ঢাকা ০৩:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টেকনাফে ৭ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১ ভারতে কারাভোগ শেষে বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরলো দুই নারী নারায়ণগঞ্জে সতেরটি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ রামগড়ে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযানে সংঘর্ষ ইউএনও-ওসিসহ আহত ১৫ টেকনাফ হোয়াইক্যং চেকপোস্টে ৩ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১ সিদ্ধিরগঞ্জের নিমাইকাশারি মাদকের ভয়াল থাবায় বিপর্যস্ত আতঙ্কে এলাকাবাসী প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি টেকনাফে যৌথ অভিযান বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট-গোলাবারুদ উদ্ধার শার্শায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৭ পরোয়ানাভুক্ত আসামী গ্রেফতার শাহপরীর দ্বীপে অপহরণ চক্রের মূলহোতা আটক আইনজীবী সমিতির সদস্য রাজীবকে শোকজ

রামগড়ে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযানে সংঘর্ষ ইউএনও-ওসিসহ আহত ১৫

রামগড় খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়ির রামগড়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও আনসার সদস্যরা রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শামীম, রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজির আলমসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার রামগড় ইউনিয়নের পূর্ববলিপাড়া ও দক্ষিণ লামকপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আহতদের মধ্যে ইউএনও’র নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্য এপিসি মো. সালাহ উদ্দিন, নুর মোহাম্মদ-১, নুর মোহাম্মদ-২ ও খোরশেদ আলম রয়েছেন। এছাড়া ইউএনও কার্যালয়ের স্টাফ আব্দুল ওহাব জুয়েল, ইউএনও’র গাড়িচালক কামাল উদ্দিন, উপজেলা পরিষদের স্টাফ হারুন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মচারী জয়নাল আবেদীন, পৌরসভার স্টাফ সিহাব উদ্দিন এবং গ্রামবাসী নুর হোসেন, সুমন ত্রিপুরা, আজাদ ও আবুল হাসান আহত হন। আহত চার গ্রামবাসী রাবার বুলেটে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শামীম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে পূর্ববলিপাড়া ও দক্ষিণ লামকপাড়া এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এসময় প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে কিছু ব্যক্তি অভিযানে বাধা দেয়। পরে প্রায় দেড়শ নারী-পুরুষ ইটপাটকেল ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়।

তিনি বলেন, “অভিযান চলাকালে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করা হয়। এতে আমি নিজেসহ প্রশাসনের অন্তত ১১ জন সদস্য আহত হই। ওই এলাকায় প্রায় ১০টি স্থানে পাম্প মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল।”

রামগড় থানার ওসি মো. নাজির আলম বলেন, “শতাধিক নারী-পুরুষ সংঘবদ্ধ হয়ে প্রশাসনের ওপর হামলা চালালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে এবং আনসার সদস্যরা পাঁচ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।”

তবে গ্রামবাসীর দাবি ভিন্ন। আহত গ্রামবাসী দেলোয়ার, সুমন ও নুর হোসেন অভিযোগ করেন, প্রশাসন কৃষকদের জমিতে সেচকাজে ব্যবহৃত খালের পাড়ে রাখা কয়েকটি পাম্প মেশিন ভাঙচুর করে। এতে স্থানীয়রা বাধা দিলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুলিবর্ষণ করা হয়।

কৃষক ফারুক অভিযোগ করে বলেন, “আমার সেচের কাজে ব্যবহৃত পাম্প মেশিন ভেঙে ফেলা হয়েছে। একইভাবে কিবরিয়া ও বশর নামের আরও দুই কৃষকের পাম্পও ভাঙচুর করা হয়েছে।”

তবে কৃষকদের সেচ পাম্প ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউএনও কাজী শামীম। তিনি বলেন, “অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত সরঞ্জামের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের সেচ পাম্প ভাঙচুরের অভিযোগ সঠিক নয়।”

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

টেকনাফে ৭ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১

রামগড়ে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযানে সংঘর্ষ ইউএনও-ওসিসহ আহত ১৫

আপডেট সময় : ০২:৪৪:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

রামগড় খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়ির রামগড়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও আনসার সদস্যরা রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শামীম, রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজির আলমসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার রামগড় ইউনিয়নের পূর্ববলিপাড়া ও দক্ষিণ লামকপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আহতদের মধ্যে ইউএনও’র নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্য এপিসি মো. সালাহ উদ্দিন, নুর মোহাম্মদ-১, নুর মোহাম্মদ-২ ও খোরশেদ আলম রয়েছেন। এছাড়া ইউএনও কার্যালয়ের স্টাফ আব্দুল ওহাব জুয়েল, ইউএনও’র গাড়িচালক কামাল উদ্দিন, উপজেলা পরিষদের স্টাফ হারুন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মচারী জয়নাল আবেদীন, পৌরসভার স্টাফ সিহাব উদ্দিন এবং গ্রামবাসী নুর হোসেন, সুমন ত্রিপুরা, আজাদ ও আবুল হাসান আহত হন। আহত চার গ্রামবাসী রাবার বুলেটে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শামীম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে পূর্ববলিপাড়া ও দক্ষিণ লামকপাড়া এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এসময় প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে কিছু ব্যক্তি অভিযানে বাধা দেয়। পরে প্রায় দেড়শ নারী-পুরুষ ইটপাটকেল ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়।

তিনি বলেন, “অভিযান চলাকালে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করা হয়। এতে আমি নিজেসহ প্রশাসনের অন্তত ১১ জন সদস্য আহত হই। ওই এলাকায় প্রায় ১০টি স্থানে পাম্প মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল।”

রামগড় থানার ওসি মো. নাজির আলম বলেন, “শতাধিক নারী-পুরুষ সংঘবদ্ধ হয়ে প্রশাসনের ওপর হামলা চালালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে এবং আনসার সদস্যরা পাঁচ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।”

তবে গ্রামবাসীর দাবি ভিন্ন। আহত গ্রামবাসী দেলোয়ার, সুমন ও নুর হোসেন অভিযোগ করেন, প্রশাসন কৃষকদের জমিতে সেচকাজে ব্যবহৃত খালের পাড়ে রাখা কয়েকটি পাম্প মেশিন ভাঙচুর করে। এতে স্থানীয়রা বাধা দিলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুলিবর্ষণ করা হয়।

কৃষক ফারুক অভিযোগ করে বলেন, “আমার সেচের কাজে ব্যবহৃত পাম্প মেশিন ভেঙে ফেলা হয়েছে। একইভাবে কিবরিয়া ও বশর নামের আরও দুই কৃষকের পাম্পও ভাঙচুর করা হয়েছে।”

তবে কৃষকদের সেচ পাম্প ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউএনও কাজী শামীম। তিনি বলেন, “অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত সরঞ্জামের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের সেচ পাম্প ভাঙচুরের অভিযোগ সঠিক নয়।”