ঢাকা ০৬:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
স্বামীর মৃত্যুর ১৫ মিনিট আগে সন্তানের জন্ম, বাবার মুখ দেখার আগেই এতিম নবজাতক কক্সবাজারে বাসে ১৮ কেজি গাঁজা, গ্রেপ্তার ৩ নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিতে কক্সবাজারে হোটেল-মোটেল মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় মৌলভীবাজারে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অপহরণ ও নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ ডিসি জাহিদের উদ্যোগ অনুসরণের আহ্বান জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টার মাধবপুরে পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় যুবকের এক বছরের কারাদণ্ড নোয়াপাড়া চা বাগানে মজুরি পাননি, হতাশ চা শ্রমিকরা বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে এক দম্পতি ও তাদের দুই বছর বয়সী সন্তান দেশে ফিরেছেন জামিয়া মিফতাহুল উলূম মহিলা মাদরাসায় সীরাতুন্নবী (সা:) আলোচনা সভা ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন বেনাপোলের আবুল হোসেনের হেরোইনের মামলায় যাবজ্জীবন

ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক কর্মচারী সংকট, ভেঙে পড়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২১:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৭২ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁদপুরর মতলব উত্তর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। শিক্ষক সংকটের কারণে ভেঙে পড়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা। শিক্ষার্থীরা বাধ্য হচ্ছে কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেট নির্ভর হতে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বারবার চাহিদাপত্র পাঠালেও এখনো সমাধান আসেনি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ছেংগারচর উচ্চ বিদ্যালয়, এবং ২০২৮ সালে জাতীয়করণ হয়। বিদ্যালয়ে শিক্ষক ২৭ জন ও কর্মচারী ৭ জনের পদ অনুমোদিত রয়েছে। এর মধ্যে অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১২ জন শিক্ষক ও ১জন কর্মচারী। প্রতিদিন আমিও পাঠদান দিয়ে থাকি।

খন্ডকালীন ৫জন‌ শিক্ষক ও ৪জন কর্মচারী দিয়ে বিদ্যালয় চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন প্রধান শিক্ষক‌ (ভারপ্রাপ্ত) আলহাজ্ব বেনজির আহমেদ মুন্সী।

এমতাবস্থায় ক্রমাগত বিদ্যালয়ের পড়াশোনার মান খারাপ হচ্ছে। এসএসসি পরীক্ষায় পাশের হার কমসহ নানান সমস্যয় ভুগছে।

বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক সময় ক্লাস ফাঁকা থাকে।

শিক্ষার্থীরা জানান, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ক্লাস না হওয়ায় তাদের প্রাইভেট টিউটর ও কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অভিভাবকেরাও অভিযোগ করেছেন, সরকারি বিদ্যালয়ে সন্তানকে ভর্তি করিয়েও তাদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে।

ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব বেনজির আহমেদ মুন্সী বলেন, ‘১১ জন সহকারী শিক্ষক দিয়ে দুই শিফটের বিদ্যালয় চালানো প্রায় অসম্ভব। এতে শিক্ষার মান রক্ষা করা যাচ্ছে না।’

বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বেনজির আহমেদ মুন্সী বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। আমরা মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে চেষ্টা চালিয়ে যাব। পূর্বের এসএসসি পরীক্ষার ১-৪ বিষয়ে অকৃতকার্যদের বেশিরভাগ ফেল করেছে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল্লাহ জানান, ২০১৮ সালে এ বিদ্যালযটি জাতীয়করণ করা হয়। নতুন শিক্ষক দেয়া সম্ভব হয়নি। উপরন্তু কয়েকজন শিক্ষক অবসরে যায়। ফলে এ সংকট তৈরি হয়েছে। এখন জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

মতলব উত্তর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, শিক্ষক সংকট মেটাতে আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। পদ পূরণ হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থার মান বজায় রাখা সম্ভব হবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বামীর মৃত্যুর ১৫ মিনিট আগে সন্তানের জন্ম, বাবার মুখ দেখার আগেই এতিম নবজাতক

ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক কর্মচারী সংকট, ভেঙে পড়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা

আপডেট সময় : ১২:২১:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁদপুরর মতলব উত্তর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। শিক্ষক সংকটের কারণে ভেঙে পড়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা। শিক্ষার্থীরা বাধ্য হচ্ছে কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেট নির্ভর হতে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বারবার চাহিদাপত্র পাঠালেও এখনো সমাধান আসেনি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ছেংগারচর উচ্চ বিদ্যালয়, এবং ২০২৮ সালে জাতীয়করণ হয়। বিদ্যালয়ে শিক্ষক ২৭ জন ও কর্মচারী ৭ জনের পদ অনুমোদিত রয়েছে। এর মধ্যে অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১২ জন শিক্ষক ও ১জন কর্মচারী। প্রতিদিন আমিও পাঠদান দিয়ে থাকি।

খন্ডকালীন ৫জন‌ শিক্ষক ও ৪জন কর্মচারী দিয়ে বিদ্যালয় চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন প্রধান শিক্ষক‌ (ভারপ্রাপ্ত) আলহাজ্ব বেনজির আহমেদ মুন্সী।

এমতাবস্থায় ক্রমাগত বিদ্যালয়ের পড়াশোনার মান খারাপ হচ্ছে। এসএসসি পরীক্ষায় পাশের হার কমসহ নানান সমস্যয় ভুগছে।

বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক সময় ক্লাস ফাঁকা থাকে।

শিক্ষার্থীরা জানান, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ক্লাস না হওয়ায় তাদের প্রাইভেট টিউটর ও কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অভিভাবকেরাও অভিযোগ করেছেন, সরকারি বিদ্যালয়ে সন্তানকে ভর্তি করিয়েও তাদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে।

ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব বেনজির আহমেদ মুন্সী বলেন, ‘১১ জন সহকারী শিক্ষক দিয়ে দুই শিফটের বিদ্যালয় চালানো প্রায় অসম্ভব। এতে শিক্ষার মান রক্ষা করা যাচ্ছে না।’

বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বেনজির আহমেদ মুন্সী বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। আমরা মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে চেষ্টা চালিয়ে যাব। পূর্বের এসএসসি পরীক্ষার ১-৪ বিষয়ে অকৃতকার্যদের বেশিরভাগ ফেল করেছে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল্লাহ জানান, ২০১৮ সালে এ বিদ্যালযটি জাতীয়করণ করা হয়। নতুন শিক্ষক দেয়া সম্ভব হয়নি। উপরন্তু কয়েকজন শিক্ষক অবসরে যায়। ফলে এ সংকট তৈরি হয়েছে। এখন জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

মতলব উত্তর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, শিক্ষক সংকট মেটাতে আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। পদ পূরণ হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থার মান বজায় রাখা সম্ভব হবে।