মনির হোসেন, যশোর প্রতিনিধি: যশোর শহরতলী শেখহাটি তমালতলা এলাকার বনবধূ ছামিনা আক্তার ওরফে সাম্মি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী সুজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এ সময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিক্ষোভ করেন। এ সময় আসামিকে ডিম নিক্ষেপ করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি তোলা হয়।।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে যশোর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দেন এলাকার মানুষ। এ সময় এক পুলিশ সদস্যের শরীরেও ডিম ছুটে পড়ে।
আদালত চত্বরে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীরা সাম্মি হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত বিচার আইনের আওতায় মামলাটি নিষ্পত্তির আহ্বান জানান। এ সময় নিহতের বাবা-মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তাদের মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাদের একটিই দাবি ন্যায়বিচার।

হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে পুলিশ পাহারায় সুজনকে আদালতে আনা হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতার একটি অংশ অভিযুক্তকে লক্ষ্য করে ডিম ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, একজন নারীকে যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। তাই অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তানিম হোসেন জানান, হত্যাকাণ্ডের পর সুজন আত্মহত্যার চেষ্টা করে আহত হন। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার ভোরে যশোর শহরের শেখহাটি তমালতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নেশার টাকার বিষয়কে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে সুজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রী সাম্মিকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় আহত সুজনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।
প্রতিনিধির নাম 


















