ঢাকা ১১:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দুই উপজেলা বিলুপ্ত: আয়তন ও সক্ষমতা বাড়ছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের  প্রধানমন্ত্রীর বরুড়া আগমন উপলক্ষে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের নির্দেশনায় মাঠে নামলেন নেতাকর্মীরা সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে নিজেদের সংশোধন করুন: নারী কয়েদিদের প্রতি ডিসি জাহিদুল ইসলাম ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ – নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ সেবা গ্রহীতাদের জন্য ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ‘স্নেহকুঞ্জ’ শুভ উদ্বোধন করেন ডিসি রায়হান কবির প্রশিক্ষণের উদ্বোধনীতে নিজেদের দক্ষতা ও সেবার মাধ্যমেই জনআস্থা অর্জন করতে হবে : ডিসি রায়হান কবির গ্রামীণ শিল্পে পরিবেশবান্ধব অর্থায়নে ১০০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল সরকার একদলীয় শাসন কায়েমের পথে হাঁটা শুরু করেছে: এটিএম আজহার ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক আফজাল নাছের আবারও রিমান্ডে টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিদেশি রাইফেল ও ৭০ হাজার ইয়াবা জব্দ

দুই উপজেলা বিলুপ্ত: আয়তন ও সক্ষমতা বাড়ছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের 

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২০:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

মোঃ আমিনুল ইসলাম: কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) প্রশাসনিক কাঠামোতে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। পরিকল্পিত নগরায়ন এবং নাগরিক সুবিধা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দিতে সিটি করপোরেশনের সংলগ্ন দুই উপজেলা বিলুপ্ত করে সেগুলোকে সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে কুসিকের ভৌগোলিক আয়তন যেমন কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে, তেমনি বাড়বে এর প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব।

মূল পরিবর্তনের দিকসমূহ:
সরকারি সূত্র এবং স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা আদর্শ সদর এবং সদর দক্ষিণ উপজেলার একাংশ বা সম্পূর্ণ অংশ সিটি করপোরেশনের সাথে একীভূত করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

এর ফলে: আয়তন বৃদ্ধি: বর্তমানে কুসিকের আয়তন প্রায় ৫৩.৮৪ বর্গকিলোমিটার। দুই উপজেলা একীভূত হলে এই আয়তন কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়ে একটি মেগাসিটির রূপ নেবে।
ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধি: বর্তমানের ২৭টি ওয়ার্ডের পরিবর্তে নতুন এলাকায় আরও কয়েক ডজন নতুন ওয়ার্ড গঠিত হতে পারে।
বাজেট ও বরাদ্দ: সীমানা বাড়ার ফলে সরকারের পক্ষ থেকে উন্নয়ন বরাদ্দ এবং মেগা প্রজেক্ট পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।
কেন এই সিদ্ধান্ত?

প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, কুমিল্লা শহর এখন আর আগের ছোট পরিসরে সীমাবদ্ধ নেই। আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ উপজেলার বেশির ভাগ এলাকা এখন শহরের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু প্রশাসনিক ভিন্নতার কারণে উন্নয়ন কাজে সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়ছিল।

“একই শহরের অর্ধেক সিটি করপোরেশনে আর অর্ধেক উপজেলা প্রশাসনের অধীনে থাকায় মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। এই একীভূতকরণের ফলে পুরো এলাকা একই পরিকল্পনার আওতায় আসবে।”

নাগরিক জীবনে প্রভাব
সীমানা বৃদ্ধির এই খবরে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সুবিধা: নতুন অন্তর্ভুক্ত হতে যাওয়া এলাকার বাসিন্দারা উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, স্ট্রিট লাইট, এবং উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো সিটি সুবিধা পাবেন।

চ্যালেঞ্জ: সিটি করপোরেশনভুক্ত হলে হোল্ডিং ট্যাক্স এবং অন্যান্য সেবার ফি বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা নিয়ে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সীমানা নির্ধারণ, সম্পদ বিভাগ এবং জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে দ্রুতই চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশিত হবে। এর পরেই আনুষ্ঠানিকভাবে দুই উপজেলার প্রশাসনিক বিলুপ্তি এবং সিটি করপোরেশনের নতুন সীমানা কার্যকর হবে।

কুমিল্লাকে একটি আধুনিক ও স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে এই সাহসী পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বর্ধিত এলাকার নাগরিকদের জন্য দ্রুত সেবা নিশ্চিত করাই এখন সিটি কর্তৃপক্ষের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

 

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

দুই উপজেলা বিলুপ্ত: আয়তন ও সক্ষমতা বাড়ছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের 

দুই উপজেলা বিলুপ্ত: আয়তন ও সক্ষমতা বাড়ছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের 

আপডেট সময় : ১০:২০:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

মোঃ আমিনুল ইসলাম: কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) প্রশাসনিক কাঠামোতে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। পরিকল্পিত নগরায়ন এবং নাগরিক সুবিধা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দিতে সিটি করপোরেশনের সংলগ্ন দুই উপজেলা বিলুপ্ত করে সেগুলোকে সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে কুসিকের ভৌগোলিক আয়তন যেমন কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে, তেমনি বাড়বে এর প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব।

মূল পরিবর্তনের দিকসমূহ:
সরকারি সূত্র এবং স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা আদর্শ সদর এবং সদর দক্ষিণ উপজেলার একাংশ বা সম্পূর্ণ অংশ সিটি করপোরেশনের সাথে একীভূত করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

এর ফলে: আয়তন বৃদ্ধি: বর্তমানে কুসিকের আয়তন প্রায় ৫৩.৮৪ বর্গকিলোমিটার। দুই উপজেলা একীভূত হলে এই আয়তন কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়ে একটি মেগাসিটির রূপ নেবে।
ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধি: বর্তমানের ২৭টি ওয়ার্ডের পরিবর্তে নতুন এলাকায় আরও কয়েক ডজন নতুন ওয়ার্ড গঠিত হতে পারে।
বাজেট ও বরাদ্দ: সীমানা বাড়ার ফলে সরকারের পক্ষ থেকে উন্নয়ন বরাদ্দ এবং মেগা প্রজেক্ট পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।
কেন এই সিদ্ধান্ত?

প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, কুমিল্লা শহর এখন আর আগের ছোট পরিসরে সীমাবদ্ধ নেই। আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ উপজেলার বেশির ভাগ এলাকা এখন শহরের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু প্রশাসনিক ভিন্নতার কারণে উন্নয়ন কাজে সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়ছিল।

“একই শহরের অর্ধেক সিটি করপোরেশনে আর অর্ধেক উপজেলা প্রশাসনের অধীনে থাকায় মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। এই একীভূতকরণের ফলে পুরো এলাকা একই পরিকল্পনার আওতায় আসবে।”

নাগরিক জীবনে প্রভাব
সীমানা বৃদ্ধির এই খবরে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সুবিধা: নতুন অন্তর্ভুক্ত হতে যাওয়া এলাকার বাসিন্দারা উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, স্ট্রিট লাইট, এবং উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো সিটি সুবিধা পাবেন।

চ্যালেঞ্জ: সিটি করপোরেশনভুক্ত হলে হোল্ডিং ট্যাক্স এবং অন্যান্য সেবার ফি বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা নিয়ে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সীমানা নির্ধারণ, সম্পদ বিভাগ এবং জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে দ্রুতই চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশিত হবে। এর পরেই আনুষ্ঠানিকভাবে দুই উপজেলার প্রশাসনিক বিলুপ্তি এবং সিটি করপোরেশনের নতুন সীমানা কার্যকর হবে।

কুমিল্লাকে একটি আধুনিক ও স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে এই সাহসী পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বর্ধিত এলাকার নাগরিকদের জন্য দ্রুত সেবা নিশ্চিত করাই এখন সিটি কর্তৃপক্ষের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।