ঢাকা ১২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
স্বামীর মৃত্যুর ১৫ মিনিট আগে সন্তানের জন্ম, বাবার মুখ দেখার আগেই এতিম নবজাতক কক্সবাজারে বাসে ১৮ কেজি গাঁজা, গ্রেপ্তার ৩ নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিতে কক্সবাজারে হোটেল-মোটেল মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় মৌলভীবাজারে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অপহরণ ও নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ ডিসি জাহিদের উদ্যোগ অনুসরণের আহ্বান জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টার মাধবপুরে পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় যুবকের এক বছরের কারাদণ্ড নোয়াপাড়া চা বাগানে মজুরি পাননি, হতাশ চা শ্রমিকরা বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে এক দম্পতি ও তাদের দুই বছর বয়সী সন্তান দেশে ফিরেছেন জামিয়া মিফতাহুল উলূম মহিলা মাদরাসায় সীরাতুন্নবী (সা:) আলোচনা সভা ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন বেনাপোলের আবুল হোসেনের হেরোইনের মামলায় যাবজ্জীবন

৯টা–৫টার দায়িত্বে সমাজ বদলাবে না: ডিসি জাহিদ

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৭৮ বার পড়া হয়েছে

এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ : সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব কেবল দাপ্তরিক সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জনসেবায় আরও মানবিক, দায়িত্বশীল ও উদ্ভাবনী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, সরকার যে দায়িত্ব দিয়ে একজন কর্মকর্তাকে চেয়ারে বসিয়েছে, তা যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে কি না—প্রত্যেককে নিজেকেই সেই প্রশ্ন করতে হবে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি মানবিক ও নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। নাগরিকেরা সেবা নিতে এসে যেন হয়রানির শিকার না হন এবং প্রতিটি দপ্তরে দায়িত্বশীলতার দৃষ্টান্ত দেখতে পান, তা নিশ্চিত করা তাঁদের দায়িত্ব।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘শুধু সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিস করাই দায়িত্ব নয়। আমি যে উদ্দেশ্যে এই চেয়ারে বসেছি, সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছি কি না—এই প্রশ্ন প্রত্যেকের নিজের কাছে করা উচিত।’

বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরকারি সেবাব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আনার ওপর গুরুত্ব দেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, গত ৫০ বছরে পৃথিবীর প্রায় সব ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু মানুষের সেবা দেওয়ার পদ্ধতিতে কতটা পরিবর্তন আনা গেছে, সেটিও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। পুরোনো ধ্যানধারণা আঁকড়ে না থেকে প্রযুক্তি, দক্ষতা ও মানবিকতার সমন্বয়ে সেবার মান বাড়াতে হবে।

প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কথা উল্লেখ করে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, মানুষ সততা, যোগ্যতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হলে প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা আরও বাড়বে। প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে জনসেবা সহজ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ও নৈতিকতাও বজায় রাখতে হবে।

সমাজের অবক্ষয়, মাদকের বিস্তার ও পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হওয়ার দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, একটি সন্তান হঠাৎ করে বিপথে যায় না। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আচরণ দেখে সে শেখে। তাই সরকারি কর্মকর্তাদের এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে, যা নতুন প্রজন্ম অনুসরণ করতে পারে।

তিনি বলেন, ব্যক্তিগত অর্জন ও প্রতিযোগিতার পেছনে ছুটতে গিয়ে সমাজ ও পরিবারের প্রতি দায়িত্ব ভুলে গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী তৈরি করা সম্ভব হবে না। একে অপরকে দোষারোপ না করে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিবর্তনের দায়িত্ব নিতে হবে।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, বড় পদ বা গুরুত্বপূর্ণ চেয়ার শুধু ক্ষমতার পরিচয় নয়; এটি মানুষের প্রতি দায়িত্ব ও জবাবদিহির প্রতীক। আন্তরিকতা, দক্ষতা ও মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে সরকারি দপ্তরের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে এবং একটি নিরাপদ ও সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বামীর মৃত্যুর ১৫ মিনিট আগে সন্তানের জন্ম, বাবার মুখ দেখার আগেই এতিম নবজাতক

৯টা–৫টার দায়িত্বে সমাজ বদলাবে না: ডিসি জাহিদ

আপডেট সময় : ১১:২৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ : সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব কেবল দাপ্তরিক সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জনসেবায় আরও মানবিক, দায়িত্বশীল ও উদ্ভাবনী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, সরকার যে দায়িত্ব দিয়ে একজন কর্মকর্তাকে চেয়ারে বসিয়েছে, তা যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে কি না—প্রত্যেককে নিজেকেই সেই প্রশ্ন করতে হবে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি মানবিক ও নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। নাগরিকেরা সেবা নিতে এসে যেন হয়রানির শিকার না হন এবং প্রতিটি দপ্তরে দায়িত্বশীলতার দৃষ্টান্ত দেখতে পান, তা নিশ্চিত করা তাঁদের দায়িত্ব।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘শুধু সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিস করাই দায়িত্ব নয়। আমি যে উদ্দেশ্যে এই চেয়ারে বসেছি, সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছি কি না—এই প্রশ্ন প্রত্যেকের নিজের কাছে করা উচিত।’

বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরকারি সেবাব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আনার ওপর গুরুত্ব দেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, গত ৫০ বছরে পৃথিবীর প্রায় সব ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু মানুষের সেবা দেওয়ার পদ্ধতিতে কতটা পরিবর্তন আনা গেছে, সেটিও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। পুরোনো ধ্যানধারণা আঁকড়ে না থেকে প্রযুক্তি, দক্ষতা ও মানবিকতার সমন্বয়ে সেবার মান বাড়াতে হবে।

প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কথা উল্লেখ করে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, মানুষ সততা, যোগ্যতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হলে প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা আরও বাড়বে। প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে জনসেবা সহজ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ও নৈতিকতাও বজায় রাখতে হবে।

সমাজের অবক্ষয়, মাদকের বিস্তার ও পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হওয়ার দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, একটি সন্তান হঠাৎ করে বিপথে যায় না। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আচরণ দেখে সে শেখে। তাই সরকারি কর্মকর্তাদের এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে, যা নতুন প্রজন্ম অনুসরণ করতে পারে।

তিনি বলেন, ব্যক্তিগত অর্জন ও প্রতিযোগিতার পেছনে ছুটতে গিয়ে সমাজ ও পরিবারের প্রতি দায়িত্ব ভুলে গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী তৈরি করা সম্ভব হবে না। একে অপরকে দোষারোপ না করে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিবর্তনের দায়িত্ব নিতে হবে।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, বড় পদ বা গুরুত্বপূর্ণ চেয়ার শুধু ক্ষমতার পরিচয় নয়; এটি মানুষের প্রতি দায়িত্ব ও জবাবদিহির প্রতীক। আন্তরিকতা, দক্ষতা ও মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে সরকারি দপ্তরের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে এবং একটি নিরাপদ ও সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।