ঢাকা ০৮:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
স্বামীর মৃত্যুর ১৫ মিনিট আগে সন্তানের জন্ম, বাবার মুখ দেখার আগেই এতিম নবজাতক কক্সবাজারে বাসে ১৮ কেজি গাঁজা, গ্রেপ্তার ৩ নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিতে কক্সবাজারে হোটেল-মোটেল মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় মৌলভীবাজারে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অপহরণ ও নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ ডিসি জাহিদের উদ্যোগ অনুসরণের আহ্বান জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টার মাধবপুরে পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় যুবকের এক বছরের কারাদণ্ড নোয়াপাড়া চা বাগানে মজুরি পাননি, হতাশ চা শ্রমিকরা বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে এক দম্পতি ও তাদের দুই বছর বয়সী সন্তান দেশে ফিরেছেন জামিয়া মিফতাহুল উলূম মহিলা মাদরাসায় সীরাতুন্নবী (সা:) আলোচনা সভা ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন বেনাপোলের আবুল হোসেনের হেরোইনের মামলায় যাবজ্জীবন

নারায়ণগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক সহ মাদক-কিশোর গ্যাং নির্মূলে সফলতায় সর্ব মহলে প্রশংসিত এসপি মিজানুর রহমান মুন্সী

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৯:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৭০ বার পড়া হয়েছে

এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ : নারায়ণগঞ্জ জেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে জেলা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান ফল দিচ্ছে। গত কয়েক মাসে পরিচালিত বিশেষ অভিযান, কমিউনিটি পুলিশিং এবং গোয়েন্দা নজরদারির সমন্বয়ে জেলার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ প্রশাসন।

এই সাফল্যের কারণে সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী। তার নেতৃত্বে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা বেড়েছে।

জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, বর্তমান কৌশলের তিনটি স্তম্ভ হলো: জেলার প্রবেশপথ, বাসস্ট্যান্ড, নদীবন্দর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক এলাকায় নিয়মিত চিরুনি অভিযান। মাদক ব্যবসায়ীদের তথ্য সংগ্রহ করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জেলার বিভিন্ন এলাকায়, স্কুল-কলেজে সচেতনতামূলক সভা, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ঝুঁকিপূর্ণ কিশোরদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাত-দিন টহল বৃদ্ধি, সিসিটিভি নজরদারি সম্প্রসারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানোর মাধ্যমে ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সহিংসতা কমিয়ে আনা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে জেলায় মাদক মামলা ও কিশোর গ্যাং সংশ্লিষ্ট ঘটনায় গ্রেপ্তারের হার বেড়েছে, পাশাপাশি অভিযোগের সংখ্যা কমেছে।

এসপি মোঃ মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, শুধু গ্রেপ্তার দিয়ে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছি। প্রতিটি ইউনিয়নে বিট পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। যুবসমাজকে মাদক ও সহিংসতা থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগও চলছে।

তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কারও প্রতি কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠন ও শিক্ষকরা বলছেন, আগের তুলনায় সন্ধ্যার পর রাস্তাঘাটে নিরাপত্তা বেড়েছে। স্কুল-কলেজের সামনে কিশোরদের আড্ডা ও উৎপাত কমেছে। এ কারণে জেলা পুলিশ সুপারের পেশাদারিত্ব ও দৃঢ় পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করছেন তারা।

আইন-শৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, নারায়ণগঞ্জের মতো শিল্প ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলায় এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ অপরাধ প্রবণতা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখবে।

জেলা পুলিশ জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব দিয়ে জেলা পুলিশ প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। আসন্ন সময়ে ডিজিটাল মনিটরিং, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে আরও বিশেষ ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বামীর মৃত্যুর ১৫ মিনিট আগে সন্তানের জন্ম, বাবার মুখ দেখার আগেই এতিম নবজাতক

নারায়ণগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক সহ মাদক-কিশোর গ্যাং নির্মূলে সফলতায় সর্ব মহলে প্রশংসিত এসপি মিজানুর রহমান মুন্সী

আপডেট সময় : ১১:০৯:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ : নারায়ণগঞ্জ জেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে জেলা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান ফল দিচ্ছে। গত কয়েক মাসে পরিচালিত বিশেষ অভিযান, কমিউনিটি পুলিশিং এবং গোয়েন্দা নজরদারির সমন্বয়ে জেলার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ প্রশাসন।

এই সাফল্যের কারণে সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী। তার নেতৃত্বে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা বেড়েছে।

জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, বর্তমান কৌশলের তিনটি স্তম্ভ হলো: জেলার প্রবেশপথ, বাসস্ট্যান্ড, নদীবন্দর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক এলাকায় নিয়মিত চিরুনি অভিযান। মাদক ব্যবসায়ীদের তথ্য সংগ্রহ করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জেলার বিভিন্ন এলাকায়, স্কুল-কলেজে সচেতনতামূলক সভা, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ঝুঁকিপূর্ণ কিশোরদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাত-দিন টহল বৃদ্ধি, সিসিটিভি নজরদারি সম্প্রসারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানোর মাধ্যমে ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সহিংসতা কমিয়ে আনা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে জেলায় মাদক মামলা ও কিশোর গ্যাং সংশ্লিষ্ট ঘটনায় গ্রেপ্তারের হার বেড়েছে, পাশাপাশি অভিযোগের সংখ্যা কমেছে।

এসপি মোঃ মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, শুধু গ্রেপ্তার দিয়ে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছি। প্রতিটি ইউনিয়নে বিট পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। যুবসমাজকে মাদক ও সহিংসতা থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগও চলছে।

তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কারও প্রতি কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠন ও শিক্ষকরা বলছেন, আগের তুলনায় সন্ধ্যার পর রাস্তাঘাটে নিরাপত্তা বেড়েছে। স্কুল-কলেজের সামনে কিশোরদের আড্ডা ও উৎপাত কমেছে। এ কারণে জেলা পুলিশ সুপারের পেশাদারিত্ব ও দৃঢ় পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করছেন তারা।

আইন-শৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, নারায়ণগঞ্জের মতো শিল্প ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলায় এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ অপরাধ প্রবণতা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখবে।

জেলা পুলিশ জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব দিয়ে জেলা পুলিশ প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। আসন্ন সময়ে ডিজিটাল মনিটরিং, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে আরও বিশেষ ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।