ঢাকা ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টেকনাফে ৭ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১ ভারতে কারাভোগ শেষে বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরলো দুই নারী নারায়ণগঞ্জে সতেরটি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ রামগড়ে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযানে সংঘর্ষ ইউএনও-ওসিসহ আহত ১৫ টেকনাফ হোয়াইক্যং চেকপোস্টে ৩ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১ সিদ্ধিরগঞ্জের নিমাইকাশারি মাদকের ভয়াল থাবায় বিপর্যস্ত আতঙ্কে এলাকাবাসী প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি টেকনাফে যৌথ অভিযান বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট-গোলাবারুদ উদ্ধার শার্শায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৭ পরোয়ানাভুক্ত আসামী গ্রেফতার শাহপরীর দ্বীপে অপহরণ চক্রের মূলহোতা আটক আইনজীবী সমিতির সদস্য রাজীবকে শোকজ

ভারতে কারাভোগ শেষে বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরলো দুই নারী

মনির হোসেন, যশোর জেলা প্রতিনিধি : ভারতে পাচার হওয়া দুই বাংলাদেশি নারী বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) সন্ধ্যায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণার হরিদাসপুর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট (আইসিপি) দিয়ে তাদের বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ফেরত আসারা হলেন, বাগেরহাট জেলার শর খোলা উপজেলার খেজুরবাড়িয়া নলবুনিয়া গ্রামের মৃত আলী হোসাইন খানের মেয়ে হ্যাপি খান ওরফে আশা খানম (৪৩) ও একই এলাকার কাঞ্চন হাওলাদারের মেয়ে মারিয়া হাওলাদার ওরফে মারিয়া খান (২৬)।

ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, ভাল কাজের প্রলোভনে দালালের মাধ্যমে পাসপোর্ট ছাড়াই সীমান্তের চোরাপথে ভারতে গিয়ে নয়াদিল্লীতে বাসা বাড়িতে কাজ করতেন। তারা ২০২৩ সালের প্রথম দিকে দালালের মাধ্যমে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত পথে ভারতে পাচার হন। পরে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর দিল্লী পুলিশ তাদের আটক করে আদালতে দিলে আদালত তাদের পাঁচ মাসের সাজা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ জেলার দমদম কারাগারে পাঠায়। সেখানে পাঁচ মাস থাকার পর ভারতের একটি মানবাধিকার সংস্থার আবেদনে তাদের পশ্চিমবঙ্গের একটি হোমে রাখা হয়।

ভারতের ব্যুরো অব ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা যায়, ভারতের কলকাতা উপ হাইকমিশন থেকে ইস্যুকৃত ট্রাভেল পারমিট এবং ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) এক্সিট পারমিটের মাধ্যমে তাদের ফেরত পাঠানো হয়। উভয় দেশের বিজিবি, বিএসএফ, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ হস্তান্তার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সৈয়দ মোর্তজা আলী বলেন, দেশে ফেরত আসা নারীদের ট্রাভেল পারমিটসহ যাবতীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থার জন্য তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে যশোরের ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’ নামের একটি মানবাধিকার সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে।

জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ভলান্টিয়ার শফিকুল ইসলাম বলেন, পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। তারা না আসা পর্যন্ত ফেরত আসা নারীদের সংস্থার হেফাজতেই রাখা হবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

টেকনাফে ৭ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১

ভারতে কারাভোগ শেষে বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরলো দুই নারী

আপডেট সময় : ০২:৪৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

মনির হোসেন, যশোর জেলা প্রতিনিধি : ভারতে পাচার হওয়া দুই বাংলাদেশি নারী বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) সন্ধ্যায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণার হরিদাসপুর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট (আইসিপি) দিয়ে তাদের বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ফেরত আসারা হলেন, বাগেরহাট জেলার শর খোলা উপজেলার খেজুরবাড়িয়া নলবুনিয়া গ্রামের মৃত আলী হোসাইন খানের মেয়ে হ্যাপি খান ওরফে আশা খানম (৪৩) ও একই এলাকার কাঞ্চন হাওলাদারের মেয়ে মারিয়া হাওলাদার ওরফে মারিয়া খান (২৬)।

ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, ভাল কাজের প্রলোভনে দালালের মাধ্যমে পাসপোর্ট ছাড়াই সীমান্তের চোরাপথে ভারতে গিয়ে নয়াদিল্লীতে বাসা বাড়িতে কাজ করতেন। তারা ২০২৩ সালের প্রথম দিকে দালালের মাধ্যমে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত পথে ভারতে পাচার হন। পরে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর দিল্লী পুলিশ তাদের আটক করে আদালতে দিলে আদালত তাদের পাঁচ মাসের সাজা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ জেলার দমদম কারাগারে পাঠায়। সেখানে পাঁচ মাস থাকার পর ভারতের একটি মানবাধিকার সংস্থার আবেদনে তাদের পশ্চিমবঙ্গের একটি হোমে রাখা হয়।

ভারতের ব্যুরো অব ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা যায়, ভারতের কলকাতা উপ হাইকমিশন থেকে ইস্যুকৃত ট্রাভেল পারমিট এবং ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) এক্সিট পারমিটের মাধ্যমে তাদের ফেরত পাঠানো হয়। উভয় দেশের বিজিবি, বিএসএফ, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ হস্তান্তার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সৈয়দ মোর্তজা আলী বলেন, দেশে ফেরত আসা নারীদের ট্রাভেল পারমিটসহ যাবতীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থার জন্য তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে যশোরের ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’ নামের একটি মানবাধিকার সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে।

জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ভলান্টিয়ার শফিকুল ইসলাম বলেন, পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। তারা না আসা পর্যন্ত ফেরত আসা নারীদের সংস্থার হেফাজতেই রাখা হবে।