ঢাকা ০৪:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
স্বামীর মৃত্যুর ১৫ মিনিট আগে সন্তানের জন্ম, বাবার মুখ দেখার আগেই এতিম নবজাতক কক্সবাজারে বাসে ১৮ কেজি গাঁজা, গ্রেপ্তার ৩ নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিতে কক্সবাজারে হোটেল-মোটেল মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় মৌলভীবাজারে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অপহরণ ও নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ ডিসি জাহিদের উদ্যোগ অনুসরণের আহ্বান জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টার মাধবপুরে পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় যুবকের এক বছরের কারাদণ্ড নোয়াপাড়া চা বাগানে মজুরি পাননি, হতাশ চা শ্রমিকরা বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে এক দম্পতি ও তাদের দুই বছর বয়সী সন্তান দেশে ফিরেছেন জামিয়া মিফতাহুল উলূম মহিলা মাদরাসায় সীরাতুন্নবী (সা:) আলোচনা সভা ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন বেনাপোলের আবুল হোসেনের হেরোইনের মামলায় যাবজ্জীবন

শুক্রবার এলেই ফ্রি খাবার ও নগদ অর্থ নিয়ে অসহায়দের পাশে নুরুল আলম

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৭৯ বার পড়া হয়েছে

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: শুক্রবার এলেই যেন মানবিকতার এক ভিন্ন চিত্র দেখা যায় পটিয়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পটিয়া রেল স্টেশন এলাকায়,সপ্তাহের এই দিনটিতে অসহায় ও দিনমজুর মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে একবেলা রান্না করা খাবার নিয়ে ছুটে বেড়ান স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মানবিক ব্যক্তি মোহাম্মদ নুরুল আলম সওদাগর।

শুধু খাবার বিতরণেই সীমাবদ্ধ থাকেন না, প্রয়োজন বুঝে নিজের হাতে নগদ অর্থও তুলে দেন অসহায় মানুষের হাতে।
দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে নিজের উদ্যোগে এই মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন নুরুল আলম সওদাগর। প্রতি শুক্রবার দুপুরে রান্না করা খাবার প্রস্তুত করে তিনি নিজেই অসহায় দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষের খোঁজে বের হন। অনেক সময় রাস্তায়, বাজারে কিংবা কর্মস্থলে থাকা অসহায় মানুষদের কাছে পৌঁছে তাদের হাতে খাবার তুলে দেন। পাশাপাশি যাদের বাড়ি ফেরার জন্য গাড়িভাড়ার প্রয়োজন, তাদেরও নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নগদ অর্থ সহায়তা করেন। মানবিকতার এই কাজে তার আচরণও আলাদা করে নজর কাড়ে। তিনি শুধু খাবার হাতে তুলে দেন না, অনেক সময় নিজ হাতে অসহায় মানুষের হাত ধুয়ে দিয়ে সম্মানের সঙ্গে খাবার খাওয়ান। তার কাছে এটি দান নয়, বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি দায়িত্ব।

নুরুল আলম সওদাগর দৈনিক জনতা প্রতিবেদ’কে  বলেন, “প্রায় ১০ বছর আগে নিজের পরিবারের অসচ্ছলতা ও জীবনের কঠিন সময়গুলো কাছ থেকে দেখেছি। তখন থেকেই উপলব্ধি করেছি, অভাবী মানুষের কষ্ট কতটা গভীর হতে পারে। সেই উপলব্ধি থেকেই মানুষের জন্য কিছু করার সিদ্ধান্ত নিই। যতদিন আল্লাহ সামর্থ্য দেবেন, ততদিন অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করব। তিনি আরও বলেন, শুক্রবারের এই কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি কোনো প্রচার বা স্বীকৃতি চান না। একজন অসহায় মানুষের মুখে একটুখানি হাসি দেখতে পারাই তার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। নুরুল আলমের ছেলে রবিউল হোসেন হৃদয় বলেন, “আমার বাবাকে ছোটবেলা থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখেছি। বাবার কাছ থেকেই মানবিকতার শিক্ষা পেয়েছি। তার দেখানো পথ ধরে আমিও সারাজীবন প্রতি শুক্রবার মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করার কাজটি করে যেতে চাই, ইনশাআল্লাহ।

পটিয়া স্টেশন রোড ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আকতার হোসেন বলেন, “নুরুল আলম ভাই শুধু একজন মানবিক মানুষ নন, তিনি ব্যবসায়ীদের উন্নয়ন ও কল্যাণেরও একজন বন্ধু হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে যে মানবিক কাজ করে যাচ্ছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তার উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। আমরা তার এই মহৎ কাজের ধারাবাহিকতা কামনা করি এবং তার জন্য দোয়া করি। স্থানীয়দের মতে, বর্তমান সময়ে যখন অনেকেই নিজেদের ব্যস্ততা ও ব্যক্তিগত স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত, তখন নুরুল আলম সওদাগরের মতো একজন ব্যবসায়ী নিয়মিতভাবে নিজের অর্থ ও সময় ব্যয় করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো নিঃসন্দেহে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
শুক্রবারের একবেলা খাবার হয়তো একজন মানুষের পুরো জীবনের অভাব দূর করতে পারে না। কিন্তু সেই খাবার যখন ভালোবাসা, সম্মান ও সহমর্মিতার সঙ্গে তুলে দেওয়া হয়, তখন তা হয়ে ওঠে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আর সেই দৃষ্টান্তই গত এক দশক ধরে তৈরি করে চলেছেন পটিয়ার নুরুল আলম সওদাগর।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বামীর মৃত্যুর ১৫ মিনিট আগে সন্তানের জন্ম, বাবার মুখ দেখার আগেই এতিম নবজাতক

শুক্রবার এলেই ফ্রি খাবার ও নগদ অর্থ নিয়ে অসহায়দের পাশে নুরুল আলম

আপডেট সময় : ১২:৪২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: শুক্রবার এলেই যেন মানবিকতার এক ভিন্ন চিত্র দেখা যায় পটিয়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পটিয়া রেল স্টেশন এলাকায়,সপ্তাহের এই দিনটিতে অসহায় ও দিনমজুর মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে একবেলা রান্না করা খাবার নিয়ে ছুটে বেড়ান স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মানবিক ব্যক্তি মোহাম্মদ নুরুল আলম সওদাগর।

শুধু খাবার বিতরণেই সীমাবদ্ধ থাকেন না, প্রয়োজন বুঝে নিজের হাতে নগদ অর্থও তুলে দেন অসহায় মানুষের হাতে।
দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে নিজের উদ্যোগে এই মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন নুরুল আলম সওদাগর। প্রতি শুক্রবার দুপুরে রান্না করা খাবার প্রস্তুত করে তিনি নিজেই অসহায় দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষের খোঁজে বের হন। অনেক সময় রাস্তায়, বাজারে কিংবা কর্মস্থলে থাকা অসহায় মানুষদের কাছে পৌঁছে তাদের হাতে খাবার তুলে দেন। পাশাপাশি যাদের বাড়ি ফেরার জন্য গাড়িভাড়ার প্রয়োজন, তাদেরও নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নগদ অর্থ সহায়তা করেন। মানবিকতার এই কাজে তার আচরণও আলাদা করে নজর কাড়ে। তিনি শুধু খাবার হাতে তুলে দেন না, অনেক সময় নিজ হাতে অসহায় মানুষের হাত ধুয়ে দিয়ে সম্মানের সঙ্গে খাবার খাওয়ান। তার কাছে এটি দান নয়, বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি দায়িত্ব।

নুরুল আলম সওদাগর দৈনিক জনতা প্রতিবেদ’কে  বলেন, “প্রায় ১০ বছর আগে নিজের পরিবারের অসচ্ছলতা ও জীবনের কঠিন সময়গুলো কাছ থেকে দেখেছি। তখন থেকেই উপলব্ধি করেছি, অভাবী মানুষের কষ্ট কতটা গভীর হতে পারে। সেই উপলব্ধি থেকেই মানুষের জন্য কিছু করার সিদ্ধান্ত নিই। যতদিন আল্লাহ সামর্থ্য দেবেন, ততদিন অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করব। তিনি আরও বলেন, শুক্রবারের এই কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি কোনো প্রচার বা স্বীকৃতি চান না। একজন অসহায় মানুষের মুখে একটুখানি হাসি দেখতে পারাই তার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। নুরুল আলমের ছেলে রবিউল হোসেন হৃদয় বলেন, “আমার বাবাকে ছোটবেলা থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখেছি। বাবার কাছ থেকেই মানবিকতার শিক্ষা পেয়েছি। তার দেখানো পথ ধরে আমিও সারাজীবন প্রতি শুক্রবার মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করার কাজটি করে যেতে চাই, ইনশাআল্লাহ।

পটিয়া স্টেশন রোড ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আকতার হোসেন বলেন, “নুরুল আলম ভাই শুধু একজন মানবিক মানুষ নন, তিনি ব্যবসায়ীদের উন্নয়ন ও কল্যাণেরও একজন বন্ধু হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে যে মানবিক কাজ করে যাচ্ছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তার উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। আমরা তার এই মহৎ কাজের ধারাবাহিকতা কামনা করি এবং তার জন্য দোয়া করি। স্থানীয়দের মতে, বর্তমান সময়ে যখন অনেকেই নিজেদের ব্যস্ততা ও ব্যক্তিগত স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত, তখন নুরুল আলম সওদাগরের মতো একজন ব্যবসায়ী নিয়মিতভাবে নিজের অর্থ ও সময় ব্যয় করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো নিঃসন্দেহে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
শুক্রবারের একবেলা খাবার হয়তো একজন মানুষের পুরো জীবনের অভাব দূর করতে পারে না। কিন্তু সেই খাবার যখন ভালোবাসা, সম্মান ও সহমর্মিতার সঙ্গে তুলে দেওয়া হয়, তখন তা হয়ে ওঠে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আর সেই দৃষ্টান্তই গত এক দশক ধরে তৈরি করে চলেছেন পটিয়ার নুরুল আলম সওদাগর।