিশু সন্তানকে এক বিঘা জমি লিখে দেয়ার আশ্বাসে স্থানীয়ভাবে গ্রাম্য সালিশে বিষয়টি রফা করার চেষ্টা চলছে বলে গুঞ্জন উঠেছে।

তবে নিহতের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমেই উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। ঘটনার পর কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে কালারহাট মহাশ্মশানে মরদেহের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে স্বামী সুজয় কুমার বোসের ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘দুই মিনিট পর কথা বলছেন’ জানিয়ে ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।