ঢাকা ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোর জেলার পশুহাটে ৩১টি সিসি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক উখিয়ায় বিজিবির জালে ইয়াবা-পিস্তলসহ আটক ১ পটিয়াবাসী’কে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সদ্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী গাজী আমির হোসেন কক্সবাজারে শুরু হলো তিনদিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা কক্সবাজারে পুলিশ সুপারের কল্যাণ সভা বরুড়ায় ভূমি সেবা মেলা উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সদরে এবার কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই হাটের ইজারা সম্পন্ন, প্রশংসিত ইউএনও ফয়েজ উদ্দিন আনসার-ভিডিপি সদস্যদের হাত ধরে প্রতিটি গ্রাম আর্থসামাজিক উন্নয়নের কেন্দ্রে পরিণত হবে : প্রধানমন্ত্রী অতিরিক্ত অধিকাল ভাতার দাবিতে বেনাপোল স্থল বন্দরে মানববন্ধন, এক মাসের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত নরসিংদীর শিবপুরে ভূমি মেলায় বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুঃ আব্দুর রহিম

নারায়ণগঞ্জ সদরে এবার কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই হাটের ইজারা সম্পন্ন, প্রশংসিত ইউএনও ফয়েজ উদ্দিন

এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ: বিগত বছরগুলোতে কোরবানির পশুর হাটের ইজারা দেওয়াকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে মারামারি ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। কোনো বছর আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি বিনিময়ের ঘটনাও প্রত্যক্ষ করেছেন স্থানীয়রা। তাই এবার নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির সদর উপজেলা প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন— এবার যেন কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে হাটের ইজারা সমাপ্ত হয়। প্রয়োজনে সর্বোচ্চ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে হাটের ইজারা সমাপ্ত করার নির্দেশ দেন তিনি।

তারই নির্দেশনার আলোকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম ফয়েজ উদ্দিন সর্বোচ্চ সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে পুরো সদর উপজেলা নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় এনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে হাটের দরপত্র বিক্রি ও দরপত্র উন্মুক্ত করেন। তাই এবার কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা এবং অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ১৩টি পশুর হাটের দরপত্র উন্মুক্ত করে ইজারাদারদের নাম ঘোষণা করতে পেরেছে সদর উপজেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার ১৯ মে বিকেলে সদর উপজেলা পরিষদে নিজ কার্যালয়ে দরপত্র উন্মুক্ত করে সর্বোচ্চ দরদাতাদের নাম ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন।

দরপত্র উন্মুক্ত করাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। পাশাপাশি বিশৃঙ্খলা এড়াতে পরিষদে প্রবেশের জন্য একটিমাত্র পথ খোলা রেখে বাকিগুলো বন্ধ রাখা হয়।

তবে সারাদিন স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন বিএনপি নেতাকে ইউএনওর কক্ষে কয়েকবার প্রবেশ করতে এবং বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। এছাড়া এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকরাও উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ছিলেন।

এতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও দিনভর কোনো বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি।সর্বোচ্চ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে।

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে ২১ এপ্রিল উপজেলার বক্তাবলী খেয়াঘাটের ইজারাকে কেন্দ্র করে পরিষদ প্রাঙ্গণে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় মারামারি, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশকে লাঠিচার্জও করতে হয়।

গত বছরের ২৫ মে কোরবানির পশুর হাটের দরপত্র কেনার সময় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় কয়েকজন আহতও হন।

তবে এবার হাটের দরপত্রের ফরম কেনা, জমা দেওয়া ও উন্মুক্তের সময় কোনো বিশৃঙ্খলা না হওয়াতে প্রশংসিত হয়েছেন উপজেলা প্রশাসন সহ জেলা প্রশাসন। স্থানীয়দের মতে, ইউএনও ফয়েজ উদ্দিনের কঠোর অবস্থান ও জেলা প্রশাসকের সরাসরি তদারকির কারণেই এবার শান্তিপূর্ণভাবে ইজারা সম্পন্ন হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ইজারা কার্যক্রমকে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু করতে আগে থেকেই একটি যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি জমা পড়া দরপত্র যাচাই শেষে সর্বোচ্চ দরদাতাদের নাম ঘোষণা করে। পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকায় কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়নি।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, “জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনায় ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে পশুর হাটগুলোতে যেন সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় থাকে এবং সরকারি রাজস্ব আদায় নিশ্চিত হয়, সে লক্ষ্যেই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ইজারা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি হাটগুলোতে নিরাপত্তা, যানজট নিরসন ও স্বাস্থ্যবিধির বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “হাট ইজারায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা পেশিশক্তি বরদাশত করা হবে না। সকলের সহযোগিতায় এবার আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ইজারা প্রক্রিয়া শেষ করতে পেরেছি। হাট চলাকালীন সময়েও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত তদারকি করবে।”

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

যশোর জেলার পশুহাটে ৩১টি সিসি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক

নারায়ণগঞ্জ সদরে এবার কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই হাটের ইজারা সম্পন্ন, প্রশংসিত ইউএনও ফয়েজ উদ্দিন

আপডেট সময় : ১০:৫০:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ: বিগত বছরগুলোতে কোরবানির পশুর হাটের ইজারা দেওয়াকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে মারামারি ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। কোনো বছর আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি বিনিময়ের ঘটনাও প্রত্যক্ষ করেছেন স্থানীয়রা। তাই এবার নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির সদর উপজেলা প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন— এবার যেন কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে হাটের ইজারা সমাপ্ত হয়। প্রয়োজনে সর্বোচ্চ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে হাটের ইজারা সমাপ্ত করার নির্দেশ দেন তিনি।

তারই নির্দেশনার আলোকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম ফয়েজ উদ্দিন সর্বোচ্চ সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে পুরো সদর উপজেলা নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় এনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে হাটের দরপত্র বিক্রি ও দরপত্র উন্মুক্ত করেন। তাই এবার কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা এবং অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ১৩টি পশুর হাটের দরপত্র উন্মুক্ত করে ইজারাদারদের নাম ঘোষণা করতে পেরেছে সদর উপজেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার ১৯ মে বিকেলে সদর উপজেলা পরিষদে নিজ কার্যালয়ে দরপত্র উন্মুক্ত করে সর্বোচ্চ দরদাতাদের নাম ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন।

দরপত্র উন্মুক্ত করাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। পাশাপাশি বিশৃঙ্খলা এড়াতে পরিষদে প্রবেশের জন্য একটিমাত্র পথ খোলা রেখে বাকিগুলো বন্ধ রাখা হয়।

তবে সারাদিন স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন বিএনপি নেতাকে ইউএনওর কক্ষে কয়েকবার প্রবেশ করতে এবং বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। এছাড়া এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকরাও উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ছিলেন।

এতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও দিনভর কোনো বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি।সর্বোচ্চ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে।

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে ২১ এপ্রিল উপজেলার বক্তাবলী খেয়াঘাটের ইজারাকে কেন্দ্র করে পরিষদ প্রাঙ্গণে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় মারামারি, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশকে লাঠিচার্জও করতে হয়।

গত বছরের ২৫ মে কোরবানির পশুর হাটের দরপত্র কেনার সময় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় কয়েকজন আহতও হন।

তবে এবার হাটের দরপত্রের ফরম কেনা, জমা দেওয়া ও উন্মুক্তের সময় কোনো বিশৃঙ্খলা না হওয়াতে প্রশংসিত হয়েছেন উপজেলা প্রশাসন সহ জেলা প্রশাসন। স্থানীয়দের মতে, ইউএনও ফয়েজ উদ্দিনের কঠোর অবস্থান ও জেলা প্রশাসকের সরাসরি তদারকির কারণেই এবার শান্তিপূর্ণভাবে ইজারা সম্পন্ন হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ইজারা কার্যক্রমকে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু করতে আগে থেকেই একটি যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি জমা পড়া দরপত্র যাচাই শেষে সর্বোচ্চ দরদাতাদের নাম ঘোষণা করে। পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকায় কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়নি।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, “জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনায় ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে পশুর হাটগুলোতে যেন সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় থাকে এবং সরকারি রাজস্ব আদায় নিশ্চিত হয়, সে লক্ষ্যেই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ইজারা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি হাটগুলোতে নিরাপত্তা, যানজট নিরসন ও স্বাস্থ্যবিধির বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “হাট ইজারায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা পেশিশক্তি বরদাশত করা হবে না। সকলের সহযোগিতায় এবার আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ইজারা প্রক্রিয়া শেষ করতে পেরেছি। হাট চলাকালীন সময়েও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত তদারকি করবে।”