ঢাকা ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাধবপুরে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদ্বোধন ৩জন মৎস্য খামারিকে সম্মাননা প্রদান মতলব উত্তরে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আহলে সুন্নাতের দাওয়াত ৭ টি ইসলামি সংগঠনের সাথে বৈঠক আজ উদ্বোধন হচ্ছে কুমিল্লা বাণিজ্য মেলা মোহনপুর ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত ও সমৃদ্ধশালী করে‌ গড়ে তুলতে চান চেয়ারম্যান প্রার্থী জিয়াউদ্দিন বেনাপোল স্থলবন্দরে পরিচালকসহ ৭৯টি পদ শূন্য : স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত রামগড়ে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে র‍্যালি, আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক কর্মচারী সংকট, ভেঙে পড়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা নারায়ণগঞ্জে জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় ভেজালবিরোধী অভিযান ও বাজার মনিটরিংয়ের নির্দেশ ডিসির ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে পটিয়ায় এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ যশোরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী ২হাজার ৭৯১জন পেলেন ৮৭ কোটি ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা

‘পেপারলেস পোর্ট’ হওয়ার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল চট্টগ্রাম বন্দর

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৯:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ৮৬ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ও কাগজবিহীন বন্দর পরিচালনার লক্ষ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনা ব্যবস্থা (টিওএস) উন্নত করে পণ্য খালাসের ডেলিভারি সংক্রান্ত সব ধরনের কাগজনির্ভর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ডেলিভারি আদেশের আবেদন থেকে শুরু করে পণ্য বা কনটেইনার বন্দর ত্যাগের চূড়ান্ত অনুমতি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ সম্পূর্ণ অনলাইনে সম্পন্ন হবে।

যদিও চট্টগ্রাম বন্দর ২০১১ সাল থেকে ভেসেল মুভমেন্ট ও বন্দরের ভেতরে কনটেইনার মুভমেন্ট কার্যক্রম টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে পরিচালনা করে আসছে, কিন্তু পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়করণ না থাকায় পরিপূর্ণ ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসির উদ্দিন জানান, আগে শুধু ইলেকট্রনিক ডেলিভারি অর্ডার (ইডিইউ) আবেদন এবং ইডিইউ জেনারেশন এই দুটি ধাপ অনলাইনে সম্পন্ন হতো এবং বাকি সব কার্যক্রম ম্যানুয়ালি করতে হতো। এখন থেকে অনলাইন ডেলিভারি ডকুমেন্টেশন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যে পরিচালিত হবে।

তিনি জানান, আপগ্রেডেড সিস্টেমের মূল বৈশিষ্ট্য হলো সিস্টেমের প্রতিটি ধাপ সম্পূর্ণ পর্যায়ক্রমিক হবে। কোনো গ্রাহক বা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের একটি ধাপ বাদ দিয়ে বা স্কিপ করে পরের ধাপে যাওয়ার সুযোগ নেই। পূর্ববর্তী ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন ও যাচাই হলে তবেই পরবর্তী ধাপটি সিস্টেম দ্বারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আনলক হবে। নিরাপত্তা ও আইনি কমপ্লায়েন্স জোরদার করতে বন্দরের টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমকে এখন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের সাথে রিয়্যাল-টাইমে যুক্ত করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া চলাকালীন যেকোনো মুহূর্তে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যদি কোনো কনটেইনার বা মালামাল ব্লক বা হোল্ড করতে চায়, তবে সেই ডাটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিয়াল-টাইমে পোর্টের টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমে চলে আসবে। ডেটা আসার সাথে সাথেই সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই ফাইলের পরবর্তী সব প্রসেস লক করে দেবে এবং কাস্টমসের চূড়ান্ত ক্লিয়ারেন্স না পাওয়া পর্যন্ত প্রক্রিয়াটি সেখানেই স্টপ থাকবে। সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় এই রূপান্তরের ফলে সামুদ্রিক বাণিজ্য ইকোসিস্টেমে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দর সম্পূর্ণ ‘পেপারলেস পোর্ট’ হওয়ার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল; যার ফলে দাপ্তরিক কাজের প্রচুর কাগজ এবং প্রিন্টিং সংক্রান্ত খরচ সাশ্রয় হবে এবং পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত হবে।

তিনি বলেন, ডেস্কে ডেস্কে সশরীরে যাওয়ার ঝামেলা না থাকায় এখন ডকুমেন্টেশনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হবে, যা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ব্যবসায়ী এবং চট্টগ্রাম বন্দরসহ সংশ্লিষ্ট সবার মূল্যবান সময় বাঁচাবে। প্রতিটি ধাপ ডিজিটাল সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই হওয়ার কারণে সব ধরনের জাল-জালিয়াতি, ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার এবং প্রশাসনিক অনিয়ম পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব হবে।

বন্দরের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসির উদ্দিন বলেন, প্রতিটি স্টেপ অনলাইনে হওয়ার ফলে ব্যবহারকারীরা যেকোনো সময়, যেকোনো স্থান থেকে তাদের নিজস্ব প্যানেলে লগ ইন করে তাদের নথিপত্র বা ফাইলটি কখন কোন পর্যায়ে আছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারবেন। এই ডিজিটাল রূপান্তর চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য একটি যুগান্তকারী সাফল্য, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি আধুনিক, স্বচ্ছ এবং দক্ষ প্রবেশদ্বার হিসেবে এর অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুরে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদ্বোধন ৩জন মৎস্য খামারিকে সম্মাননা প্রদান

‘পেপারলেস পোর্ট’ হওয়ার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল চট্টগ্রাম বন্দর

আপডেট সময় : ১০:৫৯:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ও কাগজবিহীন বন্দর পরিচালনার লক্ষ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনা ব্যবস্থা (টিওএস) উন্নত করে পণ্য খালাসের ডেলিভারি সংক্রান্ত সব ধরনের কাগজনির্ভর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ডেলিভারি আদেশের আবেদন থেকে শুরু করে পণ্য বা কনটেইনার বন্দর ত্যাগের চূড়ান্ত অনুমতি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ সম্পূর্ণ অনলাইনে সম্পন্ন হবে।

যদিও চট্টগ্রাম বন্দর ২০১১ সাল থেকে ভেসেল মুভমেন্ট ও বন্দরের ভেতরে কনটেইনার মুভমেন্ট কার্যক্রম টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে পরিচালনা করে আসছে, কিন্তু পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়করণ না থাকায় পরিপূর্ণ ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসির উদ্দিন জানান, আগে শুধু ইলেকট্রনিক ডেলিভারি অর্ডার (ইডিইউ) আবেদন এবং ইডিইউ জেনারেশন এই দুটি ধাপ অনলাইনে সম্পন্ন হতো এবং বাকি সব কার্যক্রম ম্যানুয়ালি করতে হতো। এখন থেকে অনলাইন ডেলিভারি ডকুমেন্টেশন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যে পরিচালিত হবে।

তিনি জানান, আপগ্রেডেড সিস্টেমের মূল বৈশিষ্ট্য হলো সিস্টেমের প্রতিটি ধাপ সম্পূর্ণ পর্যায়ক্রমিক হবে। কোনো গ্রাহক বা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের একটি ধাপ বাদ দিয়ে বা স্কিপ করে পরের ধাপে যাওয়ার সুযোগ নেই। পূর্ববর্তী ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন ও যাচাই হলে তবেই পরবর্তী ধাপটি সিস্টেম দ্বারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আনলক হবে। নিরাপত্তা ও আইনি কমপ্লায়েন্স জোরদার করতে বন্দরের টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমকে এখন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের সাথে রিয়্যাল-টাইমে যুক্ত করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া চলাকালীন যেকোনো মুহূর্তে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যদি কোনো কনটেইনার বা মালামাল ব্লক বা হোল্ড করতে চায়, তবে সেই ডাটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিয়াল-টাইমে পোর্টের টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমে চলে আসবে। ডেটা আসার সাথে সাথেই সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই ফাইলের পরবর্তী সব প্রসেস লক করে দেবে এবং কাস্টমসের চূড়ান্ত ক্লিয়ারেন্স না পাওয়া পর্যন্ত প্রক্রিয়াটি সেখানেই স্টপ থাকবে। সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় এই রূপান্তরের ফলে সামুদ্রিক বাণিজ্য ইকোসিস্টেমে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দর সম্পূর্ণ ‘পেপারলেস পোর্ট’ হওয়ার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল; যার ফলে দাপ্তরিক কাজের প্রচুর কাগজ এবং প্রিন্টিং সংক্রান্ত খরচ সাশ্রয় হবে এবং পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত হবে।

তিনি বলেন, ডেস্কে ডেস্কে সশরীরে যাওয়ার ঝামেলা না থাকায় এখন ডকুমেন্টেশনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হবে, যা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ব্যবসায়ী এবং চট্টগ্রাম বন্দরসহ সংশ্লিষ্ট সবার মূল্যবান সময় বাঁচাবে। প্রতিটি ধাপ ডিজিটাল সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই হওয়ার কারণে সব ধরনের জাল-জালিয়াতি, ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার এবং প্রশাসনিক অনিয়ম পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব হবে।

বন্দরের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসির উদ্দিন বলেন, প্রতিটি স্টেপ অনলাইনে হওয়ার ফলে ব্যবহারকারীরা যেকোনো সময়, যেকোনো স্থান থেকে তাদের নিজস্ব প্যানেলে লগ ইন করে তাদের নথিপত্র বা ফাইলটি কখন কোন পর্যায়ে আছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারবেন। এই ডিজিটাল রূপান্তর চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য একটি যুগান্তকারী সাফল্য, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি আধুনিক, স্বচ্ছ এবং দক্ষ প্রবেশদ্বার হিসেবে এর অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।