ঢাকা ১২:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
১৮ বছরের নির্যাতনের পর অস্থিরতা থাকতেই পারে, তবে ধৈর্য ধরতে হবে : দুদু নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের দ্বিতীয় ইউনিট ১৫ আগস্ট উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে সংহতি পুনর্ব্যক্ত করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছয় পদের চারটিই বছরের পর বছর শূন্য : দীর্ঘদিন জনবল সংকটে ধুঁকছে শার্শা উপজেলা মৎস্য অফিস বেনাপোল কাস্টমস হাউজে ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি, শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিভিল সার্জনের আকস্মিক পরিদর্শন টেকনাফে অপরাধ দমনে কঠোর সিদ্ধান্ত চকরিয়ায় মিনি ট্রাকে ১৯,৯৫০ ইয়াবা, মাদক কারবারি গ্রেফতার ৪ বছর পলাতক মাদক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেফতার যশোরের শার্শায় নাভারণে ১০ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক

১৮ বছরের নির্যাতনের পর অস্থিরতা থাকতেই পারে, তবে ধৈর্য ধরতে হবে : দুদু

নিজস্ব প্রতিবেদক: দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, দীর্ঘ ১৮ বছরের আন্দোলন–সংগ্রাম ও নির্যাতনের কারণে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে অস্থিরতা থাকতেই পারে, তবে সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারকে দক্ষতা ও ধৈর্যের সঙ্গে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রোববার (৫ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দলের উদ্যোগে অসুস্থ তিন প্রবীণ নেতা—মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া এবং জুলাই আগস্ট আন্দোলনের আহতদের আরোগ্য কামনায় আয়োজিত এক দোয়া অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

দুদু বলেন, আমাদের তিনজন প্রবীণ জননেতা মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান এবং ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া অসুস্থ ও চিকিৎসাধীন। তাদের আরোগ্য লাভের জন্য আপনারা আজকের দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। আমরা আপনাদের সঙ্গে শরিক হয়েছি। এজন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই।

তিনি বলেন, বিএনপির ছোট, বড় নেতা–কর্মীরা ১৮ বছর ধরে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের প্রাপ্তির খাতা ছিল শূন্য। শুধু নেতা–কর্মীরাই নন, তাদের পরিবারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যাদের চাকরি পাওয়ার কথা ছিল, শেখ হাসিনার আমলে তারা সেই সুযোগ পাননি। এ কারণে একধরনের অস্থিরতা থাকতেই পারে। তবে নেতা কর্মীদের ধৈর্য ধরতে হবে।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, শেখ হাসিনার আমলে যারা অন্যায়ের শিকার হয়েছেন, বর্তমান সরকার তাদের বিষয়ে অত্যন্ত সহানুভূতিশীল। তার দাবি, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, শহীদ জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরাধিকার। তার মধ্যে কোনো প্রতিহিংসা নেই। অথচ এই পরিবারই সবচেয়ে বেশি প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে।

ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ১৯৯০ সালের গণ–অভ্যুত্থানের পর বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। দীর্ঘ আন্দোলন–সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি সেই নেতৃত্ব অর্জন করেছিলেন। একইভাবে ১৮ বছরের আন্দোলন–সংগ্রামের পর গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেছেন।

কৃষক দলের সাবেক এই আহ্বায়ক বলেন, অনেকে অনেক ধরনের জনপ্রিয়তার দাবি করেন। আমি কাউকে ছোট করছি না। কিন্তু দেশবাসী গণ–অভ্যুত্থানের প্রধান শক্তি হিসেবে বিএনপিকেই গ্রহণ করেছে। কারণ, ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তারা বিএনপিকেই ভোট দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এক ১১ এর নির্যাতনে তারেক রহমান নিহতও হতে পারতেন, তবে আল্লাহ তাকে রক্ষা করেছেন। আর বেগম খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে, এমনকি চিকিৎসাও দেওয়া হয়নি। তাঁর ভাষ্য, বাংলাদেশ এমন একটি হিংস্র নেতৃত্বের অধীনে ছিল। সেই বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে রূপান্তরিত করতে হবে।

সরকারকে দক্ষতা ও ধৈর্যের সঙ্গে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দুদু বলেন, একটি মহল বিভিন্ন স্থানের ছোটখাটো ঘটনাকে বড় ঘটনায় রূপ দিতে চায়। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।

সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, আমাদের নেতা মির্জা আব্বাস চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে রয়েছেন। নজরুল ইসলাম খান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আর দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ রয়েছেন প্রবীণ নেতা ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া। তাদের লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। আমরা তাদের প্রতি সম্মান জানাব, আল্লাহর কাছে দোয়া করব। কারণ, তারা তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন মানুষের জন্য, দেশের জন্য এবং গণতন্ত্রের জন্য।

তিনি বলেন, আজকের দোয়া অনুষ্ঠানে সবাই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবেন, যেন এই তিন নেতা দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার মানুষের সেবায় ও দলের কর্মকাণ্ডে ফিরে আসতে পারেন।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি সালাউদ্দিন খান পিপিএমের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন সরদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, কৃষকদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক এস কে সাদি, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কেএম রকিবুল ইসলাম রিপন সহ প্রমুখ।

 

 

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

১৮ বছরের নির্যাতনের পর অস্থিরতা থাকতেই পারে, তবে ধৈর্য ধরতে হবে : দুদু

১৮ বছরের নির্যাতনের পর অস্থিরতা থাকতেই পারে, তবে ধৈর্য ধরতে হবে : দুদু

আপডেট সময় : ০৮:১৭:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, দীর্ঘ ১৮ বছরের আন্দোলন–সংগ্রাম ও নির্যাতনের কারণে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে অস্থিরতা থাকতেই পারে, তবে সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারকে দক্ষতা ও ধৈর্যের সঙ্গে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রোববার (৫ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দলের উদ্যোগে অসুস্থ তিন প্রবীণ নেতা—মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া এবং জুলাই আগস্ট আন্দোলনের আহতদের আরোগ্য কামনায় আয়োজিত এক দোয়া অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

দুদু বলেন, আমাদের তিনজন প্রবীণ জননেতা মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান এবং ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া অসুস্থ ও চিকিৎসাধীন। তাদের আরোগ্য লাভের জন্য আপনারা আজকের দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। আমরা আপনাদের সঙ্গে শরিক হয়েছি। এজন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই।

তিনি বলেন, বিএনপির ছোট, বড় নেতা–কর্মীরা ১৮ বছর ধরে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের প্রাপ্তির খাতা ছিল শূন্য। শুধু নেতা–কর্মীরাই নন, তাদের পরিবারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যাদের চাকরি পাওয়ার কথা ছিল, শেখ হাসিনার আমলে তারা সেই সুযোগ পাননি। এ কারণে একধরনের অস্থিরতা থাকতেই পারে। তবে নেতা কর্মীদের ধৈর্য ধরতে হবে।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, শেখ হাসিনার আমলে যারা অন্যায়ের শিকার হয়েছেন, বর্তমান সরকার তাদের বিষয়ে অত্যন্ত সহানুভূতিশীল। তার দাবি, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, শহীদ জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরাধিকার। তার মধ্যে কোনো প্রতিহিংসা নেই। অথচ এই পরিবারই সবচেয়ে বেশি প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে।

ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ১৯৯০ সালের গণ–অভ্যুত্থানের পর বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। দীর্ঘ আন্দোলন–সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি সেই নেতৃত্ব অর্জন করেছিলেন। একইভাবে ১৮ বছরের আন্দোলন–সংগ্রামের পর গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেছেন।

কৃষক দলের সাবেক এই আহ্বায়ক বলেন, অনেকে অনেক ধরনের জনপ্রিয়তার দাবি করেন। আমি কাউকে ছোট করছি না। কিন্তু দেশবাসী গণ–অভ্যুত্থানের প্রধান শক্তি হিসেবে বিএনপিকেই গ্রহণ করেছে। কারণ, ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তারা বিএনপিকেই ভোট দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এক ১১ এর নির্যাতনে তারেক রহমান নিহতও হতে পারতেন, তবে আল্লাহ তাকে রক্ষা করেছেন। আর বেগম খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে, এমনকি চিকিৎসাও দেওয়া হয়নি। তাঁর ভাষ্য, বাংলাদেশ এমন একটি হিংস্র নেতৃত্বের অধীনে ছিল। সেই বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে রূপান্তরিত করতে হবে।

সরকারকে দক্ষতা ও ধৈর্যের সঙ্গে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দুদু বলেন, একটি মহল বিভিন্ন স্থানের ছোটখাটো ঘটনাকে বড় ঘটনায় রূপ দিতে চায়। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।

সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, আমাদের নেতা মির্জা আব্বাস চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে রয়েছেন। নজরুল ইসলাম খান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আর দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ রয়েছেন প্রবীণ নেতা ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া। তাদের লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। আমরা তাদের প্রতি সম্মান জানাব, আল্লাহর কাছে দোয়া করব। কারণ, তারা তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন মানুষের জন্য, দেশের জন্য এবং গণতন্ত্রের জন্য।

তিনি বলেন, আজকের দোয়া অনুষ্ঠানে সবাই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবেন, যেন এই তিন নেতা দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার মানুষের সেবায় ও দলের কর্মকাণ্ডে ফিরে আসতে পারেন।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি সালাউদ্দিন খান পিপিএমের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন সরদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, কৃষকদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক এস কে সাদি, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কেএম রকিবুল ইসলাম রিপন সহ প্রমুখ।