আলোকিত কাগজ প্রতিবেদক: নাসিক ৩ নং ওয়ার্ডের নিমাইকাশারী এলাকাটি এক সময় ছিল অত্যন্ত শান্ত ও নিরাপদ। সাধারণ মানুষের কাছে এটি ছিল একটি বিশ্বস্ত ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে এই শান্ত এলাকাটিতে এখন নেমে এসেছে চুরি, ছিনতাই ও মাদকের কালো মেঘের ছায়া। আর এই ভয়ঙ্কর অপরাধের নেপথ্যে লুকিয়ে আছে কিছু অসাধু চক্র। তারা হলেন শুক্কুর আলী (৫৮), জুয়েল (৩৭), মো. ফাহিম (৩০), সুমাইয়া (২২) ও ইভা (৩০)-সহ আরও বেশ কয়েকজন।
বিগত আওয়ামী সরকারের সময় শুক্কুর আলী নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ.কে.এম. শামীম ওসমান ও নাসিক ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহজালাল বাদলের ছত্রছায়ায় আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। তার ছেলে জুয়েল, মৃত জনি ও মো. ফাহিম তখন থেকেই এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও মাদকের মতো অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত হন। তারা প্রকাশ্যে একের পর এক অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। চুরির টাকার ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে শুক্কুর আলীর ছেলে জনি তার সহপাঠীদের হাতে প্রাণ হারান। মূলত এই পরিবারের হাত ধরেই নিমাইকাশারী এলাকায় মাদকের বিস্তার ঘটেছে। এই সিন্ডিকেটটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অপরাধের রাজত্ব কায়েম করে আসছে। সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের হুমকি-ধমকি এমনকি মারধরের শিকার হতে হয় বলে জানা গেছে।
প্রশাসন বহুবার তাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে জুয়েল ও মৃত জনিকে মাদক মামলায় আদালতে পাঠিয়েছে। অন্যদিকে, প্রশাসন ফাহিমকে মাদকসহ কয়েকবার আটক করলেও ক্ষমতার প্রভাবে সে ছাড়া পেয়ে যায়। জুয়েল ও ফাহিমের রয়েছে একটি বিশাল সিন্ডিকেট; তারা সানারপাড়, বাগমারা ও নিমাইকাশারী এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।
অভিযোগ রয়েছে, শুক্কুর আলীর পরিবার দিনরাত প্রকাশ্যে মাদক (ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজা) বিক্রি করছে। ফলে এলাকার যুব ও কিশোর সমাজ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে এবং সাধারণ মানুষ চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—প্রশাসনের চোখের সামনে কীভাবে এই বিশাল সিন্ডিকেট প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে? কেন বারবার অভিযোগ সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?
সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছে, এখনই কঠোর অভিযান পরিচালনা না করলে নিমাইকাশারী এলাকা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ অপরাধপ্রবণ অঞ্চলে পরিণত হতে পারে। এই সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের সঙ্গে জড়িত সকলকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের নেপথ্যের আশ্রয়দাতা, মদদদাতা ও সহযোগীদের খুঁজে বের করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে তারা র্যাব-১১, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
প্রতিনিধির নাম 


















